• শুভজিৎ মজুমদার
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সব্জি-ফুল বিক্রি করে পেট চলছে মোহনবাগানের জাতীয় লিগ জয়ীর

Uday Konar
অর্থাভাবে: কোলাবায় এ ভাবেই সকালে সব্জি, বিকেলে ফুল নিয়ে বসেন উদয়।

আঠারো বছর আগে মোহনবাগানের জাতীয় লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তাঁর। লকডাউনের মধ্যে সেই উদয় কোনারকে এখন মুম্বইয়ের ফুটপাথে সকালে সব্জি ও  বিকেলে ফুল বিক্রি করে কোনও মতে সংসার চালাতে হচ্ছে।

জোসে রামিরেজ ব্যারেটো, বাসুদেব মণ্ডলদের প্রাক্তন সতীর্থের উত্থান প্রবল দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করেই। উদয়ের বাবা সংবাদপত্র বিক্রি করতেন। ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরে সংসারের হাল কিছুটা ফিরলেও সেই সুখ দীর্ঘ স্থায়ী হয়নি। ধীরে ধীরে উদয় হারিয়ে যান ফুটবলের মূলস্রোত থেকে। নিজের কিছু জমানো অর্থ, বাকিটা অন্যদের থেকে ধার করে মুম্বইয়ের কোলাবা অঞ্চলে ছোটখাটো জামা কাপড়ের দোকান খুলেছিলেন। পাশাপাশি, ছোটদের ফুটবলও শেখাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু করোনা অতিমারির জেরে ফের বিপর্যয় নেমে এসেছে তাঁর জীবনে। বৃহস্পতিবার সকালে সব্জি বিক্রির ফাঁকেই ফোনে মোহনাবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার বলছিলেন, ‘‘মোহনবাগানের হয়ে জাতীয় লিগ জিতেছি। মহারাষ্ট্রের সন্তোষ ট্রফি জয়ী দলেরও সদস্য ছিলাম। এমনকি, জাতীয় শিবিরেও ডাক পেয়েছিলাম। তা সত্ত্বেও চাকরি পাইনি। অনেক কষ্টে কোলাবায় একটা জামা-কাপড়ের দোকান করেছিলাম। কিন্তু লকডাউন ঘোষণা হওয়ার পর সেটাও বন্ধ হয়ে গেল।’’ হতাশ গলায় উদয় বলে চললেন, ‘‘বাড়িতে স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। সংসার চালানোর জন্য এখন সকালে সব্জি নিয়ে ফুটপাথে বসছি। ওই একই জায়গায় দুপুর দু’টো থেকে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত ফুল বিক্রি করছি।’’

আর্থিক সঙ্কটে উদয়ের দুই মেয়ের ভবিষ্যৎও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মোহনবাগানের প্রাক্তন স্ট্রাইকার বলছিলেন, ‘‘আমার বড় মেয়ে ক্লাস টুয়েলভে পড়ে। ছোট মেয়ে এইটে। দু’জনেই খুব মেধাবী। এখন অনলাইনে ক্লাস হচ্ছে ওদের। কিন্তু ট্যাব বা ল্যাপটপ কিনে দেওয়ার মতো আর্থিক ক্ষমতা তো আমাদের নেই। আমার মোবাইল ফোনেই কোনও মতে ক্লাস করছে ওরা।’’

দুর্দিনে উদয়ের প্রধান ভরসা সুব্রত ভট্টাচার্য। ২০০১-’০২ মরসুমে তাঁর অধীনেই মোহনবাগানের হয়ে জাতীয় লিগ জিতেছিলেন। এখনও সমস্যায় পড়লেই সুব্রতর দ্বারস্থ হন তিনি। বলছিলেন, ‘‘বাবলুদা নানা ভাবে আমাকে সাহায্য করেন। তাই সমস্যায় পড়লেই ওঁর শরণাপন্ন হই।’’ যোগ করলেন, ‘‘প্রায় ১৬টি ক্লাবের হয়ে আমি খেলেছি। কোনও ক্লাবেই পুরো অর্থ পাইনি। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন এখনকার মতো যদি কড়া হত, তা হলে হয়তো সব টাকা পেয়ে যেতাম। কোনও সমস্যাই থাকত না আমার জীবনে।’’

 প্রাক্তন ছাত্রের দুরাবস্থার কাহিনি শুনে কাতর সুব্রত বলছিলেন, ‘‘বহু ম্যাচে উদয়ের জন্য আমরা জিতেছি। ও ছিল আমার তুরুপের তাস। প্রচণ্ড পরিশ্রমী ও ল়ড়াকু ফুটবলার ছিল। আমার সঙ্গে ওর যোগাযোগ রয়েছে।’’ কত দিন ধরে সাহায্য করছেন উদয়কে? সুব্রত বললেন, ‘‘কেউ সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়ানোটাই কর্তব্য। এটা নিয়ে প্রচার আমি চাই না।’’ প্রাক্তন সতীর্থেরা আপনার খোঁজ নেন? জীবনের প্রতিটা মুহূর্তে লড়াই চালিয়ে যাওয়া উদয় বললেন, ‘‘ওরা সকলেই এখন প্রচণ্ড ব্যস্ত। তা ছাড়া আমার ফোন নম্বর হয়তো ওদের কাছে নেই।’’

করোনার গ্রাস থেকে মুক্তি পেলেও কি ফের সূর্যোদয় ঘটবে উদয়ের জীবনে? কে জানে! প্রার্থনা ছাড়া আর কী-ই বা সম্বল তাঁর!

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন