Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

উচ্চতা কোনও প্রতিবন্ধকতা নয়, দেখিয়ে দিয়েছেন সুনীল ছেত্রী

১৯৮৪ সালের ৩ অগস্ট সেকেন্দ্রাবাদে জন্ম সুনীল ছেত্রীর। ৫ ফিট ৭ ইঞ্চির ছেলেটা আজ ভারতের অধিনায়ক, দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দেশের জার্সিতে খেলে ফ

নিজস্ব প্রতিবেদন
০২ অগস্ট ২০১৮ ১২:৫৫
Save
Something isn't right! Please refresh.
ভারত অধিনাযক সুনীল ছেত্রী।

ভারত অধিনাযক সুনীল ছেত্রী।

Popup Close

ছোট্ট খাট্ট ছেলেটা যখন ভারতীয় ফুটবলে পা রেখেছিল তখন সবাই নাক সিঁটকেছিল। ফুটবলে তো উচ্চতাটাই আসল। তাও আবার স্ট্রাইকার। এই উচ্চতা নিয়ে কিছু করতে পারবে না। এরকম নাআনা প্রশ্নে জেরবার হতে হয়েছে সেই সময় সুনীল ছেত্রীকে। তার পর অনেক বদলেছে ভারতীয় ফুটবলের নকশা। আর সেই বদলের সঙ্গে সঙ্গে সুনীল ছেত্রী হয়ে উঠেছেন ফেস অব ইন্ডিয়ান ফুটবল। ভাইচুং ভুটিয়াকে সরিয়ে দেশের ফুটবলের পতাকা নিজের কাঁধে তো তুলে নিয়েছেনই সঙ্গে প্রতিদিন প্রতিমুর্তে প্রমাণ করছেন তিনি আসলে একটা প্রতিভা। আর সেই প্রতিভা থাকলে উচ্চতা কোনও প্রতিবন্ধকতা হতে পারে না।

১৯৮৪ সালের ৩ অগস্ট সেকেন্দ্রাবাদে জন্ম সুনীল ছেত্রীর। ৫ ফিট ৭ ইঞ্চির ছেলেটা আজ ভারতের অধিনায়ক, দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা। দেশের জার্সিতে খেলে ফেলেছেন ১০০ ম্যাচ। উঠে এসেছেন মেসি, রোনল্ডোদের সঙ্গে এক তালিকায়। সেই সুনীল ছেত্রীর এই দীর্ঘ পথ পেড়িয়ে নিজেকে এই উচ্চতায় তুলে আনাটা সহজ ছিল না। ২০০১-০২এ সিটি ফুটবল ক্লাব থেকেই খুলে গিয়েছিল মোহনবাগানের দরজা। সেই শুরু ভারতীয় পেশাদার ফুটবলে নিজেকে চেনানোর। ২০০২-০৫ পর্যন্ত মোহনবাগানের হয়ে ১৮টি ম্যাচই খেলতে পেড়েছিলেন। তার মধ্যেই করেছিলন ৮ গোল। ভাগ্য ফিরল জেসিটি থেকে। সেখানে পরের তিন বছর ভারতীয় ফুটবল সুনীল ছেত্রীর মধ্যেএ দেখতে শুরু করল পরবর্তী ভাইচুং ভুটিয়াকে।

