নির্বাসনের পরে আইপিএলে ফিরেই স্টিভ স্মিথ বিরাট কিছু করতে পারবেন বলে মনে করেন না কিংস ইলেভেন পঞ্জাবের অধিনায়ক আর অশ্বিন। বরং তাঁর দাবি, প্রত্যাবর্তনের পরেই সফল হওয়া খুব সহজ হয় না।

আইপিএলে আজ, সোমবার জয়পুরে অশ্বিনের পঞ্জাব মুখোমুখি হচ্ছে রাজস্থান রয়্যালসের। এক বছরের নির্বাসন কাটিয়ে আইপিএলে ফেরা স্মিথ কী করেন,  তা নিয়েই ক্রিকেটপ্রেমীদের বাড়ছে আগ্রহ। দক্ষিণ আফ্রিকায় বল বিকৃতি কাণ্ডে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় গত বারের আইপিএলে তাঁকে খেলার অনুমতিও দেয়নি ভারতীয় বোর্ড।

অশ্বিন বলেছেন, ‘‘আমরা সবাই জানি, স্মিথ খুবই ভাল ক্রিকেটার। মাঝখানের সময়টা নিজেকে তৈরি রাখার জন্য নিশ্চয়ই প্রচুর পরিশ্রমও করেছে।। কিন্তু ফিরে এসেই সফল হওয়া অত সহজ নয়।’’ যোগ করেন, ‘‘স্মিথ হয়তো নিজেকে মানসিক ভাবেও তৈরি করেছে। দারুণ কিছু করতেও চাইবে। কিন্তু আমরাও চেষ্টা করব, এত দিন ওর মাঠের বাইরে থাকার সুবিধাটা নিতে।’’

এই মুহূর্তে অশ্বিনের নিজেরও জাতীয় দলে খানিকটা নড়বড়ে অবস্থা। ভারতের বিশ্বকাপ দলে তাঁর সুযোগ পাওয়ার কোনও সম্ভাবন নেই। আসন পাকা কুলদীপ যাদব এবং যুজবেন্দ্র চহালের। দৌড়ে রয়েছেন রবীন্দ্র জাডেজাও। এই পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপ দলে ডাক পাওয়ার ব্যাপারে কতটা আশাবাদী তিনি? অশ্বিনের জবাব, ‘‘এই প্রশ্নের উত্তর আমার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। একমাত্র নির্বাচকেরাই উত্তরটা দিতে পারবেন। তবে আমি কিন্তু দু’টি বিশ্বকাপে খেলেছি। যদি আমাকে যোগ্য মনে করে সুযোগ দেন ওঁর, তা হলে খুবই খুশিই হব।’’

কয়েক বছর আগে অশ্বিনের বোলিং ভাল করে বুঝতে পারতেন না ব্যাটসম্যানেরা। কিন্তু এখন সেই ছবি আমূল পাল্টে গিয়েছে। বরং কুলদীপ-চহালকে খেলতেই বেশি সমস্যায় পড়েন ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু  এমন একটা পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েও নিজের প্রতি বিশ্বাস হারাচ্ছেন না কিংস ইলেভেন পঞ্জাব দলের অধিনায়ক। তিনি বলেছেন, ‘‘ক্রিকেটে এখন সব কিছুই লোকে বুঝে যাচ্ছেন। প্রচুর বিশ্লেষণ হচ্ছে সব সময়। ক্যামেরাতেই ধরা পড়ে আঙুলের গতিবিধি। আসল ব্যাপার হচ্ছে, সময়ের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া।’’ বিরাট কোহালির উদাহরণ টেনে অশ্বিন আরও বলেছেন, ‘‘ওর দিকে তাকান। শুরুতে বিরাট লেগসাইডে অসম্ভব শক্তিশালী ছিল। কিন্তু নতুন ভাবে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে এখন অফেসাইডে শট নিতেও সমান ভাবে দক্ষ।’’

পঞ্জাব দলের কোচ মাইক হেসন এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়ে যান, তাঁর দলের বড় শক্তি ক্রিস গেলের ব্যাটিং। বললেন, ‘‘শেষ সিরিজে ওর পারফরম্যান্স দেখুন। রীতিমতো ভাল ভাল বোলারের বিরুদ্ধেও দারুণ ব্যাট করেছে। স্পিনারদের শাসন করেছে অনায়াসে। এখনও ক্রিকেটে একটা বড় নাম গেল। মাঠে এবং ড্রেসিংরুমে ক্রিস সত্যিই দলের বড় সম্পদ। তা ছাড়া নতুনদেরও পরিণত হয়ে উঠতে সাহায্য করে।’’