Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৯ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

ইংল্যান্ড কোচের হৃদয়ে থেকেই যাবে কলকাতা 

দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়
কলকাতা ৩০ অক্টোবর ২০১৭ ০৩:৩২
সফল: ইংল্যান্ডের কোচ স্টিভন কুপার। রবিবার। —নিজস্ব চিত্র।

সফল: ইংল্যান্ডের কোচ স্টিভন কুপার। রবিবার। —নিজস্ব চিত্র।

অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জয়ের পরের দিন থেকেই কি পরবর্তী লক্ষ্যে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য মনোনিবেশ করতে শুরু করে দিল ইংল্যান্ড?

রবিবার সারাদিন রাজারহাটের যে হোটেলে ইংল্যান্ড রয়েছে সেখানে ঢুঁ মেরে এমন ছবিই মিলছে। টিমের অনুশাসন এতটাই কড়া যে, এ দিনও বিশ্বকাপ ফাইনালে ০-২ পিছিয়ে থেকে স্পেনকে ৫-২ চূর্ণ করার নায়ক ফিল ফডেন-কে প্রচারমাধ্যমের থেকে দূরেই সরিয়ে রাখল ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্ট। তাকে হাজির করা হয়নি অনুরোধ করা সত্ত্বেও।

ইংল্যান্ড কোচ স্টিভ কুপার এ দিন বিকেলে কলকাতার প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার জন্য হাজির হয়েছিলেন হোটেলের লবিতে। সেখানে তিনি বলেই দিলেন, ‘‘দেশ থেকে অনেক শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছি। ডেভিড বেকহ্যাম থেকে ওয়েন রুনি। আমাদের সিনিয়র জাতীয় দলের কোচ গ্যারেথ সাউথগেট। কেউ কেউ সোশ্যাল মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নিঃসন্দেহে আনন্দের মুহূর্ত। তবে আমাদের উচ্ছ্বাসে ভেসে গেলে চলবে না। এখনও অনেক দূর যেতে হবে।’’

Advertisement

ইংল্যান্ড শিবির এবং হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে যুবভারতী থেকে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ-সহ হোটেলে ফিরেই প্রথমে কেক কাটেন অ্যাঞ্জেল গোমেজ, নিয়া কার্বি-সহ গোটা দল। তার পরে নৈশভোজে গোটা দলের সামনে সংক্ষিপ্ত বার্তা রাখেন ইংল্যান্ড কোচ স্টিভ কুপার। গলায় বিজয়ীর পদক পরেই টিমের তরফে দেওয়া সেই বিশেষ নৈশভোজে হাজির ছিল ফডেনরা। ইংল্যান্ড কোচও বলছেন, ‘‘শুভেচ্ছা জানিয়েছি ছেলেদের। আর কিছু জায়গায় উন্নতি দরকার। সেগুলোই বললাম। তার পরে নৈশভোজ সেরে ওরা আনন্দে মেতে গিয়েছিল। ফুটবলারদের অনেকের পরিবারও সঙ্গে ছিল। আনন্দেই কেটেছে রাতটা।’’ হোটেল তরফে জানা গিয়েছে নৈশভোজে চিকেনের বিভিন্ন পদ ছিল। সঙ্গে ছিল দেদার খানাপিনার আয়োজন।

ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ফিল ফডেন-কে নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশংসাসূচক কথা বলেছেন তাঁর ক্লাব ম্যাঞ্চেস্টার সিটির কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা। ফডেনকে নিয়ে উচ্ছ্বসিত আট ও নয়ের দশকে ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার গ্যারি লিনেকারও। দলের মিডিয়া ম্যানেজার অ্যামি হার্ট-কে এ দিন ফডেনের গতিবিধি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, ‘‘শনিবার সারা রাত টিম ও পরিবারের সঙ্গে পার্টি করে শেষ রাতে ঘুমোতে গিয়েছে ফডেন। রবিবার একটু বেলা করে বিছানা ছাড়ে ও। তার পরেই প্রাতরাশ সেরে সোজা জিমে। সেখানেই দলের ফিজিও-র সঙ্গে রিহ্যাব সেশন সেরেছে।’’

