নভেম্বরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মিতালি রাজকে বাদ দিয়ে সেমিফাইনালে খেলতে নেমেছিল ভারত। যার জেরে বহু বিতর্কের পরে দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছিল কোচ রমেশ পওয়ারকে। তাঁর জায়গায় ডব্লিউ ভি রামন নতুন কোচ হয়ে এলেও টি-টোয়েন্টির প্রথম দলে জায়গা হলনা মিতালির।

নভেম্বরের পরে বুধবার ভারতের মেয়েরা প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলল নিউজ়িল্যান্ডে। এবং আবারও মিতালিহীন ভারত হারল। এ বার ২৩ রানে। জেতার মতো পরিস্থিতি থেকে হেরে যাওয়ায় ফের বিতর্কও শুরু হয়েছে। আবার মিতালির বাদ পড়া নিয়ে প্রশ্নের সামনে টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। যদিও তিনি বলেছেন, ‘‘নতুনদের সুযোগ দিতে চাই। দেশের বাইরে আমাদের হাতে বেশি ম্যাচ নেই। বেশির ভাগ ম্যাচ ভারতে। বিদেশে নতুনদের দেখে নেওয়ার এটাই সুযোগ।’’

গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালও হেরে ছিটকে গিয়েছিলেন হরমনপ্রীতরা। যা নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। তখনকার কোচ রমেশ পওয়ারের বিরুদ্ধে সরব হন মিতালি। বিতর্কের জের গড়ায় ভারতীয় বোর্ড পর্যন্ত। যার ফলে দায়িত্ব ছাড়তে হয় পওয়ারকে। তার পরেই নতুন কোচ হয়ে আসেন রামন।

মিতালির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, তিনি মন্থর ব্যাটিং করেন। সে জন্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তাঁকে দুটির বেশি ম্যাচ খেলানো হয়নি। সেই দুই ম্যাচে তিনি করেন ১০৭, তবে স্ট্রাইক রেট ছিল ১০৪। যা দেখে তখনকার কোচ পওয়ার বোর্ডকে লিখিত ভাবে জানিয়েছিলেন, মিতালির জন্য অন্য ব্যাটসম্যানেরা চাপে পড়ে যাচ্ছেন। মিতালি তখন বলেছিলেন, দলে তিনি অসম্মানিত হচ্ছেন। চলতি নিউজ়িল্যান্ড সফরের আগে অবশ্য মিতালি বলেন, হরমনপ্রীতের সঙ্গে তাঁর ব্যবধান এখন অতীত। দেখা যাচ্ছে, ঘটনা পুরোপুরি অতীত হয়নি। এখনও মিতালিকে খেলাতে চাইছেন না হরমনপ্রীত। 

তবে বাদ পড়া নিয়ে মুখ খোলেননি মিতালি। কথা বলেছেন, ২০২১ বিশ্বকাপ নিয়ে। মিতালি মনে করেন, ভারতের লক্ষ্য হওয়া উচিত সরাসরি খেলা। ‘‘আগের বার আমরা যোগ্যতা অর্জন করে বিশ্বকাপে খেলেছি। এ বার আইসিসি-র টেবলে প্রথম চারে থেকে সরাসরি খেলতে চাই,’’ বলেছেন মিতালি।

বুধবার ওয়েলিংটনে ভারতীয়দের মধ্যে সেরা ইনিংস খেললেন স্মৃতি মন্ধানা (৩৪ বলে ৫৮)। মেয়েদের মধ্যে দ্রুততম হাফসেঞ্চুরিও করলেন। ৫০-এ পৌঁছন মাত্র ২৪ বলে। টস জিতে নিউজ়িল্যান্ডকেই ব্যাট করতে পাঠান হরমনপ্রীত। ২০ ওভারে নিউজ়িল্যান্ডকে ১৫৯ রানের বেশি করতেও দেননি বোলারেরা। কিন্তু ভারতের ইনিংস ১৯.১ ওভারে ১৩৬ রানে শেষ হয়ে যায়। স্মৃতির পরে সর্বোচ্চ রান জেমাইমা রদ্রিগেসের, ৩৩ বলে ৩৯। হরমনপ্রীত করেন ১৭। একা লড়েছেন মন্ধানা। তাঁর ইনিংসে ৭টি চার ও ৩টি ছয়। স্মৃতি যখন ব্যাট করছিলেন একটা সময় এক উইকেটে ১০১ ছিল দল। তিনি আউট হওয়ার পরে মাত্র  ৩৫ রানে নয় উইকেট পড়ে যায়। সেই কারণে প্রশ্ন উঠছে মিতালির মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে বসিয়ে ঠিক করছেন কি না হরমন। 

বিপর্যয় নিয়ে হরমনপ্রীতের মন্তব্য, ‘‘বোলাররা যথেষ্ট ভাল বল করেছে। কিন্তু শেষ ১০ ওভার আমরা ভাল ব্যাট করতে পারিনি। এই জায়গাতেই বারবার মার খাচ্ছি।’’ হতাশ স্মৃতির বক্তব্য, ‘‘দলকে জেতাতে হলে আমায় ১৮ থেকে ২০ ওভার ব্যাট করতে হত। এ বার থেকে সেই চেষ্টাই করতে হবে। আমার আর জেমাইমার উইকেট ম্যাচ ঘুরিয়ে দিল।’’