আগামী দেড় মাসে ‘বিশ্বের সেরা’ দলের বিরুদ্ধে দ্বৈরথে পরিষ্কার হয়ে যাবে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট এখন কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে। এমনটাই মনে করছেন সে দেশের অন্যতম সেরা বোলার কাগিসো রাবাডা। 

ভারতের বিরুদ্ধে তিনটি টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি টেস্ট ম্যাচ খেলতে ইতিমধ্যেই এ দেশে এসে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। সোমবার সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে এক সাক্ষাৎকারে রাবাডা বলেন, ‘‘এই সিরিজে দেখে নিতে চাই বিশ্বের সেরা দলের বিরুদ্ধে আমরা কোন জায়গায় আছি। ভারতীয় দলটা বেশ কিছু বছর ধরেই সাফল্য পাচ্ছে। আমাদের দলে কয়েকটা পরিবর্তন হয়েছে। অনেক তরুণ ক্রিকেটার এসেছে। ভারতে আগে যারা খেলেনি, তাদের সামনে এটা বড় চ্যালেঞ্জ।’’ 

টি-টোয়েন্টি সিরিজে উল্টো দিকে যশপ্রীত বুমরা না থাকলেও রাবাডাদের সামলাতে হবে বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে। তিনি বিরাট কোহালি। আনরিখ নর্তজ়ে, জুনিয়র ডালা, বুয়েরন হেনড্রিক্সদের পক্ষে কি কোহালিকে থামানো সম্ভব হবে? রাবাডা খুব আগ্রহের সঙ্গে এই লড়াইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকবেন। তিনি বলেছেন, ‘‘কোহালি প্রমাণ করে দিয়েছে, সাদা বলের ক্রিকেটে ও বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান। ওর বিরুদ্ধে খেলা মানে ক্রিকেটার হিসেবে নিজের দক্ষতার পরীক্ষা দেওয়া।’’ 

কোহালির বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে কী পরামর্শ দেবেন জুনিয়র ক্রিকেটারদের? রাবাডার জবাব, ‘‘কোহালি এক জন যোদ্ধা। আমরা তাই মাঠে নামব খোলা মনে খেলতে। মনে কোনও ভয় রাখলে চলবে না। আমি তো বলব, মজা করো, মাঠে নিজেকে উজাড় করে দাও। আর বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানের বিরুদ্ধে লড়াইটা উপভোগ করো।’’

দক্ষিণ আফ্রিকার এই টি-টোয়েন্টি দলে হাসিম আমলা বা ইমরান তাহির নেই। দু’জনেই অবসর নিয়েছেন। ডেল স্টেন সুযোগ পাননি। ফ্যাফ ডুপ্লেসি নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। রাবাডা অবশ্য কারা নেই, তা নিয়ে না ভেবে নজর দিচ্ছেন ইতিবাচক দিকগুলোয়। তিনি বলছেন, ‘‘এটা এখন পরিবর্তনের সময়। আর এই ব্যাপারটা আমাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই দেখতে হবে। আমি এই ভেবে খুশি যে, বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে যাদের সঙ্গে খেলেছিলাম, তাদের সঙ্গে আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার সুযোগ এসেছে।’’ 

দলে অভিজ্ঞতার অভাব থাকলেও রাবাডা জানাচ্ছেন, ক্রিকেটারেরা বিশ্বাস করেন, ভারতের মতো শক্তিশালী দলকেও হারানো সম্ভব। দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফাস্ট বোলার বলেছেন, ‘‘আমাদের কয়েক জনের অভিষেক হবে এই সিরিজে। কেউ কেউ ভারতের মাটিতে প্রথম খেলবে। জানি, ভারত খুব শক্তিশালী দল। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, সিরিজ জিততে পারব।’’

কোহালি, স্টিভ স্মিথ, কেন উইলিয়ামসনদের নিয়ে যেমন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই চলে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে, তেমনই বুমরা, জোফ্রা আর্চার এবং রাবাডা হয়ে উঠেছেন বিশ্ব ক্রিকেটের পেস আক্রমণের মুখ। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব উপভোগ করেন রাবাডা। তিনি বলেছেন, ‘‘অন্য পেস বোলারকে বল করতে দেখলে আমার ভালই লাগে। এটা খুব স্বাস্থ্যকর  প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এক জন বোলারর হাত থেকে রকেট গতিতে বলটা বেরিয়ে আসছে, এর চেয়ে ভাল দৃশ্য আর কী হতে পারে?’’