গোলরক্ষক হুগো লরিসের অবিশ্বাস্য দু’টি ‘সেভ’ রিয়াল মাদ্রিদের বিরুদ্ধে মূল্যবান এক পয়েন্ট এনে দিল টটেনহ্যাম হটস্পার-কে। রিয়ালের ঘরের মাঠ বের্নাবাউতে  ১-১ স্কোরলাইন টটেনহ্যাম ভক্তদের কাছে জয়েরই সমান।  

ম্যাচের আগে যাবতীয় আকর্ষণের কেন্দ্রে ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সঙ্গে হ্যারি কেনের দ্বৈরথ। আদতে মঙ্গলবার রাতের ম্যাচটি কিন্তু হয়ে দাঁড়িয়েছিল দু’দলের দুই গোলরক্ষকের লড়াই। রিয়ালের কেলর নাভাস এবং টটেনহ্যামের উগো লরিস। প্রথম জন কোস্টা রিকার। ব্রাজিলে গত বিশ্বকাপে দারুণ খেলেছিলেন। আর লরিস এই মুহূর্তে ফ্রান্সের জাতীয় দলের এক নম্বর গোলরক্ষকও অধিনায়ক। প্রিমিয়ার লিগে তাঁকে দাভিদ দ্য হিয়ার চেয়েও এগিয়ে রাখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। রোনাল্ডো বনাম কেনের দ্বৈরথও ম্যাচের স্কোরের মতো ১-১ শেষ হতে পারত। পেনাল্টি থেকে রিয়ালের একমাত্র গোলটি করেন রোনাল্ডো। ৭০ মিনিট নাগাদ জবাব দেওয়ার কাছাকাছি চলে এসেছিলেন কেন। কিন্তু নাভাসের মরিয়া চেষ্টায় রক্ষা পায় রিয়াল। রাফায়েল ভারানের আত্মঘাতী গোলে ১-১ হয়। যদিও কেন-কে নিয়ে আগ্রহ বেড়েই গেল মঙ্গলবারের পর। রিয়ালের আর এক তারকা গ্যারেথ বেলের মতোই ইপিএল ছেড়ে মাদ্রিদে আসতে পারেন কেন। তার আগে বের্নাবাউতে ইপিএলের এই মুহূর্তে  অন্যতম সেরা তারকার ঝলক ভাল মতোই দেখে নিল রিয়াল ভক্তরা।

মরিয়া: ড্র ম্যাচের দুই নায়ক। টটেনহ্যামের উগো লরিস ও  কেলর নাভাস। ছবি: এএফপি, গেটি ইমেজেস

তবে হ্যারি কেন নয়, বের্নাবাউ এবং ফুটবল দুনিয়া মুখর টটেনহ্যামের গোলরক্ষক লরিসকে নিয়ে। ‘‘উগো  দুরন্ত খেলেছে। ওকে বড় কোনও পুরস্কার দেওয়া উচিত,’’ ম্যাচের পরে বলেছেন স্পার্স কোচ মরিসিও পচেত্তিনো। এখানেই না থেমে যোগ করছেন, ‘‘আজ আমরা দেখে নিলাম, কেন উগোকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক বলা হচ্ছে।’’ বিশেষ করে লরিসের একটি ‘সেভ’-এর ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। একেবারে গোলের সামনে বেঞ্জেমার হেড অবাধারিত গোলে ঢুকছিল। কিন্তু অবিশ্বাস্য রিফ্লেক্স এবং ক্ষিপ্রতায় লরিস পা ছুড়ে দিয়ে বলটিকে বার করে দেন। এর পর রোনাল্ডোর একটি শটও অবধারিত গোল হওয়ার থেকে বাঁচান লরিস। এক বার ইস্কোর শট বাঁচালেন। রোনাল্ডো বা ইস্কো-রাও অবাক হয়ে যাচ্ছিলেন ফ্রান্সের অধিনায়কের পারফরম্যান্স দেখে।

আরও পড়ুন: আতঙ্কের কিছু নেই, মত জিজুর

‘‘এই স্তরের ফুটবলে ভাল খেলে ড্র আদায় করে নিতে পারাটা খুবই সন্তোষজনক ফল,’’ বলেছেন ম্যাচের নায়ক লরিস। সঙ্গে যোগ করছেন, ‘‘ওরা আমাদের উপর খুবই চাপ তৈরি করেছিল। সেই চাপের মুখে আমরা ভেঙে পড়তে পারতাম। কিন্তু হাফটাইম পর্যন্ত ১-১ রাখতে পারাটাই আমাদের বিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছিল।’’ লরিস যেমন জিততে দিলেন না রিয়ালকে, তেমনই কেলর নাভাস হারতে দিলেন না রিয়ালকে। অন্তত দু’টি অবধারিত গোল বাঁচিয়ে দিলেন। একটি হ্যারি কেনের শট, অন্যটি এরিকসনের। রিয়ালের ঘরের মাঠে গিয়ে রিয়ালের সঙ্গে ড্র করা। টটেনহ্যাম কোচ পচেত্তিনো উচ্ছ্বসিত। বলছেন, ‘‘আমাদের দলের প্রত্যেকে দারুণ খেলেছে। গোটা দলকেই অভিনন্দন।’’ ১ নভেম্বর ওয়েম্বলিতে ফিরতি ম্যাচ। তার আগে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডও ১-১ ড্র করায় গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় হওয়ার সুযোগ খোলা থাকছে টটেনহ্যামের সামনে।