Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৫ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

খাদ্যাভ্যাস বদলে আরও তীক্ষ্ণ ডিকা-জাস্টিনেরা

রিয়াল মাদ্রিদের ‘বি’ দলের প্রাক্তন কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসের সঙ্গেই ইস্টবেঙ্গলে এসেছেন কার্লোস। তিনি যে শুধু মাঠে নেমে ফিটনেস ট্রেনিং করান

শুভজিৎ মজুমদার
২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ ০৪:৪৩
প্রস্তুতি: অনুশীলনে নেমে পড়লেন টোনি (ডান দিকে)। সোমবার সকালে কোলাদোর সঙ্গে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

প্রস্তুতি: অনুশীলনে নেমে পড়লেন টোনি (ডান দিকে)। সোমবার সকালে কোলাদোর সঙ্গে। ছবি: সুদীপ্ত ভৌমিক

গোয়ায় চার্চিল ব্রাদার্সের বিরুদ্ধে দুরন্ত জয়ের পরে ইস্টবেঙ্গলের বিনিয়োগকারী সংস্থার প্রধান ডিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন পুরো দলকে। অথচ বিরিয়ানি বা বাটার চিকেনের বদলে টেবলে সাজানো রয়েছে স্প্যাগেটি, পাস্তা, গ্রিল‌্ড চিকেন! ফিজিক্যাল ট্রেনার কার্লোস নোদার পাসের নির্দেশ, মশালাদার ও চর্বি জাতীয় কিছু খাওয়া চলবে না জনি অ্যাকোস্তা, জবি জাস্টিনদের!

রিয়াল মাদ্রিদের ‘বি’ দলের প্রাক্তন কোচ আলেসান্দ্রো মেনেন্দেসের সঙ্গেই ইস্টবেঙ্গলে এসেছেন কার্লোস। তিনি যে শুধু মাঠে নেমে ফিটনেস ট্রেনিং করান, তা কিন্তু নয়। ফিট থাকার জন্য কী ধরনের খাবার খেতে হবে ফুটবলারদের, তা ঠিক করে দিয়েছেন। রিয়াল মাদ্রিদে গ্যারেথ বেল, করিম বেঞ্জেমা-রা যে ‘ডায়েট চার্ট’ মেনে চলেন, সেটাই এখন অনুসরণ করছেন খাইমে সান্তোস কোলাদো, বোরখা গোমেস পেরেস থেকে বাংলার সামাদ আলি মল্লিক, মনোজ মহম্মদ।

প্রাতরাশ থেকে নৈশভোজ—ফুটবলারেরা কী খাবেন, কী খাওয়া চলবে না, তা ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নিয়েই ফুটবলাদের কাছে স্পষ্ট করে দিয়েছেন লা লিগার ক্লাব সেল্টা ভিগোয় পাঁচ বছর কাটানো কার্লোস। কিন্তু তিনি অনুসরণ করছেন রিয়ালকে। প্রত্যেকের হাতে যে ডায়েট চার্টের প্রিন্ট আউট তুলে দিয়েছেন কার্লোস তার প্রতিলিপি চলে এসেছে আনন্দবাজারের কাছেও। ডায়েট চার্টের শুরুতেই কার্লোসের সতর্কবাণী— কুকিস খাওয়া চলবে না।

Advertisement

প্রাতরাশে ক্রিমহীন গরুর দুধ, চিজ, কর্নফ্লেক্স, ওটমিলস ও মুসলির পাশাপাশি পাউরুটি খেতে পারেন ফুটবলারেরা। কিন্তু তা কখনওই ৬০ গ্রামের বেশি নয়। মাখন আট গ্রামের বেশি খাওয়া চলবে না। তবে ফল খাওয়ার ব্যাপারে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। আপেল, কলা, বেদানা, কিউই যত খুশি খেতে পারেন অ্যাকোস্তারা। ক্যানড ফ্রুট জুস খাওয়া নিষেধ। খেতে হবে তাজা ফলের রস।



