উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে আক্রান্ত হলেন অভিনেত্রী রিমঝিম এবং রূপাঞ্জনা। সঙ্গে আক্রান্ত হলেন বিজেপি নেতারাও। নদিয়ার করিমপুরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অভিযোগ পাওয়ার পরে বিজেপির-ই এক স্থানীয় নেতাকে তুলে নিয়ে গিয়ে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ‘ভুয়ো বয়ান’ দিতে পুলিশ বাধ্য করেছে বলে বিজেপি অভিযোগ করতে শুরু করেছে।

রিমঝিম, রূপাঞ্জনারা বেশ কিছু দিন আগেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। করিমপুরের উপনির্বাচনে বিজেপির হয়ে লড়ছেন দলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার। তাঁর সমর্থনে মঙ্গলবার দোগাছি সব্জি হাট এলাকায় সভা করতে গিয়েছিলেন রিমঝিম ও রূপাঞ্জনা। সঙ্গে ছিলেন দলের রাজ্য স্তরের নেতা অনল বিশ্বাস। সেই সভা শেষ হতেই তৃণমূল হামলা চালায় বলে বিজেপি দাবি।

আক্রান্ত বিজেপি নেতা অনল বিশ্বাস এ দিন বলেন, ‘‘যেখানে আমরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সভা করতে গিয়েছিলাম, সেটা সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা। ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এই রকম একটা এলাকাতেও যে আমাদের সভায় ভিড় উপচে পড়বে, তা তৃণমূল ভাবতে পারেনি। ভিড় দেখে ভয় পেয়েই হামলা চালিয়েছে।’’ অনলের কথায়, ‘‘আমাদের সভা যেখানে হচ্ছিল, তার কাছেই একটা জায়গায় তৃণমূলের বুথ কমিটির বৈঠক চলছিল। আমাদের সভার ভিড়ের কথা জানতে পেরে ওঁরা সেই বৈঠক বন্ধ করে সভাস্থলে চলে আসেন। তত ক্ষণে আমাদের সভা শেষ হয়েছে। আমরা মঞ্চ থেকে নামতেই তৃণমূলের লোকজন ঝাঁপিয়ে পড়ে।’’

আরও পড়ুন: এনআরসিতে কোনও ধর্ম টার্গেট নয়, রাজ্যসভায় বললেন অমিত, একই সঙ্গে শোনালেন নতুন নাগরিকত্ব বিলের কথাও​

এতেই শেষ নয় বলে বিজেপি জানাচ্ছে। রিমঝিম, রূপাঞ্জনারা ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রহ্লাদ সরকারকে তৃণমূলের লোকজন মারধর করে বলে বিজেপির অভিযোগ। করিমপুর থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ প্রহ্লাদকে উদ্ধার করে। কিন্তু তার পরে সুমিতকুমার ঘোষ নামে এক সাব-ইনস্পেক্টর প্রহ্লাদকে গাড়িতে তুলে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে ভুয়ো বয়ান দিতে বাধ্য করেন বলে অনল বিশ্বাসের দাবি। তাঁর কথায়, ‘‘ওকে কেউ মারেনি, ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে ও চোট পেয়েছে— প্রহ্লাদকে প্রথমে এই বয়ান দিতে বাধ্য করা হয়।’’

আহত বিজেপি কর্মী। —নিজস্ব চিত্র।

আরও পড়ুন: কালো পতাকা, ‘গো ব্যাক’ স্লোগান, ডোমকলে ঢুকতেই বিক্ষোভ রাজ্যপালের কনভয় ঘিরে

উপনির্বাচনের জন্য করিমপুরে যাঁকে পুলিশ অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, তাঁর কাছে করিমপুরের ওই সাব-ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলে রিমঝিম বলেছেন, ‘‘যখন অত বড় গোলমালটা হচ্ছে, তখন পুলিশ পুরোপুরি দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে।’’ তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখছে যে, আমাদের উপরে হামলা হচ্ছে। কিন্তু এক বারের জন্য গোলমালটা থামাতে এগিয়ে আসেনি।’’ তাঁর মতো পরিচিত মুখকেও যদি পুলিশের সামনে ‘এত বড় হেনস্থা’র মুখে পড়তে হয়, তা হলে পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু? প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপি নেত্রী তথা অভিনেত্রী।

তৃণমূল অবশ্য হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, হার নিশ্চিত বুঝে সহানুভূতির হাওয়া তুলতে চাইছে বিজেপি।