Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৩ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

লো-র হাতে থাকছে বিষাক্ত ট্যাকল আর ন্যয়ার

সঞ্জয় সেন
০৫ জুলাই ২০১৬ ০৪:০৭

ইউরোয় ফুটবল-রূপকথা হয়ে ওঠা আইসল্যান্ডকে কোয়ার্টার ফাইনালে ৫-২ হারিয়ে ফ্রান্স এখন টগবগ করে ফুটছে। দিদিয়ের দেশঁর দলের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে জার্মানি ডিফেন্সে পাবে না হুমেলসকে। মিডফিল্ডে পাবে না খেদিরাকে। অ্যাটাকে পাবে না গোমেজকে। শুনছি চোটে কাবু সোয়াইনস্টাইগারও।

তবু এই ম্যাচের আগাম বিশ্লেষণ করতে গিয়ে আমি এক শতাংশ হলেও এগিয়ে রাখছি জার্মানিকে। ফ্রান্সকে নয়।

অনেকেই হয়তো আমার এই অনুমান পড়ে অবাক হবেন। কারণ, ফ্রান্সের অ্যাটাকিং লাইনে জিরুঁ, গ্রিজম্যান, পায়েত, পোগবাদের এখন ঝকঝকে দেখাচ্ছে। গোলের পর গোল করছে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই ফরাসি আক্রমণকে বৃহস্পতিবারের সেমিফাইনালে জার্মান ডিফেন্স কব্জা করতে পারবে কি?

Advertisement

আমার মনে হয় পারবে। কেন-র কারণগুলো একে-একে বলছি।

এক) গ্রিজম্যান বা পায়েত মূলত পিছন থেকে উঠে আক্রমণে ভিড় বাড়ায়। যেটা জার্মানদের বিরুদ্ধে করা মুশকিল। ওরা পায়েতদের কড়া ম্যান মার্কিংয়ে রাখবেই। ওপেন স্পেস সে অর্থে দেবে না। যেটা কোয়ার্টার ফাইনালে পাঁচ গোল করার ম্যাচে পুরোদমে পেয়েছে ফরাসিরা।

দুই) কেন জানি না মনে হচ্ছে, সোয়াইনস্টাইগার বৃহস্পতিবার খেলবে। কারণ ইতালি ম্যাচ হয়ে গিয়েছে শনিবার। তার পর জার্মান মেডিক্যাল টিম হাতে পাচ্ছে পাঁচ-পাঁচটা দিন। এই পর্যায়ের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অত্যাধুনিক ফিজিও টিম নিশ্চয়ই সোয়াইনস্টাইগারের পেশির চোট সারিয়ে তুলবে। মিডফিল্ডে টনি ক্রুজের পাশে যদি সোয়াইনস্টাইগার থাকে তা হলে কিন্তু জিরুঁদের সামনে ওপেন স্পেস বন্ধ হয়ে গেল প্রায়। ইপিএলে খেলার সুবাদে সোয়াইনস্টাইগার আরও জানবে, ও মাঝেমাঝে খেলা থেকে হারিয়ে যায়। যে কারণে জিরুঁকে আর্সেনাল কোচ ওয়েঙ্গার অনেক ম্যাচে প্রথম দলে রাখেননি গত মরসুমে। জিরুঁ মাঝমাঠ থেকে বল তৈরি করে নিয়ে আসতেও সে ভাবে দক্ষ নয়। সেটা সোয়াইনস্টাইগার মাঠে থাকলে আরও আটকে যাবে। যদি সোয়াইনস্টাইগার না থাকে তা হলেও। সেক্ষেত্রে জুলিয়েন ওয়েইলকে খেলাতে পারেন জার্মান কোচ জোয়াকিম লো। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড মিডিও বিখ্যাত কড়া ট্যাকল আর কভারিংয়ের জন্য। আর কড়া মার্কিংয়ের সামনে ছন্দ হারালে জিরুঁ ম্যাচ থেকে যে হারিয়ে যায় সেটা ইপিএলেই দেখা গিয়েছে।

তিন) জার্মান ডিফেন্সে হুমেলস না খেললেও মুস্তাফি থাকবে বোয়াতেংয়ের পাশে। ফলে ওদের ব্যাক ফোর খুব বেশি নড়ব়ড় করবে ভাবলে ভুল ভাবা হবে। ইতালি ম্যাচে পেনাল্টিতে ১-১ হওয়া বাদ দিলে ইউরোয় কিন্তু জার্মানি ওপেন অ্যাটাকে এখনও গোল খায়নি। যার পিছনে বোয়াতেংদের কড়া ম্যান মার্কিং আর কভারিং। ফলে মাঝমাঠ টপকে যদি পায়েত, গ্রিজম্যানরা উঠেও আসে, তা হলে জার্মান ব্যাক ফোর ওদের মনে হয় খুব বেশি সুযোগ দেবে না।

চার) এখন প্রশ্ন হচ্ছে সেমিফাইনালে ফ্রান্স কোন ছকে খেলবে? আগের সব ম্যাচ ৪-৩-৩ ফর্মেশনে খেলার পর কোয়ার্টার ফাইনালে হঠাৎই দেশঁ দলকে খেলালেন ৪-২-৩-১। আমার ধারণা, এটা জার্মানি ম্যাচের কথা ভেবেই দেশঁর স্টেজ রিহার্সাল। কিন্তু এই ছকে আবার ফরাসি অ্যাটাকিং লাইনে একা পড়ে যাবে জিরুঁ। জার্মানদের ধাক্কাধাক্কির ফুটবলের সঙ্গে ও একা কতটা মানিয়ে নিতে পারবে আমার সন্দেহ থাকছে।



পাঁচ) এর সঙ্গে আবার জুড়ছে সুইপার-কিপার ম্যানুয়েল ন্যয়ার। ফলে জার্মান ডিফেন্স কখনই একজন হুমেলসের অভাবে ভুগবে বলে মনে হয় না। ন্যয়ার তো নিজেই একজন বাড়তি ডিফেন্ডারের কাজ করে দেয় জার্মানি দলে। আর ফ্রান্স যদি সে দিন ৪-৩-৩ খেলে তা হলে মিডফিল্ডে সিসোকো না কাঁতে— কে খেলবে বাছতে মনে হয় দ্বিধায় পড়বেন দেঁশ।

সব শেষে একটা কথা। নিজে ক্লাব ফুটবলে সামান্য কোচিং করানোর অভিজ্ঞতায় জানি, প্রথম দলের কোনও ফুটবলার একবার বেঞ্চে চলে গেলে ফেরার জন্য সে জান লড়িয়ে দেয়। সেমিফাইনালের আগে এই কথা প্রযোজ্য জার্মানির গোটজে সম্পর্কে। গোমেজকে না পাওয়া মানে ধরে নেওয়া যায় গোটজে প্রথম দলে ঢুকছে। সঙ্গে কিমিচ। যারা বিপক্ষ ডিফেন্সে ভয়ঙ্কর সব ক্রস পাঠাতে ওস্তাদ। আর সেই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের অ্যাটাকিং লাইনের পায়েত-গ্রিজম্যানরা নিজেদের ডিফেন্সকে কভার দিতে নিচে নামবে। নামতে হবেই।

মনে রাখতে হবে, আইসল্যান্ড ম্যাচ ছাড়া ফ্রান্স কিন্তু কোনও ম্যাচই হাফটাইমে এগিয়ে থাকতে পারেনি। আর কে না জানে জার্মানি মোটেও আইসল্যান্ড নয়!

আরও পড়ুন

Advertisement