মাত্র দশ দিনের ব্যবধানে রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়াল প্রায় ৪৫ হাজার।

গত ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্যভবন সূত্রে খবর ছিল, এ রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ২৪ হাজার। মৃত ২৩। শনিবার মুখ্যসচিব রাজীব সিংহের নেতৃত্বে পর্যালোচনা বৈঠকের পরে রাজ্য সরকার জানাল, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪,৮৫২। স্বাস্থ্যসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ, স্বাস্থ্য অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী ছাড়া এ দিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন কলকাতা পুরসভা, দুই ২৪ পরগনা এবং হাওড়ার প্রতিনিধিরা। গত এক সপ্তাহে কলকাতা পুর এলাকা, হাওড়া গ্রামীণ এবং হুগলির বিস্তীর্ণ এলাকায় ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়েছে। বৈঠকে উপস্থিত এক কর্তার কথায়, ‘‘নতুন  করে তিনটি এলাকায় ডেঙ্গির প্রবণতা বাড়ায় উদ্বেগ রয়েছে।
ওই তিন এলাকা-সহ সর্বত্র সচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

সূত্রের খবর, কলকাতা পুরসভার যে সকল এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে তা হল, পর্ণশ্রী, পিকনিক গার্ডেন, ধাপা, তিনজলা। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর চৌবেরিয়া ১,২। নৈহাটি পুরসভার অন্তর্গত গরিফা, হাজিনগরে এবং খড়দহের রহড়ায় বিশেষ নজর রয়েছে। হুগলির ক্ষেত্রে উদ্বেগের কারণ হল রিষড়া পুরসভা। হাওড়ার ডোমজুড় ব্লক এবং বাঁকড়া ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত।

এই পরিস্থিতিতে বৈঠকে মশার লার্ভা নিধন, জঞ্জাল সাফাই, বাড়ি বাড়ি পরিদর্শনের উপরে জোর দিতে বলা হয়েছে। ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে মগরাহাট ১, ২ এবং মথুরাপুর ১, ২ নম্বর ব্লকে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে পুরসভাগুলির পরিষেবার গতিও বাড়ানোর নির্দেশ দেন মুখ্যসচিব।

আগামী বছরের জন্য ডেঙ্গি পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে কী ভাবে প্রস্তুত থাকা যায়, তার একটি রূপরেখা চান মুখ্যসচিব। নভেম্বরেও যেভাবে একের পর একের ডেঙ্গি আক্রান্ত রোগীর মৃত্যু ঘটছে তাতে চিন্তিত রাজ্য সরকার। এক কর্তার কথায়, ‘‘প্রায় প্রতি বছর ডেঙ্গি প্রকোপ বাড়ার পরে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ করা হয়। সেই পরিস্থিতিরই বদল চাইছে রাজ্য।’’

পরিস্থিতির বদল চেয়ে এ দিন কেএমডিএ’র আবাসনগুলি নিজেরাই পরিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয় উন্নয়ন ভবন। ডেঙ্গি প্রতিরোধ অভিযান নিয়ে কলকাতা পুরসভা ও কেএমডিএ’র মধ্যে চাপান-উতোর নতুন নয়। পুর কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কেএমডিএর নিজস্ব আবাসন ও বাজার পরিষ্কার রাখে না।  অন্য দিকে, কেএমডিএ আগে জানিয়েছিলেন পুরসভার যে পরিকাঠামো রয়েছে তা তাঁদের নেই।

রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‘কেএমডিএ-কে তাদের আবাসনের ভিতরে কাজ করতে হবে। পুরসভা আবাসনের  বাইরে করে। শুধু কেএমডিএ নয়, অন্য দফতর যাতে তাদের বাড়ির ভিতরগুলি পরিষ্কার রাখে সেই বিষয়েও আমি নির্দেশ দিয়েছি।’’