Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৬ জুলাই ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

ওয়ান্ডারার্সের পিচ নিয়ে শাস্ত্রীর কটাক্ষ

নাগপুর গোলাপের গন্ধে ম-ম করছিল

দু’বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা টিম যখন ভারতে খেলতে এসেছিল, শাস্ত্রীই তখন টিম ডিরেক্টর। বিরাট কোহালি ছিলেন অধিনায়ক।

সুমিত ঘোষ
জোহানেসবার্গ ২৯ জানুয়ারি ২০১৮ ০৪:২৪
Save
Something isn't right! Please refresh.
গর্জন: দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘুরিয়ে তোপ শাস্ত্রীর। ফাইল চিত্র

গর্জন: দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘুরিয়ে তোপ শাস্ত্রীর। ফাইল চিত্র

Popup Close

ওয়ান্ডারার্সের বিপজ্জনক পিচ নিয়ে তুলকালাম পড়ে গিয়েছে বিশ্বের ক্রিকেট মহলে। আইসিসি হস্তক্ষেপে আগামী কয়েক মাসের জন্য ম্যাচ সংগঠনের দায়িত্বও হারাতে পারে তারা। এ সবের মাঝেই শিরোনামে থাকা পিচ নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেল ভারতীয় শিবির থেকে।

টেস্ট জিতে উঠে রবি শাস্ত্রী আনন্দবাজার-কে বলে দিলেন, ওয়ান্ডারার্সে যা দেখা গেল, তার তুলনায় নাগপুরে তো গোলাপের গন্ধ ভেসে আসছিল। ভারতীয় দলের হেড কোচের পরিষ্কার কটাক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকার দলের দিকে।

দু’বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকা টিম যখন ভারতে খেলতে এসেছিল, শাস্ত্রীই তখন টিম ডিরেক্টর। বিরাট কোহালি ছিলেন অধিনায়ক। তখন দেশের মাঠে ঘূর্ণি বানানো নিয়ে তোপের মুখে পড়েছিল ভারতীয় দল এবং ভারতীয় বোর্ড। সব চেয়ে বেশি বিতর্ক হয়েছিল নাগপুরের পিচ নিয়ে। আইসিসি সেই পিচকে ‘পুওর’ রেটিং দিয়েছিল। পুরনো সেই কথা মনে রেখেই যে শাস্ত্রীর এই মন্তব্য তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

Advertisement

বিদেশের মাঠে অন্যতম সেরা টেস্ট জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পরের দিন শাস্ত্রীর কাছে আনন্দবাজার জানতে চায়, ওয়ান্ডারার্সের পিচ নিয়ে সারা ক্রিকেট দুনিয়া উত্তাল। সুনীল গাওস্কর থেকে মাইকেল হোল্ডিং তুলোধনা করেছেন। আপনার কী বক্তব্য? শাস্ত্রীর জবাব, ‘‘সবাই দেখেছে, কী ঘটেছে। আমার মনে হচ্ছে, নাগপুর তো গোলাপের গন্ধে ভরপুর ছিল।’’

আরও পড়ুন: আইপিএল-এ দল পেয়ে ইতিহাস সন্দীপের

নাগপুরে জেতার পরে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টের যে, দেশের মাঠে খেলার অতিরিক্ত সুবিধে আদায় করে খেলার অযোগ্য স্পিন পিচ বানিয়ে তারা দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়েছে। এ বার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, ফ্যাফ ডুপ্লেসি-রাও নিজেদের পছন্দ মতো বিপজ্জনক পিচ বানাতে দ্বিধা করেননি। তফাত হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের বানানো ঘূর্ণিতে গিয়ে ৩-০ দুরমুশ হয়েছিল। এখানে ভারতীয় পেসাররা পাল্টা প্রত্যাঘাত করে বিপজ্জনক পিচেই পাশার দান উল্টে দেখিয়ে দিয়েছেন।

