এতিহাদ স্টেডিয়ামে অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে উঠল টটেনহ্যাম হটস্পার। বুধবার রাতে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কাছে ৩-৪ হারলেও অ্যাওয়ে গোলের সৌজন্যে শেষ চারের টিকিট পেয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে টটেনহ্যামই ১-০ জেতে। মাউরিসিয়ো পোচেতিনোর ক্লাবকে সেমিফাইনালে খেলতে হবে আয়াখ্‌সের  সঙ্গে।

ম্যান সিটির সঙ্গে স্পার্সের লড়াই সম্ভবত ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে অতীতের অনেক নাটক ম্লান করে দিয়েছে। শুরু থেকেই ছিল গোলের প্রতিযোগিতা। প্রথম চারটি গোল হয় শুরুর ১১ মিনিটে। যদি সংযুক্ত সময়ে রাহিম স্টার্লিংয়ের গোল বৈধ হত তা হলে সেমিফাইনাল খেলত ম্যান সিটিই। কিন্তু ভিডিয়ো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে রেফারি আগেই অফসাইড হয়েছে ঘোষণা করে গোল বাতিল করে দেন। ঘটনার পরে ম্যান সিটি ম্যানেজার পেপ গুয়ার্দিওলা টাচলাইনে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। তবে রেফারির সিদ্ধান্ত বিতর্কিত নয়। গোলের মুভ যখন হচ্ছে তখন সের্খিয়ো আগুয়েরো পরিষ্কার অফসাইডে ছিলেন।

বুধবার টটেনহ্যামের থেকে তুলনায় ভাল খেলা ম্যান সিটির পক্ষে স্টার্লিংয়ের গোল বাতিলটা মেনে নেওয়া কঠিন ছিল। গুয়ার্দিওলা বলেন, ‘‘ব্যাপারটা নিষ্ঠুরতম। কিন্তু মেনে নেওয়া ছাড়া উপায়ও নেই।’’ বলা হচ্ছিল, ম্যান সিটি যে ভাবে খেলছে তাতে তারা এ বার চারটি ট্রফি জিততে পারে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে রকম কিছু হল না। গত বারের মতো এ বারও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে বিদায় নিল ম্যান সিটি। গত বার তারা কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছিল প্রিমিয়ার লিগের অন্য ক্লাব লিভারপুলের কাছে।

টটেনহ্যামে হ্যারি কেন না থাকায় এতিহাদে ম্যান সিটিকে এগিয়ে রেখেছিলেন ফুটবল পণ্ডিতেরা।  কিন্তু হল ঠিক উল্টো। স্পার্সের আর্জেন্টাইন ম্যানেজার এই সাফল্যে আপ্লুত। বলেন, ‘‘আমার ফুটবলাররা প্রকৃত নায়ক। ওরা ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।’’ প্রসঙ্গত চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শুরুর হওয়ার পরে এই প্রথম টটেনহ্যাম সেমিফাইনালে উঠল।

ম্যাচে ৪ মিনিটেই স্টার্লিংয়ের গোল দিয়ে নাটকের শুরু। বাঁ প্রান্তে বল বাড়িয়েছিলেন কেভিন দ্য ব্রুইন। কাট করে ভিতরে ঢুকে ডান পায়ে বাঁক খাওয়ানো শটে স্টার্লিং  হার মানান হুগো লরিসকে। তিন মিনিট পরেই গোল শোধ করে স্পার্স। ম্যান সিটির ফরাসি ডিফেন্ডার এমরিক ল্যাপর্তের ক্লিয়ার করা বল সোজা চলে যায় ফাঁকায় দাড়ানো টটেনহ্যাম স্ট্রাইকার সন হিউং মিনের কাছে। যা থেকে নীচু শটে গোল করেন কোরীয় স্ট্রাইকার। টটেনহ্যামের দ্বিতীয় গোলও ল্যাপর্তের ভুলে। এ বার তিনি ভুল করে বল তুলে দেন টটেনহ্যামের ব্রাজিলীয় তারকা লুকাস মউরাকে। যিনি পাস দেন হিউংকেই। এবং এ বার অসাধারণ শটে ২-১ করেন দু’দলের প্রথম লেগের ম্যাচে নায়ক। 

এ বার জবাব দেওয়ার পালা ছিল ম্যান সিটির। যে কাজটা দারুণ ভাবে করেন বার্নার্দো সিলভা। আগুয়েরোর পাস ধরে সিলভার বাঁ পায়ের শট টটেনহ্যামের ড্যানি রোজের গায়ে লেগে গতি পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়। ২-২ অবস্থায় আবার ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন স্টার্লিং। ২১ মিনিটে আবার গোল করেন। এ বারও সেন্টার করেন ব্রুইন। সেখান থেকে ৪-২ করেন আগুয়েরো। ৫৯ মিনিটে দুরন্ত শটে হুগো লরিসকে বোকা বানিয়ে। এই জায়গায় এসে মনে হচ্ছিল চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে খেলবে গুয়ার্দিওলার ম্যান সিটিই। 

কিন্তু তাদের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দেন  স্পার্সের পরিবর্ত ফুটবলার ফার্নান্দো লোরেন্তে। ৭৩ মিনিটে কিয়েরেন ট্রিপিয়ার কর্নার থেকে গোল করে। এই গোল নিয়েও বিতর্ক ছিল। এক্ষেত্রেও রেফারি ভিডিয়ো প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নেন। যা নিয়ে গুয়ার্দিওলা ম্যাচ শেষের সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্নও তোলেন।

ম্যাচ শেষে পোচেতিনো বলেন, ‘‘স্বীকার করছি ম্যান সিটি দারুণ খেলেছে। ওদেরও প্রশংসা প্রাপ্য। তবে আমি খুশি আমার ছেলেরা যে ভাবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করেছে তা দেখে।’’ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আশাভঙ্গ হওয়ার পরে ম্যান সিটিকে শনিবার প্রিমিয়ার লিগে আবার খেলতে হবে টটেনহ্যামের সঙ্গে। কিন্তু সেই ম্যাচে কী বুধবার রাতে হওয়া নাটকের পুনরাবৃত্তি দেখা যাবে? সেটাই এখন সব চেয়ে আলোচিত প্রসঙ্গ।