রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে শেষ বার খেলেছিলেন ২০১০ সালে। তার পরে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ, গুজরাত লায়ন্সের হয়ে খেলে গিয়েছেন। কিন্তু শেষ দু’বছর আইপিএল খেলেননি ডেল স্টেন। ২০১৯ আইপিএলে আরও এক বার ফিরে এলেন আরসিবি-তে। নেথান কুল্টার-নাইলের পরিবর্ত হিসেবে। বুধবার ইডেনে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, কোচ গ্যারি কার্স্টেনের নির্দেশেই ফের আরসিবি যোগ দেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ পেসার।  

আরসিবি অনুশীলন শেষে স্টেন বলেছেন, ‘‘গত সপ্তাহে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছিলাম। গ্যারি ফোন করে জিজ্ঞাসা করে আমি খেলার মধ্যে রয়েছি কি না। আমি জানিয়ে দিই, অবশ্যই খেলার মধ্যে রয়েছি। টাইটান্সের হয়ে ওয়ান ডে খেলেছি। টি-টোয়েন্টিও খেলেছি। কার্স্টেনকে তা জানানোর পরেই আইপিএলের জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ পাই।’’

ইডেনে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে খেলতে পারেন তিনি। ইডেনের পিচ পেস-সহায়ক। সেখানে স্টেনের মতো পেসারকে খেলিয়ে দেখে নিতে পারেন বিরাট কোহালি। স্টেনও আশাবাদী। বলছিলেন, ‘‘সুযোগ পেলে নিজের সেরাটা দেব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মাঝে আইপিএল, সিপিএল, বিগ ব্যাশের মতো প্রতিযোগিতা খেলে তৈরি থাকা যায়। আরসিবি-র হয়ে ফের মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।’’

বিশ্বকাপ দলে থাকার সুযোগ রয়েছে স্টেনের। কিন্তু তাঁর দেশ এখনও বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। এ বার কি জিততে পারবে দক্ষিণ আফ্রিকা? স্টেন বলেন, ‘‘বিশ্বকাপে অনেক দলই কঠিন প্রতিপক্ষ। কিন্তু সব দল নিয়ে আলোচনা হয় না। যেমন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ভাল দল। কিন্তু ওদের নিয়ে বেশি আলোচনা দেখা যায় না। ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে কিন্তু ওরা সিরিজ ড্র করেছে। তেমনই ভাল দল দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ দু’বছরে আমরা খুব একটা বেশি ওয়ান ডে সিরিজ হেরেছি বলে মনে পড়ে না। কিন্তু আমাদের নিয়েও আলোচনা হয় না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশ্বকাপে ভাল ফলের আশা না থাকলে যাওয়া উচিত না। আমাদের প্রস্তুতি চলছে। ফলও ভালই হবে।’’

নাইটদের বিরুদ্ধে শুক্রবার ম্যাচ। চোট সেরে গেলে যেখানে খেলতে পারেন আন্দ্রে রাসেল। তাঁকে কী ভাবে সামলানো যায়? স্টেনের উত্তর, ‘‘রাসেলের বিরুদ্ধে প্রত্যেকটি বল ভেবে করতে হবে। এবং সঠিক বল করতে হবে। যেমন ইয়র্কার দিলে সেটা সঠিক জায়গায় ফেলতে হবে। ঠিক যেমন সুপার ওভারে কেকেআরের বিরুদ্ধে রাবাডা করে দেখিয়েছে। বাউন্সার করলে সেটাও ভয়ঙ্কর বাউন্সার দিতে হবে। কিন্তু তার পরেও রাসেল মারলে সেটা তার কৃতিত্ব। বোলারের কিছু করার থাকে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘রাসেলকে নিয়ে ড্রেসিংরুমে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু ওর বিরুদ্ধে কোনও নিশ্চিত পরিকল্পনা তৈরি হয়নি।’’  

চলতি আইপিএলে বেগুনি টুপি পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তাঁর দেশেরই সতীর্থ কাগিসো রাবাডা। আট ম্যাচে ১৭ উইকেট রয়েছে তরুণ পেসারের। রাবাডার গতিতে স্টেনও মুগ্ধ। বলছিলেন, ‘‘শেষ দু’বছর ধরে এ ভাবেই বল করে চলেছে রাবাডা। ও বিশ্ব ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ। বিস্ময় প্রতিভা। বিশ্বকাপে ছন্দ ধরে রাখতে পারলে আর কোনও চিন্তা নেই।’’