এই প্রথম ভারতীয় শিবির থেকে কেউ ওয়ান্ডারার্সের পিচ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করলেন। গত কাল সাংবাদিক সম্মেলনে এসেও ভারত অধিনায়ক কোহালি বলে গিয়েছেন, পিচ দেখেই আমাদের মনে হয়েছিল, দু’দলের জন্য সমান সুযোগ ছিল। বিপজ্জনক পিচ নিয়ে খুব আক্রমণাত্মক কিছু বলেননি বিরাট। তিনি অবশ্য সিরিজের শুরু থেকেই পিচ নিয়ে অভিযোগের রাস্তায় হাঁটতে চাননি। কেপ টাউনে টেস্ট হারার পরে এবং এক দিনে ১৮ উইকেট পড়ার পরেও কোহালি সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বলে যান, দারুণ পিচ হয়েছে। এ রকম পিচ হলেই লোকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখতে মাঠে আসবে। টেস্ট ক্রিকেট উপকৃত হবে।

কোহালি এমন কথা বললেও এবং গোটা সিরিজে পিচ নিয়ে অভিযোগ না জানালেও দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক বা টিম ম্যানেজমেন্টও যে সাধু নয়, পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার এক সময়কার সর্বময় ক্রিকেট কর্তা আলি ব্যাখার পর্যন্ত বলেছেন, তিনি তিনটি টেস্টের পিচ দেখেই বিস্মিত হয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, ফ্যাফ ডুপ্লেসি-র চাপেই সব জায়গায় পিচ প্রস্ততকারকেরা এ রকম পিচ বানাতে বাধ্য হয়েছিলেন। প্রশ্ন উঠছে, তা হলে শুধু দেশের মাঠে নিজেদের পছন্দের পিচ বানানোর জন্য ভারতকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে কেন?

আরও প্রশ্ন উঠেছে, আইসিসি কেপ টাউন এবং সেঞ্চুরিয়নের পিচ নিয়েও তদন্ত করল না কেন? ব্যাখার বলেছে, ১৯৬০ থেকে তিনি নিউল্যান্ডসে ক্রিকেট দেখছেন। এ রকম পিচ কখনও দেখেননি। ব্যাখার মনে করতে পারছেন না, কবে কেপ টাউনে এক দিনে ১৮ উইকেট পড়তে দেখেছেন! মাইকেল হোল্ডিং সেঞ্চুরিয়নের পিচ দেখে বলেছিলেন, আইসিসি এই উইকেটকে কী রেটিং দেয়, দেখার অপেক্ষায় আছেন। অথচ, আইসিসি কোনও পদক্ষেপই করেনি কেপ টাউন বা সেঞ্চুরিয়নের পিচ নিয়ে। ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার এই উদাসীন মনোভাব অনেককে অবাকই করেছে। কারও কারও মনে হচ্ছে, আইসিসি যদি ভারতে ঘূর্ণি পিচ হলে যেমন হা রে রে করে লাফিয়ে পড়ে তেমন এখানেও করত, তা হলে ওয়ান্ডারার্সে এমন বিপজ্জনক পিচ বানানোর সাহস ডুপ্লেসি-রা দেখাতে পারতেন না। শেষে যদিও পিচ নিয়ে অতিরিক্ত সাহসী হতে গিয়ে তা ব্যুমেরাং হয়ে ফিরেছে ডুপ্লেসি-দের।

ডুপ্লেসি-রা যদিও বলে চলেছেন, খেলা যে হেতু করা গিয়েছে ওয়ান্ডারার্স হয়তো শাস্তির প্রকোপে পড়বে না। এখানে পর-পর সব বড় ম্যাচ রয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচ ‘পিঙ্ক ডে’ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে। সব টিকিট এখনই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। তার পরে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্ট রয়েছে। নির্বাসিত হওয়া মানে সেই সব ম্যাচ নিয়ে কী হবে, সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Something isn't right! Please refresh.

Advertisement