শুরু হল অন্য লড়াই। সেই সময় ভারতীয় ফুটবলের তারকা। তাঁর সঙ্গে তুলনা হওয়াটা বাড়তি চাপ তো বটেই। কিন্তু তা দারুণ সামলালেন সুনীল। সুনীল নিজেই বলেন, সেই সময়ের জেসিটিতে ছিল ভারতীয় ফুটবলের সব বড় বড় নাম। তাদের মধ্যে গিয়ে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু গুটিয়ে না থেকে নিজেকেএ প্রমাণ করেছিলেন। জেসিটির জার্সিতে ৪৮ ম্যাচে ২১টি গোল রয়েছে তাঁর নামের পাশে। সেই ২০০৫ সালেই সুনীল ছেত্রীর সামনে খুলে যায় ভারতীয় সিনিয়র দলের দরজা। সেই যে চলার শুরু তা এখনও চলছে সাফল্যের সঙ্গে। কয়েক মাস আগেই মুম্বইয়ের মাটিতে ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপে করে ফেলেছেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সেঞ্চুরি। গোলের সংখ্যা ৬৪। যা ছুয়ে ফেলেছে মেসিকে। সামনে শুধু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। যদিও মেসি, রোনাল্ডোর সঙ্গে তাঁর তুলনাটাআ একদমই মেনে নিতে পারেন না সুনীল। তিনি বলেন, ‘‘মেসি-রোনাল্ডোর সঙ্গে আমার তুলনাটা ঠিক নয়। আমি ওদের ফ্যান। ওরা অনেক বড় ফুটবলার।’’

Advertisement



স্ত্রী সোনমের সঙ্গে সুনীল। ফাইল ছবি।

তবুও স্ট্যাটিসটিক্স যখন বলছে তখন তো মানতেই হবে। দেশের জার্সিতে চূড়ান্ত সফল সুনীল ছেত্রী। এখন খেলেন দেশের সব থেকে পেশাদার ক্লাব বেঙ্গালুরু এফসির হয়ে। আর আগে ইস্টবেঙ্গল, ডেম্পো, চিরাগ ইউনাইটেড, চার্চিল ব্রাদার্স, মুম্বই সিটি এফসির হয়ে খেলেছেন আইলি ও আইএসএল-এ। বিদেশের মাটিতেও ভারতীয় ফুটবলের ঝান্ডা উড়িয়ে এসেছেন যখন কানসাস সিটি স্পোর্টিং ক্লাব দি পর্তুগালে নাম লিখিয়েছিলেন। সুনীলের নামের পাশে রয়েছে পর পর তিনটি নেহরু কাপ জয়। ২০১১ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। ২০০৮ এএফসি চ্যালেঞ্জ কাপ জিতে ২৭ বছর পর এএফসি এশিয়ান কাপে যোগ্যতা অর্জন করা। সব কিছুর পিছনেই রয়েছে সুনীল ছেত্রীর ভূমিকা। আর সুনীলের জীবনে পরিবার ছাড়াও কি ভাবে জায়গা করে নিয়েছে কলকাতা তা তিনি নিজেই বলেন সোচ্চারে। বলেন, ‘‘কলকাতা আমাকে চিনিয়েছে। ওখানে প্রচুর ভালবাসা পেয়েছি যখন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলে খেলেছি।’’ কলকাতা তাঁর মনে। তাই ব্যাক্তি জীবনেও জড়িয়ে গিয়েছে এই শহর।

দীর্ঘদিনের প্রেমিকা সোনম ভট্টাচার্যের সঙ্গে গত বছরই বিয়েটা সেরে ফেলেছেন। এখন তো সুনীলের সব সাফল্যে দেখা যায় সোনমকে। ঠিক যেভাবে মুম্বইয়ে ১০০তম ম্যাচের সময় সুনীলের পাশে থাকতে পৌঁছে গিয়েছিলেন সোনম। সে ভাবেই এখন সব সময় থাকেন পাশে। এই মুহূর্তে বেঙ্গালুরুর এফসির শিবিরে স্পেনে রয়েছেন সুনীল। ক্লাব দল হোক বা জাতীয় দল ‘সুনীল ভাই’ জুনিয়রদের অভিভাবক, দাদা। এক্কেবারে যোগ্য অধিনায়ক। এ বারের জন্ম দিনটা তাঁর কাটবে সতীর্থদের সঙ্গেই। আমাদের আগাম শুভেচ্ছা সুনীল ছেত্রীর জন্য়।

আরও পড়ুন: বিরাটের পালটা মাইক ড্রপ ভঙ্গি, দেখুন ভিডিয়ো

আরও পড়ুন: কলকাতা লিগের ডার্বি ২ সেপ্টেম্বর

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Tags:
Something isn't right! Please refresh.

Advertisement