বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল ছিটকে গেলেও অবসর নেওয়া নিয়ে কোনও ইঙ্গিত দিলেন না ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রোনাল্ডোর বয়স হবে ৩৭। সি আর সেভেন কি পরের বিশ্বকাপেও খেলার কথা ভাবছেন? পর্তুগাল মহাতারকা বলেছেন, ‘‘আমার অবসর, আমাদের কোচ বা দলের অন্য কোনও ফুটবলারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার এটা সঠিক সময় নয়। আমি নিশ্চিত, এই দলটার এখনও বিশ্বসেরা হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আমাদের দল এমন ফুটবলারদের নিয়ে তৈরি, যারা সবাই একটা লক্ষ্য সামনে রেখে এগোয়। পর্তুগাল আরও জিতবে। দেশবাসীকে গর্বিত করে যাবে।’’

শনিবারের ম্যাচে হার নিয়ে রোনাল্ডো বলেছেন, ‘‘আমরা উরুগুয়ের চেয়ে ভাল খেলেছি। কিন্তু যে দল বেশি গোল করে, তারাই জেতে। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। আমরা দারুণ লড়াই করেছি। তবে উরুগুয়েকেও অভিনন্দন জানাতে হবে।’’ রোনাল্ডো আরও বলেছেন, ‘‘সব মিলিয়ে আমরা মাথা উচুঁ করেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছি। পর্তুগাল দলের প্রতিনিধিত্ব করে আমি গর্বিত। সতীর্থদের নিয়ে আমি গর্বিত।  উপভোগ করেছি এই বিশ্বকাপ। আয়োজনের দিক থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপ খুব ইতিবাচক।’’

অবশ্য, শনিবারের ম্যাচ হারলেও মন জিতে নিয়েছেন রোনাল্ডো। উরুগুয়ে ম্যাচে রোনাল্ডোর সৌজন্যবোধ সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই ফেলে দিয়েছে। উরুগুয়ের জয়ের নায়ক এদিনসন কাভানি জোড়া গোল করে পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে দিলেও এক সময় তিনি চোট পেয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে মাঠ ছাড়েন শনিবার। সে সময় তাঁর কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন রোনাল্ডো। তিনি দ্রুত এসে কাভানিকে মাঠ থেকে বের হতে সাহায্য করেন। কাভানি ম্যাচের পরে রোনাল্ডোর প্রশংসা করে বলেন, ‘‘আমরা বিশ্বের সেরা ফুটবলারের বিরুদ্ধে খেলেছি ম্যাচটায়। আমার কাছে রোনাল্ডো চিরকালই আদর্শ হয়ে থাকবে।’’ পর্তুগালের অধিনায়কের এই খেলোয়াড়ী মানসিকতা দেখে প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দেয় সোশ্যাল মিডিয়াও। কেউ কেউ লেখেন, ‘‘মাঠে প্রতিপক্ষ হলেই যে পরস্পর শত্রু হতে হবে, এমন কোনও কথা নেই। তার সেরা উদাহরণ দেখিয়ে দিলেন রোনাল্ডো।’’