খুনিদের সঙ্গে নিয়ে ঘুরছে পুলিশ, বলরামপুর থানার ওসি-র সঙ্গে কিছুতেই ফোনে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ আনল বিজেপি। বলরামপুরের ওসি তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন, সিবিআই তদন্ত না হলে কিছুতেই আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসবে না। রবিবার বলরামপুর থেকে এমন মন্তব্যও করেছেন রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সায়ন্তন বসু। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করার দাবিতে সোমবার বলরামপুরে ধর্নায় যোগ দিচ্ছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

ত্রিলোচন মাহাতো এবং দুলাল কুমারের মৃত্যুর ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি। দু’জনকেই খুন করা হয়েছে বলে বিজেপির দাবি। কিন্তু দুলাল কুমারের মৃত্যুকে খুন বলে মানতে পুলিশ নারাজ। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট তুলে ধরে পুলিশ জানাচ্ছে, দুলাল কুমার আত্মহত্যা করেছেন।

নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি তুলে লাগাতার ধর্না শুরু করেছে বিজেপি। প্রথমে পুরুলিয়া শহরে ধর্না চলছিল। গত কয়েক দিন ধরে ধর্না চলছে খাস বলরামপুরেই। সায়ন্তন বসু, লকেট চট্টোপাধ্যায়দের মতো রাজ্যস্তরের নেতৃবৃন্দ ধর্না তথা অবস্থান বিক্ষোভে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু বিজেপির লাগাতার কর্মসূচি সত্ত্বেও এখনও কেউ গ্রেফতার হয়নি।

রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বললেন, ‘‘আমরা তো টানা এখানেই (বলরামপুরে) রয়েছি। খবর পাচ্ছি যে, ত্রিলোচন মাহাতোর খুনে অভিযুক্ত ছ’জনকে পুলিশের সঙ্গেই ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। আর পুলিশ বলছে, অভিযুক্তদের কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’’

আরও পড়ুন: রাজ্যে ‘ইদের ছুটি ৫ দিন’ বলে ভুয়ো বিজ্ঞপ্তি

বলরামপুরের ওসি সুজিত হাজরা নিজেই তদন্ত প্রক্রিয়া বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছেন বলে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেছেন। সায়ন্তন বসুর কথায়, ‘‘অভিযুক্তরা এলাকাতেই প্রকাশ্যে ঘুরছে বলে খবর থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেন তাদের খুঁজে পাচ্ছে না? আমরা প্রশ্ন করেছি ওসি-কে। তিনি বলছেন— এটা তো সিআইডি-র কাজ, আমরা কী-ই বা করতে পারি।’’ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অবশ্য ওসি সুজিত হাজরাকে ফোনে ধরাই যাচ্ছে না বলে বিজেপি নেতার দাবি। তিনি বললেন, ‘‘ফোনটায় কিছু একটা করছেন উনি, ঠিক বুঝতে পারছি না। আমরা ফোন করলেই দেখছি ওসি-র ফোন এনগেজ্‌ড।’’

পুলিশ অবশ্য সে সব কথা নস্যাৎ করছে। জেলার এক শীর্ষ পুলিশ কর্তা বলেছেন, ‘‘বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভাবে ভিত্তিহীন। আর এই ভিত্তিহীন অভিযোগের উপর আমরা কোনও মন্তব্য করতে চাই না।’’

বলরামপুরে একটানা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছে বিজেপি। লক্ষ্য প্রশাসনের উপরে চাপ ক্রমশ বাড়ানো। —ফাইল চিত্র।

ত্রিলোচন-দুলালের মৃত্যু নিয়ে প্রশাসনের উপরে চাপ ক্রমশ বাড়ানোর নীতি নিচ্ছে বিজেপি। কলকাতা থেকে পুরুলিয়া— বিজেপি বিক্ষোভ দেখিয়েছে নানা জায়গায়। সায়ন্তন-লকেটরা একটানা পড়ে রয়েছেন পুরুলিয়ায়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়, বিজেপি নেতা মুকুল রায়রা ঘুরে এসেছেন পুরুলিয়া থেকে। সোমবার যাচ্ছেন রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

‘‘পঞ্চায়েত ভোটের আগে খুন হয়েছিলেন জগন্নাথ টুডু। ভোটের পরে খুন হলেন ত্রিলোচন-দুলাল। আমি সোমবার তিন জনের বাড়িতেই যাব। তাঁদের পরিজনদের সঙ্গে কথা বলব। তার পরে ধর্নায় বসব।’’ বললেন দিলীপ ঘোষ।

আরও পড়ুন: মোদীকে পরপর ৩টি চিঠি, মমতার দাবি ১০ হাজার কোটি

রাজ্য সভাপতির সফর উপলক্ষে বলরামপুরে সোমবার বড়সড় জমায়েতের তোড়জোড় শুরু করেছে বিজেপি। রোজই ধর্না মঞ্চ ঘিরে কয়েক হাজারের জমায়েত থাকছে বলে সায়ন্তন বসু জানালেন। সোমবার আরও বেশি লোকজন আনা হবে বলে খবর। চলতি মাসের শেষেই বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের বলরামপুর যাওয়ার কথা। দিলীপ ঘোষের পুরুলিয়া সফর থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাবে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে।

ভোটের পরে দলের দুই কর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় বিজেপি দ্বিমুখী কৌশল নিচ্ছে বলে ৬ নম্বর মুরলীধর সেন লেন সূত্রের খবর। এক দিকে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের তীব্রতা বাড়িয়ে ক্রমাগত চাপ বাড়ানো হবে জেলা প্রশাসনের উপরে। অন্য দিকে আদালতের দ্বারস্থ হয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ আদায়ের চেষ্টা হবে। সেই প্রক্রিয়ায় বিজেপির অন্যতম নিশানা এখন বলরামপুর থানার ওসি।