Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১ ই-পেপার

খেলা

সৌরভ-বিরাটদের অস্ট্রেলিয়া সফর মানেই যেন ক্রিকেট আর বিতর্কের হাতধরাধরি করে চলা

নিজস্ব প্রতিবেদন
কলকাতা ১০ জানুয়ারি ২০২১ ১৩:১৭
ভারত অস্ট্রেলিয়া সিরিজ বিতর্কহীন ভাবে শেষ হবে এ যেন অকল্পনীয়। শনিবার এবং রবিবার দর্শকাসন থেকে যশপ্রীত বুমরা এবং মহম্মদ সিরাজের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য শোনা গিয়েছে বলে অভিযোগ জানিয়েছে বিসিসিআই। লিখিত ভাবে সেই অভিযোগ জানানো হয়েছে।

এই সিরিজে বিতর্ক চলছে চতুর্থ টেস্ট নিয়ে। ভারতীয় দল ব্রিসবেনে কঠোর করোনা বিধি মানতে রাজি নয়। লিখিত ভাবে তা তারা জানিয়েও দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে। ব্রিসবেনের সেই ম্যাচ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক টিম পেনও ভারতের ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তবে এমন বিতর্ক যে এই প্রথম এমন নয়। ভারতের অস্ট্রেলিয়া সফর মানেই বিতর্ক।
Advertisement
সাল ১৯৮১। সুনীল গাওস্করের নেতৃত্বে ভারতীয় দল সেই বার প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ ড্র করে ফেরে। কিন্তু বিতর্ক তৈরি হয় দ্বিতীয় ইনিংসে গাওস্করের আউট নিয়ে। ডেনিস লিলির বল গাওস্করের প্যাডে লাগলে আউটের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার রেক্স হোয়াইটহেড। গাওস্কর বার বার ব্যাট দিয়ে প্যাডে আঘাত করে বুঝিয়ে দিতে চান বল ব্যাটে লেগেছে।

আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন গাওস্কর। এমন সময় লিলি তাঁর উদ্দেশে কিছু বলেন। গাওস্কর ফিরে এসে চেতন চৌহানকে বলে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে। অধিনায়কের সঙ্গে ফেরার পথ ধরেন চেতন। দলের ম্যানেজার শহীদ দুরানি বাউন্ডারি পেরোনোর আগেই বুঝিয়ে ফেরত পাঠান অপরাজিত চৌহানকে। ম্যাচটি জিতে সিরিজে সমতা ফেরায় ভারত। তৈরি হয় ইতিহাস।
Advertisement
সাল ১৯৯৯। সে বারের ভারত অধিনায়ক আরেক মুম্বইকর, সচিন তেন্ডুলকর। বিতর্ক ফের ভারত অধিনায়ককে ঘিরেই।

বল করছিলেন অজি পেসার গ্লেন ম্যাকগ্রা। স্কোরবোর্ড বলবে অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি সচিনকে এলবিডব্লু করেছিলেন। এই জন্যই বোধ হয় বলে স্কোরবোর্ড মূর্খ। সে দিন সচিনের পায়ে নয়, বল লেগেছিল কাঁধে। বাউন্সার ভেবে ডাক করতে গিয়েছিলেন সচিন। কিন্তু বল লাফায়নি। এসে লাগে সচিনের কাঁধে। আউটের আবেদন জানায় অস্ট্রেলিয়া। ড্যারিল হার্পার আঙুল তুলে দেন। আজও প্রশ্ন ওঠে সেই আউট নিয়ে।

সাল ২০০৮। সিডনি টেস্ট। কুখ্যাত মাঙ্কিগেট বিতর্ক। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ভারতের সিরিজ খেলতে গিয়ে সবচেয়ে বিতর্কিত ঘটনা বোধ হয় এটাই। বলা ভাল এই সিরিজটাই। কী ঘটেছিল সিডনি টেস্টে?