মধ্যাহ্নভোজে মিক্সড সালাড (লেটুস), স্প্যাগেটি, টোম্যাটো, গাজর, বিট, বিনস, ডিম, সাদা ভাত, অলিভ অয়েল মাখানো গ্রিল‌্ড চিকেন, মাছ (টুনা) বিভিন্ন ধরনের সব্জি, সেদ্ধ ডিম ও দই খাওয়া বাধ্যতামূলক। ইচ্ছে হলে কেউ পাউরুটিও (৫০ গ্রাম) খেতে পারেন। শুধু তা-ই নয়। পাউরুটি একবারই নিতে পারবেন ফুটবলারেরা। মিক্সড সালাডে অবশ্য পেঁয়াজ থাকবে না।

নৈশভোজের খাদ্যা তালিকায় খুব একটা পরিবর্তন নেই। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও ফুটবলারই দু’টোর বেশি ডিম খেতে পারবেন না। বেকন, সসেজ, ঠান্ডা মাংস ও টোম্যাটো কেচাপ খাওয়া চলবে না। পান করতে হবে প্রচুর পরিমাণে জল।

আই লিগের ম্যাচ খেলতে কলকাতার বাইরে গেলে কী করতে হবে, তাও ঠিক করে দিয়েছেন কার্লোস। ফুটবলারদের হাতে যে তিন পাতার নির্দেশনামা তুলে দিয়েছেন, তাতে লেখা রয়েছে— একটি টেবলে চার জন করে ফুটবলার বসবেন।

কার্লোসের নির্দেশ মেনে চলতে গিয়ে শুরুর দিকে সমস্যায় পড়েছিলেন ফুটবলারেরা। চার্চিল ম্যাচে দুরন্ত ফ্রি-কিকে গোল করা লালরিন্দিকা ডিকা রালতে বলছিলেন, ‘‘তেল ও চর্বি যুক্ত খাবার খাওয়া বারণ। শুধু সেদ্ধ খেতে প্রথম দিকে সমস্যা হত। কিন্তু দেখলাম, কার্লোসের নির্দেশ মেনে চলায় আমাদের ফিটনেস বেড়ে গিয়েছে। দ্রুত ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে পারছি।’’

বদলে যাওয়া ইস্টবেঙ্গলকে দেখে মুগ্ধ স্প্যানিশ উইঙ্গার আন্তোনিয়ো রদ্রিগেস দোভাল (টোনি)-ও। সোমবারই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন মাঠে প্রথম অনুশীলন করলেন তিনি। টোনি বললেন, ‘‘গত মরসুমে বেঙ্গালুরু এফসিতে খেলার সময় সুপার কাপ ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে খেলেছি। অনেক বদলে গিয়েছে দলটা।’’ কী রকম? টোনির ব্যাখ্যা, ‘‘এই মুহূর্তে ভারতের সেরা কোচিং স্টাফ ইস্টবেঙ্গলের। মেনেন্দেসের কোচিংয়ে অনেক বেশি বল ধরে খেলছে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা। প্রত্যেকেই নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল।’’

২৮ বছর বয়সি টোনির উত্থান বার্সেলোনা যুব দল থেকে। ২০০৭ সালে তিনি সই করেন সেল্টা ভিগোর ‘বি’ দলে। সেই সময় কোচ ছিলেন মেনেন্দেস-ই। কোচিংয়েই। পুরনো কোচের ডাকেই ইস্টবেঙ্গলে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। টোনি বললেন, ‘‘ভারতের অন্যতম সেরা ক্লাব ইস্টবেঙ্গলে খেলার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত।’’ খাইমের মতো তিনিও জানিয়ে দিলেন, কোচে যেখানে খেলতে বলবেন, সেখানেই খেলবেন।

আরও পড়ুন

Advertisement