নকআউট পর্বে এসে সব দলের কাছে পেনাল্টি শুটআউট আলাদা মাথাব্যথার কারণ। তবে ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে সেটা একটু বেশিই। তার কারণও আছে। এই বিশ্বকাপের আগে ২২ বছর ইংল্যান্ড টাইব্রেকারে যাওয়া কোনও ম্যাচ জিততে পারেনি।

এ বার যাতে টাইব্রেকারে গিয়ে ছিটকে যেতে না হয় তার জন্য নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটের দল। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডন পিকফোর্ডকে দেখা যায় একটা তোয়ালে মোড়া জলের বোতল হাতে। ম্যাচের পরে টুইটারে নানা ভিডিয়োয় স্পষ্ট হয় বোতলের উপর দিকে মার্কার পেন দিয়ে কিছু লেখা আছে। ইংল্যান্ড শিবির থেকে এ ব্যাপারে কিছু বলা না হলেও সংবাদ-মাধ্যমের অনুমান, কলম্বিয়ার হয়ে টাইব্রেকার যাঁরা মারবেন তাঁরা কে কোথায় শট মারতে ভালবাসেন সেটা লিখে দেওয়া হচ্ছিল পিকফোর্ডকে। সেই অনুযায়ী ঝাঁপিয়ে সাফল্যও পেয়েছেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক বলে দাবি। তোয়ালে দিয়ে মুড়ে রাখার কারণ কলম্বিয়ার গোলরক্ষক ডেভিড অসপিনা যাতে ব্যাপারটা বুঝে গিয়ে তাঁর দলের ফুটবলারদের সতর্ক না করে দেন।

সামারায় শনিবার ইংল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে সুইডেনের। যে ম্যাচ নিয়ে স্বেন গোরান এরিকসন অনেক আগেই বলেছিলেন যে খুব কঠিন লড়াই হবে। ইতিহাস বলছে, সুইডেনের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের ফল হালফিলে খুবই খারাপ। ব্রায়ান রবসনের ধারণা এই ম্যাচটাও টাইব্রেকারে যেতে পারে। আর তা শুনে ড. পিপে গ্রানজে দাবি করেছেন, সুইডেনে ম্যাচের জন্যও তাঁরা তৈরি আছেন।

আরও পড়ুন: চার ম্যাচে ১৪ মিনিট গড়াগড়ি খেয়েছেন নেমার, জানেন?

পিপে হলেন ইংল্যান্ড দলের মহিলা মনোবিদ। জাতীয় শিবির চলার সময় তিনি নিয়মিত ইংরেজ ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বলছেন। এই আলোচনার ভিত্তিতে তিনি সিদ্ধান্তে এসেছেন, মানসিক শক্তি কার বেশি। টাইব্রেকারে কারা শট মারবেন ঠিক করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশ্লেষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একা পিপে নন। স্কটল্যান্ডের অ্যালান রাসেলকে বলা হয় পেনাল্টি মারার বিষয়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষক। সাউথগেটের দলের সদস্য রাসেল নিজে অবশ্য দাবি করেন, তিনি বিশ্বেসরা সেরা ‘স্ট্রাইকার কোচ’। যাই হোক, শিবিরে হ্যারি কেনরা পেনাল্টি মারার প্রশিক্ষণটা নিচ্ছেন রাসেলের কাছে। তাঁর অনেক নির্দেশের একটা হল, অনুশীলনে ঠিক যে অবস্থায় বলটা রেখে শট মারা হচ্ছে সে অবস্থাতে রেখেই ম্যাচেও মারতে হবে।

ফুটবলারদের জানানো হয়েছে বেন লিটলটনের লেখা ‘টুয়েলভ ইয়ার্ডস’ বইটিতে কী লেখা হয়েছে তাও। বলা হয়, পেনাল্টি মারার শিক্ষা নিতে হলে এই বইটা কার্যত ফুটবলের বাইবেলের মতো। লিটলটন মনে করেন, অতীতে ইংরেজ ফুটবলাররা বার বার পেনাল্টি মারায় ব্যর্থ হয়েছেন শট নিতে যাওয়ায় অহেতুক তাড়াহুড়ো করার জন্য। এই বিশেষজ্ঞের পরামর্শও মাথায় রাখছেন ইংরেজ ফুটবলার। যাঁর পরামর্শের মূল কথা হল, মাথা ঠান্ডা রাখতে হবে। শট নিতে যেতে হবে ধীরে-সুস্থে। কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে ঠিক সেটাই করেছে ইংল্যান্ড।

ইংল্যান্ড দলের গোলরক্ষকদের কোচ মার্টিন মার্গেটসন। প্রতিদিন অনুশীলনে তিনি গোলরক্ষকদের নিয়ে আলাদা ভাবে কাজ করেন। পেনাল্টির অনুশীলনের বাইরে সেখানে একেবারে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পাঁচ জন করে দু’টি দলে ভাগ করে টাইব্রেকার মারানো হচ্ছে ফুটবলারদের দিয়ে। মার্গেটসন মনে করেন, তাঁদের এ ব্যাপারে প্রস্তুতি এতটাই নিখুঁত যে সুইডেন ম্যাচও টাইব্রেকারে গেলে কোনও সমস্যা হবে না। এমনিতে ইংল্যান্ডের ফুটবলাররা এই মুহূর্তে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই আছেন। বৃহস্পতিবারই সাউথগেট ফুটবলারদের নিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অনুশীলন করিয়েছেন। সঙ্গে ফুটবলারদের দেখা গিয়েছে জিম, সাঁতার, আইস বাথ আর ক্রোয়াথেরাপিতেও ব্যস্ত থাকতে।