অস্ট্রেলীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী হরভজন সিংহ ব্যাট করার সময় অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে ‘বাঁদর’ বলেন। বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার জন্য শুধু মাঠের আম্পায়ার নয়, হরভজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানায় অস্ট্রেলিয়া বোর্ডও। এতটাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল মাঠে, যে ম্যাচ শেষে ভারত অধিনায়ক অনিল কুম্বলের সঙ্গে হাত পর্যন্ত মেলায়নি অস্ট্রেলিয়া দল।

অ্যাডিলেডের ফেডেরাল কোর্টে মামলা চলে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সাইমন্ডসের জন্য সাক্ষী দিয়েছিলেন রিকি পন্টিং, ম্যাথু হেডেন এবং মাইকেল ক্লার্ক। হরভজনের পক্ষে ছিলেন সচিন। আইসিসির বিচারপতি জন হেনসেন হরভজনকে নির্দোষ বলে ঘোষণা করেন। সেই রায়ে অবশ্য খুশি হতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।

সেই ম্যাচেই ঘটে আরও একটি বিতর্কিত ঘটনা। যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আম্পায়ারের একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে ম্যাচটি হেরে যায় ভারত।

দ্রাবিড়ের পায়ে বল লেগে ক্যাচ যায় উইকেটকিপার গিলক্রিস্টের হাতে। আউটের সিদ্ধান্ত জানান আম্পায়ার স্টিভ বাকনার। সৌরভের আউটের সময় আম্পায়ার ছিলেন মার্ক বেনসন। স্লিপে সৌরভের ক্যাচ নিয়েছিলেন মাইকেল ক্লার্ক। তবে আম্পায়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না। পন্টিং আঙুল তুলে দেখান আউট। আম্পায়ারও সেই সিদ্ধান্তই জানান।

ম্যাচের শেষে অধিনায়ক কুম্বলের বক্তব্য বিখ্যাত হয়ে যায় সেই সময়। তিনি বলেছিলেন, “এই ম্যাচে একটি দলই ক্রিকেটের স্পিরিট বজায় রেখে খেলেছে।”

সাল ২০১২। সিডনিতে বিরাট কোহালি দর্শকদের মধ্যমা দেখিয়ে ফেলেন। তাঁর সেই বিতর্কিত ছবি ছড়িয়ে পড়ে সংবাদপত্রে। ম্যাচ রেফারির ঘরে ডাক পড়ে বিরাটের। ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। শাস্তির মুখে পড়তে হয়নি তাঁকে।

সিডনি টেস্টের চতুর্থ দিনও সিরাজের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করা হয় দর্শকাশন থেকে। মাঠ থেকে বার করেও দেওয়া হয় ৬ জন দর্শককে। বিসিসিআইয়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অস্ট্রেলিয়া বোর্ড জানিয়েছে, তারা বর্ণবিদ্বেষকে প্রশ্রয় দেয় না। এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অস্ট্রেলিয়ার মাঠে ঘটে যাওয়া ওপরের ঘটনাগুলো ছাড়াও আরও একটি ঘটনা রয়েছে যা বোধ হয় উপভোগই করেন ভারতীয় সমর্থকরা। তবে সেটি ঘটে দেশের মাটিতে। ২০০১ সালে ভারতে আসে স্টিভ ওয়ের অস্ট্রেলিয়া। সদ্য ভারত অধিনায়ক সৌরভ পাল্টা আক্রমণের কৌশল নিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে।

টসের সময় অজি অধিনায়ককে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়েছিলেন সৌরভ। বিতর্ক দেখা দেয় সেই ঘটনা ঘিরে। পরবর্তী সময় সৌরভ জানান ব্লেজার ভুলে গিয়েছিলেন ড্রেসিংরুমে তাই দেরি হয়। তবে সেই সিরিজের ফলাফল বুঝিয়ে দেয়, অস্ট্রেলিয়াকে পাল্টা আক্রমণের কৌশল কাজে দিয়েছিল।