জিওফ হার্স্ট-দের সেই ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জেতার পরে এ বছরের আগে কোনও পর্যায়ের বিশ্বকাপ ঘরে ঢোকেনি ইংল্যান্ডে। কিন্তু ২০১৭ স্মরণীয় হয়ে থাকবে ইংল্যান্ড ফুটবলে। একই বছরে জোড়া বিশ্বকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-২০। যা নতুন করে আশা জাগাচ্ছে ইংল্যান্ড ফুটবলে। শনিবার রাত থেকেই ইংল্যান্ড কোচ ও ফুটবলারদের কাছে শুভেচ্ছা বার্তা আসছে একের পর এক।

ইংল্যান্ডের ফুটবলমহলও যে এই সাফল্যে নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে তা স্পষ্ট। ডেভিড বেকহ্যাম থেকে, ওয়েন রুনি, গ্যারি লিনেকার, রিও ফার্দিনান্দ—সকলেই ভবিষ্যতের স্বপ্নে বিভোর। যা প্রকাশ পেয়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এদের মত প্রকাশের মধ্যে। প্রাক্তন ইংল্যান্ড অধিনায়ক ওয়েন রুনি যেমন টুইট করেছেন, ‘এই জয়ের সঙ্গে জড়িত সবাইকে শুভেচ্ছা। গোটা টুর্নামেন্টে আগাগোড়া নিজেদের জাত চিনিয়েছে আমাদের ফুটবলাররা’। রিও ফার্দিনান্দ বলছেন, ‘দারুণ মুহূর্ত। ইয়ং লায়ন্স-কে শুভেচ্ছা’। আর গ্যারি লিনেকার লিখেছেন, ‘স্পেনকে ৫-২ হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বসেরা আমাদের ছেলেরা। আমাদের সোনালি ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। দারুণ পারফরম্যান্স’। আর ডেভিড বেকহ্যাম ইনস্ট্রাগ্রামে ফডেন, ব্রিউস্টার-দের ছবি-সহ পোস্ট করেছেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। গোটা দলকে শুভেচ্ছা। শুভেচ্ছা ফুটবলারদের পরিবারকেও। দুর্দান্ত সাফল্য। এ বার ভবিষ্যৎ গড়ার পালা। তার জন্য এই প্রতিভাদের সব রকমের সুযোগ দিয়ে তৈরি করতে হবে’।

ইংল্যান্ড কোচ এ দিন এর সঙ্গে জানিয়েছেন শুভেচ্ছাজ্ঞাপক এক বিশেষ ব্যক্তির নাম। যাঁকে আবার চেনে ভারতীয় ফুটবলের সঙ্গে জড়িত সকলেই। তিনি সুনীল ছেত্রীদের কোচ স্টিভন কনস্ট্যান্টাইন। স্টিভ কুপার এ দিন প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘‘স্টিভন ম্যাচের আগেও শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। জেতার পরেও শুভেচ্ছা জানিয়েছে। ভাবলে ভাল লাগছে ভারতের জাতীয় দলের উৎকর্ষ বাড়াতেও কাজ করছেন একজন ইংরেজ কোচ।’’

রবিবার গভীর রাতে কলকাতা ছেড়ে অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ-সহ লন্ডনে উড়ে গেল ইংল্যান্ড। কলকাতা ছাড়ার আগে স্টিভ কুপার বলে গেলেন, ‘‘ভারতের, বিশেষ করে কলকাতার মানুষের সমর্থনের কথা কোনও দিন ভুলব না। কলকাতায় প্রথম বার অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ জয় একটা দারুণ অভিজ্ঞতা। মুম্বই, কলকাতা, গোয়া বা চব্বিশ ঘণ্টার জন্য গুয়াহাটি যাওয়া—সর্বত্রই যে উদার আতিথেয়তা পেয়েছি তা ভোলা যাবে না। কলকাতা থেকে শুধু বিশ্বকাপ জিতে ফেরার কথাই মনে থাকবে না। স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে থাকবে এখানকার বর্ণময় সমর্থকরাও।’’



Tags:
Steven Cooper Football FIFA U 17 World Cupস্টিভন কুপার

আরও পড়ুন

Advertisement