এক জন বাছাই তালিকায় দশ নম্বরে। অন্য জনকে ঘিরে আবার স্বপ্ন দেখছে তাঁর দেশ।
এক জনের মনের ভাব পরিষ্কার, আমি যোদ্ধা। কোর্টে নামব নিজেকে আবার সেরা প্রমাণ করার লক্ষ্যে।
অন্য জন বলছেন, আমি আবার টেনিসকে উপভোগ করছি। তাই ভাল কিছু আশা করাই যেতে পারে।
প্রথম জন রাফায়েল নাদাল। দ্বিতীয় জন অ্যান্ডি মারে। এ বারের উইম্বলডন জেতার দাবিদার হিসেবে প্রথম দুই নামের মধ্যে এঁরা হয়তো থাকবেন না। কিন্ত টেনিস দুনিয়া জানে, যে কোনও হিসেব বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে এই দুটো নাম।
টেনিস জীবনে এটাই হয়তো তাঁর সবচেয়ে খারাপ মরসুম। কিন্তু যে লোকটার ঝুলিতে ১৪টা গ্র্যান্ড স্লাম আছে, সে কী ভাবে নিজেকে এখনও মোটিভেট করে চলেছে? বিশেষ করে টানা চোট-আঘাতের মধ্যে? নাদালের কাছে ব্যাখ্যাটা খুব সহজ। বলছেন, ‘‘প্রত্যেক দিনই আপনাকে লড়াই করতে হয়। এটিপি সার্কিটে অনেক প্লেয়ারই আছে, যারা চোট আঘাতে ভোগে। পেশাদার টেনিসটা তাই এত কঠিন। কিন্তু একই সঙ্গে সুন্দর। তাই এখানে বার বার ফিরে আসতে ভাল লাগে।’’ উইম্বলডন শুরুর আগে নাদালের মধ্যে যেন দেখা যাচ্ছে সেই পুরনো যোদ্ধার ছায়া।

চোট-আঘাত সামলে ফিরে এসেছেন আর এক জনও। সেই মারে কী ভাবে দেখছেন তাঁর সামনের এই চ্যালেঞ্জকে? ‘‘আমার কেরিয়ারের অনেকটা সময়ই আমাকে চোট সামলে খেলতে হয়েছে। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেই সোজা ছিল না। প্রচণ্ড যন্ত্রণা হত। আমি টেনিসটা সে ভাবে উপভোগ করতে পারছিলাম না। প্র্যাকটিসটা সে ভাবে উপভোগ করতে পারছিলাম না। কোর্টৈ নামতে ঘৃণা বোধ করতাম, এতটা বলব না। কিন্তু এটা বলব, গোটা ব্যাপারটা আমার কাছে যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছিল,’’ বলছেন মারে।

এখন পরিস্থিতিটা কী?

মারে বলছেন, ‘‘এখন ছবিটা বদলে গিয়েছে। আমি প্র্যাকটিস করতে পছন্দ করছি, জিমে যেতে ভাল লাগছে, কঠিন ট্রেনিং করতে ভাল লাগছে। পিঠের চোটের সময় যে ব্যাপারটা একেবারে হারিয়ে গিয়েছিল।’’ কয়েক বছর আগে টেনিস মানেই উঠে আসত ‘বিগ ফোর’-এর নাম। এখন কি জকোভিচ-ফেডেরার-নাদাল-মারেকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলার লোক এসে গিয়েছে? মারে স্বীকার করছে্ন, পরিস্থিতিটা আর আগের মতো নেই। ‘‘হ্যাঁ, মানছি আমাদের আধিপত্য আর আগের মতো নেই। তবে এটা মনে রাখবেন, অনেকেই আমাদের অনেক সময় উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা ফিরে এসেছি।’’

চোট-আঘাত আর অস্ত্রোপচারের দুঃস্বপ্নের মধ্যে দিয়ে ‘বিগ ফোর’-এর অন্য জনকেও যেতে হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে নাদাল বলছিলেন, ‘‘গত কয়েক বছর আমার কাছে দুঃস্বপ্নের মতো ছিল। কব্জির চোটের জন্য ছ’ মাস বাইরে থাকতে হয়েছিল। তার পর অ্যাপেন্ডিসাইটিস। ২০০৫ থেকে ২০১১— এই সময়টা ছোটখাটো চোটে ভুগলেও টেনিস থেকে দূরে সরে থাকতে হয়নি। কিন্তু গত দু’বছরে যেটা হয়েছে।’’

কোচ এমিলি মরেসমোর সঙ্গে অ্যান্ডি মারে।

এ বার উইম্বলডনের জন্য আপনি কতটা তৈরি? নাদালের জবাব, ‘‘ঘাসের কোর্টে প্রতিটা ম্যাচই খুব বিপজ্জনক। প্রত্যেক প্রতিপক্ষ বিপজ্জনক। যদি আপনি ভাল খেলতে থাকেন, ছন্দে থাকেন, তা হলে দারুণ উপভোগ করবেন ব্যাপারটা। যে অভিজ্ঞতা আমার কয়েক বার হয়েছিল। তবে এ বার কাজটা অবশ্যই কঠিন। বাছাইয়ে প্রথম চারে নেই। দশে আছি, কারণ এ বারে ভাল খেলতে পারিনি আর গত বছর চোটের কারণে ছ’মাস বাইরে ছিলাম। তাই যা হওয়ার হবে। শুধু বলতে চাই, লড়াই হবে আর আমি আমার মতো করে সেই লড়াই লড়ব।’’

লড়াই আরও এক জন লড়বেন। যাঁকে নিয়ে স্বপ্ন দেখা আবার শুরু হয়ে গিয়েছে ব্রিটেনের। এও বলা হচ্ছে, ২০১৩ সালেও খুব কঠিন ড্র পেয়েছিলেন মারে। আর এ বারের ড্র-টা তো রীতিমতো দুঃস্বপ্ন। তা হলে কেন দু’বছর আগের সেই রূপকথা ফিরবে না? এ বারে ফাইনালে উঠতে গেলে মারেকে হারাতে হবে জো উইলফ্রেড সঙ্গা, রাফায়েল নাদাল এবং রজার ফেডেরারকে। আর ফাইনালে সম্ভবত সেই জকোভিচকে।

মারে নিজে কী বলছেন? কতটা আশাবাদী ২০১৩ ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে? ‘‘আমাকে এই সুযোগটা কাজে লাগাতেই হবে। জানি, সময় বেশি হাতে নেই। যা করার তাই তাড়াতাড়ি করতে হবে। এটুকু বলতে চাই, উইম্বলডনটা কিন্তু আমার কাছে ঘর-বাড়ির মতো,’’ মারেকে কিন্তু রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী শোনাচ্ছে।