সিরিজ ইতিমধ্যেই জেতা হয়ে গিয়েছে। শনিবার তৃতীয় ওয়ান ডে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্যে পচেস্ট্রুমে নামছেন ঝুলন গোস্বামীরা। দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে যে নজির এর আগে দেখাতে পারেনি ভারতের মেয়েরা।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকা ১১৫ রানে ভারতকে হারিয়ে দিলেও ঘরের মাঠে সেই দাপট দেখানোর সুযোগই দেননি প্রথম দু’ম্যাচে মিতালি রাজরা। দু’ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার মেয়েরা ১৫০ রানও তুলতে পারেননি। ভারতের বোলাররা স্পিন এবং পেস দুটোতেই প্রতিপক্ষের ব্যাটিংকে সমস্যায় ফেলেছে। তা সে প্রথম ম্যাচে ঝুলন হোন বা দ্বিতীয় ম্যাচে পুনম যাদব। ঝুলন আগের দিনই ওয়ান ডে ক্রিকেটে প্রথম ২০০ উইকেট নেওয়ার নজির গড়েছেন। নিশ্চিত ভাবে তিনি সিরিজটা দাপটে শেষ করতে মরিয়া।

ব্যাটিং বিভাগে ভারতের ওপেনারদের মধ্যে স্মৃতি মানধানা দুরন্ত ফর্মে রয়েছেন। দু’ম্যাচে তাঁর রান যথাক্রমে ৮৪ এবং ১৩৫। তা ছাড়া প্রথম ম্যাচে সে ভাবে দাগ কাটতে না পারলেও হরমনপ্রীত কৌর এবং ভেদা কৃষ্ণমূর্তি রানে ফিরেছেন। তাঁদের হাফসেঞ্চুরির সাহায্যে ভারতের মেয়েরা দ্বিতীয় ওয়ান ডে-তে ৩০০ রানের বেশি লক্ষ্য রাখে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিশ্বকাপের আগে প্রধান চিন্তা ছিল ব্যাটিং বিভাগের পারফরম্যান্স নিয়ে। চিন্তাটা আবার ফিরে এসেছে চলতি সিরিজে। ক্যাপ্টেন ডানে ফান নিয়েকার্ক এবং ওপেনার লিজেলি লি ছাড়া কোনও ব্যাটসম্যান এখনও পর্যন্ত সিরিজে ভারতীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। ভারতীয় দলের ক্ষেত্রে আবার সবচেয়ে বড় সুবিধে হল বিশ্বকাপের প্রায় সাত মাস পরে মাঠে নামলেও ম্যাচ প্র্যাকটিসের অভাব নিয়ে দুশ্চিন্তাকে একেবারে উড়িয়ে দিতে পেরেছে ভারতীয় দল। সবচেয়ে বড় কথা ব্যাট করতে নেমে মিডল অর্ডার ব্যর্থ হলেও ভারতীয় বোলাররা সেটা বুঝতেই দিচ্ছেন না তাঁদের পারফরম্যান্সে। শিখা পাণ্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১০ ম্যাচে ২০ উইকেট তুলে ফেলেছেন। গড় ১৪.৬৫। স্পিন বোলাররা ভারতের ‘এক্স ফ্যাক্টর’। তাদের পাশাপাশি স্ট্রাইক বোলারদের সাফল্য ভারতীয় দলকে ইতিহাস গড়ার সামনে নিয়ে এসেছে। বিদেশের মাঠে ভারতের মেয়েদের শেষ হোয়াইটওয়াশ প্রায় এক যুগেরও আগে। ২০০৬ সালে। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে। এ বার দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ড সিরিজের আগে মিতালি রাজরা প্রচুর আত্মবিশ্বাস পাবেন তাতে সন্দেহ নেই।