এক সময়ে হোসে রামিরেজ ব্যারেটো, বাসুদেব মণ্ডলের সঙ্গে সবুজ-মেরুন জার্সি পরে খেলেছেন মহারাষ্ট্রের উদয় কোনার। ২০০১-০২ মরসুমে জাতীয় লিগ জয়ী মোহনবাগান দলের সদস্যও তিনি।

সেই উদয় কোনারের আর্থিক পরিস্থিতি এখন শোচনীয়। মুম্বইয়ের কোলাবায় একটি ছোট্ট কাগজের স্টল রয়েছে উদয়ের। জমি-মাফিয়াদের দাপটে সেই শেষ সম্বলটুকুও এখন হারিয়ে যেতে বসেছে বাগানের প্রাক্তন ফুটবলারের।

মহারাষ্ট্রের হয়ে সন্তোষ ট্রফি জয়ী ফুটবলার উদয়ের ছোট্ট দোকানটার দিকে এখন নজর পড়েছে জমি-মাফিয়াদের। সেই দোকানটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য উদয়ের উপরে তারা ক্রমাগত চাপ দিতে থাকে। গত দু’ মাস ধরে তাদের চাপে পড়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন প্রাক্তন উইংগার। বিধ্বস্ত কোনার বলেছেন, “আমার দু’ মেয়ে রয়েছে। তাদের বড় করার দায়িত্ব আমার। এই দোকানই আমার একমাত্র সম্বল। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির মদতেই দুর্বৃত্তরা আমার এই জায়গা দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি আমার স্ত্রীকেও অপদস্থ করতে ওরা ছাড়েনি। পুলিশের কাছে নালিশ জানিয়েও লাভ হয়নি।দোকান চলে গেলে আমার চলবে কী করে!’’

মোহনবাগান ছাড়াও এয়ার ইন্ডিয়া, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার পাশাপাশি চার্চিল ব্রাদার্স, সালগাওকার এফসির মতো ক্লাবে খেলা ফুটবলার সাহায্য চেয়েছিলেন অনেকের কাছেই। কিন্তু, তাঁকে সাহায্যের জন্য কেউই এগিয়ে আসেননি।

উদয়ের এই দোকান বহু পুরনো। তাঁর বাবা এই এলাকাতেই খবরের কাগজের দোকানটা আগে চালাতেন। উদয়ের ফুটবলার হয়ে ওঠার পিছনে এই দোকানের বড় ভূমিকা রয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে কোনার এখন দোকানটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। তাঁর একসময়ের সতীর্থ বাসুদেব মণ্ডল সব শুনে বলেন, “আমি গতকালই ব্যাপারটা জানতে পেরেছি। একজন ফুটবলারের এই দুর্দশা খুবই দুঃখজনক। আমার মনে হয় এ ক্ষেত্রে এফপিএ (ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন) এবং মহারাষ্ট্র ফুটবল ফেডারেশনের এগিয়ে আসা উচিত।মোহনবাগানের জাতীয় লিগ জয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল উদয়। কোনও ফুটবলারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ, তা সত্যিই খুব দুর্ভাগ্যজনক। আমি চাই মিডিয়ার মাধ্যমে খবরটা প্রচার হোক।’’

উদয় কোনারের এই অবস্থা শুনে এফপিএ-র তরফে রেনেডি সিংহ বলেন, ‘‘আমি কোনারের সঙ্গে খেলেছি। একজন সতীর্থর এমন অবস্থায় আমি দুঃখিত। এফপিএ-র কর্তাদের বিষয়টা নিয়ে খোজঁ নিতে বলব।’’ এখন সাহায্যের অপেক্ষায় উদয়।

আরও পড়ুন: ঈশানের আত্মবিশ্বাস মুগ্ধ করেছিল, বললেন কোচ প্রদীপ

আরও পড়ুন: চিন ওপেন থেকে ছিটকে গেলেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন সিন্ধু