ইউ এস ওপেনে চেয়ার আম্পায়ারকে চোর, প্রতারক বলে বিতর্কে জড়ালেন সেরেনা উইলিয়ামস। খেলার মধ্যেই কোচিং নেওয়া, চেয়ার আম্পায়ারকে গালি দেওয়া এবং র‌্যাকেট ছোড়ার (র‌্যাকেট অ্যাবিউস) মতো একাধিক অভিযোগে জর্জরিত মার্কিন টেনিস তারকা। বিতর্কে জড়িয়ে পয়েন্ট খোয়ানো এবং শেষ পর্যন্ত স্ট্রেট সেটে নবাগতা ওসাকার কাছে হার। সব মিলিয়ে বিতর্কের মধ্যেই শেষ হল মেয়েদের যুক্তরাষ্ট্র ওপেন। কেরিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন জাপানের নাওমি ওসাকা। ম্যাচের ফল ৬-২, ৬-৪। প্রথম বার কোনও জাপানি হিসেবে ইউএস ওপেন জিতে ইতিহাসে ঢুকে পড়লেন তিনি। একই সঙ্গে মা হওয়ার পর গ্র্যান্ড স্লাম জয়ের স্বপ্ন ফের অধরাই থেকে গেল সেরেনার।

কিন্তু হেরেও প্রচারের আলো সেরেনার দিকেই। কারণ একাধিক বিতর্ক। প্রথম অভিযোগ, ম্যাচ চলাকালীন কোচিং নেওয়া। প্রথম সেট ৬-২-এ জেতেন ওসাকা। দ্বিতীয় সেটের দ্বিতীয় গেমে সেরেনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তাঁর কোচ প্যাট্রিক মৌরাতগ্লু তাঁকে ইশারায় পরামর্শ দিয়েছেন। চেয়ার আম্পায়ার কার্লোস র‌্যামোস তাঁকে ডেকে সতর্ক করেন। কিন্তু সেরেনা তার তীব্র প্রতিবাদ করেন। চেয়ার আম্পায়ারের কাছে গিয়ে বলেন, ‘‘জেতার জন্য আমি কখনও প্রতারণার আশ্রয় নিই না। তার চেয়ে হেরে যাওয়াই আমার কাছে শ্রেয়।’’

কিছুক্ষণ পর ফের খেলা শুরু হয়। সেরেনা তখন ২-১ এ এগিয়ে। সেই সময়ে ফের চেয়ার আম্পায়ারের কাছে গিয়ে মসৃণ ভাবে খেলা পরিচালনার কথা বলেন তিনি। আরও এগিয়ে সেরেনার পক্ষে ফল দাঁড়ায় ৩-১। কিন্তু কিছু ক্ষণ পরেই সেরেনার পর পর দু’টি ডাবল ফল্ট এবং ব্যাক হ্যান্ডের একটি শট নেটে আটকে যাওয়ায় ম্যাচে ফেরেন ওসাকা। এবং মেজাজ হারান সেরেনা। নিজের র‌্যাকেট মাঠে ছুড়ে দেন। ভেঙে যায় র‌্যাকেটটি। তার জেরে পয়েন্ট পেনাল্টি হয় তাঁর। ফলে পরের গেমে চাপে পড়ে যান ২৩ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক।

চেয়ার আম্পায়ারের সঙ্গে দ্বিতীয়বার তর্কাতর্কি সেরেনার। ছবি: এপি

আরও পড়ুন: ফের চোট নাদালের, ফাইনালে জোকার

ওসাকা ৪-৩ লিড নিয়ে নেওয়ার পর ফের চেয়ার আম্পায়ার র‌্যামোসের সঙ্গে ফের সেরেনা বাদানুবাদ জুড়ে দেন। র‌্যামোসকে উদ্দেশ্য করে বারবার বলতে থাকেন, ‘‘আমি প্রতারক নই। আপনি মিথ্যা কথা বলেছেন। আপনি চোর, প্রতারক। আপনাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ভবিষ্যতে আমি যে ম্যাচে খেলব, আপনি আর আম্পায়ার থাকবেন না।’’

আরও পড়ুন: বিরাট বিদায়ে ওভালেও সেই হারের আতঙ্ক

এই সময় সেরেনাকে কোর্টের মধ্যেই কাঁদতেও দেখা যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে যায় যে, দুই ম্যাচ রেফারিকেও কোর্টে নেমে আসতে হয়। দু’পক্ষের বক্তব্য শোনেন দুই রেফারি। কিন্তু এই তর্কাতর্কির জন্য ফের ‘ভার্বাল অ্যাবিউস’-এ পয়েন্ট কাটা যায় সেরেনার।

র‌্যাকেট ছুড়ে ভেঙে দিয়েছেন সেরেনা। ছবি: এপি 

তার জেরে ওসাকার পক্ষে ফল দাঁড়ায় ৫-৩। শেষ পর্যন্ত ৬-৪ পয়েন্টে দ্বিতীয় সেট জিতে নেন ওসাকা। স্ট্রেট সেটে ম্যাচ জিতে ইউএস ওপেন খেতাব পকেটে পুরে নেন ২০ বছরের জাপানি তারকা।

সেরেনার কোচ প্যাট্রিক মৌরাতগ্লু পরে ইএসপিএন-এ একটি সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেন, তিনি ম্যাচ চলাকালীনই সেরেনাকে হাতের ইশারায় পরামর্শ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সেরেনা সেটা খেয়াল করেননি।

 

ইউএস ওপেন উইমেন্স সিঙ্গলস চ্যাম্পিয়নের ট্রফি হাতে নাওমি ওসাকা (ডান দিকে) এবং রানার্স ট্রফি হাতে সেরেনা। ছবি: এপি

আরও পড়ুন: মঞ্চে গান গাইলেন, কাঁদলেনও স্বপ্না

এই ঘটনায় টেনিসপ্রেমীদের অনেকেরই মনে পড়ে গিয়েছে ২০০৯ সালে ইউএস ওপেন ফাইনালের কথা। কিম ক্লিস্টার্সের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচেও সেরেনার বিরুদ্ধে লাইন জাজকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ এবং চেয়ার আম্পায়ারকে কটূ কথা বলার অভিযোগ ওঠে। ওই ম্যাচেও হেরে যান মার্কিন তারকা।