আমানতকারীদের টাকা ফেরত না-দেওয়ায় বেশ কয়েকটি অর্থ লগ্নি সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে সিবিআই এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। কিন্তু ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও লগ্নি সংস্থা অ্যালকেমিস্ট-এর বিরুদ্ধে এখনও সিবিআই তদন্ত শুরু হয়নি।

অ্যালকেমিস্টের বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্ত আদৌ হবে কি না, রাজ্য সরকারের কাছে কলকাতা হাইকোর্ট তা জানতে চেয়েছে। এবং উচ্চ আদালত তদন্তের কথা জানতে চেয়েছে শুনেই ওই লগ্নি সংস্থা আদালতে জানিয়ে দিল, তারা আমানতারীদের টাকা ফেরত দিতে চায়। আমানতকারীরা তাঁদের লগ্নির যাবতীয় নথি আদালতে পেশ করুন।

আরও পড়ুন: উন্নয়ন ফি মকুবের ভাবনা মুখ্যমন্ত্রীর

বিভিন্ন অর্থ লগ্নি সংস্থার আমানতকারীরা কবে কী ভাবে তাঁদের টাকা ফেরত পাবেন, তা নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি অনিরুদ্ধ বসু ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চে মামলা চলছে। সোমবার সেই মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কৌঁসুলির কাছে জানতে চায়, অ্যালকেমিস্টের বিরুদ্ধে সিবিআই-কে দিয়ে তদন্ত চালানোর প্রয়োজন আছে কি না। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্য সরকারকে তা জানানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। সরকারকে আদালতের নির্দেশের কথা শুনে অ্যালকেমিস্টের আইনজীবী মেঘাজিৎ মুখোপাধ্যায় আদালতে জানান, আমানতকারীরা তাঁদের লগ্নির ব্যাপারে সব তথ্য-সহ নথিপত্র আদালতে জমা দিলে সংস্থা তাঁদের টাকা ফেরত দিয়ে দেবে।

বিভিন্ন লগ্নি সংস্থা সম্পত্তি বেচে টাকা ফিরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাস জানান, নোট বাতিল পর্বের ডামাডোল এবং জিএসটি বা পণ্য পরিষেবা কর আরোপের পরে দ্বিতীয় বার নিলাম ডাকা সত্ত্বেও অর্থ লগ্নি সংস্থা এমপিএস-এর সম্পত্তি কিনতে আগ্রহী হয়নি কেউ। এমপিএসের আমানতাকারীদের টাকা ফেরত দিতে হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি মঞ্জুলা চেল্লুর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শৈলেন্দ্রপ্রসাদ তালুকদারের নেতৃত্বে এক সদস্যের একটি কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন। সেই কমিটি দ্বিতীয় বার নিলাম ডেকেও সম্পত্তির ক্রেতা পায়নি। ওই আইনজীবীরা জানান, সুপ্রিম কোর্ট ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছে, আমানতকারীদের টাকা ফেরত না-দেওয়ায় এমপিএসের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। আর আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে হবে হাইকোর্টের তরফে নিযুক্ত কমিটির মাধ্যমেই। এই পরিস্থিতিতে আদালতের কাছে অ্যালকেমিস্টের টাকা ফেরতের আশ্বাসের বিষয়টি অন্য লগ্নি সংস্থার আমানতকারীদের আশার আলো দেখাবে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

আইনজীবী শুভাশিসবাবু অবশ্য জানান, কবে, কত দিনের মধ্যে অ্যালকেমিস্ট টাকা ফেরত দেবে, ওই সংস্থার আইনজীবী আদালতে তা জানাননি। ২০ সেপ্টেম্বর, মামলার পরবর্তী শুনানির দিনে ওই লগ্নি সংস্থার কাছে জানতে চাওয়া হবে, কত দিনের মধ্যে আমানতকারীরা লগ্নির টাকা ফেরত পাবেন।

ইডি ডিভিশন বেঞ্চে জানিয়েছে, তারা অর্থ লগ্নি সংস্থা রোজ ভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরাতে গঠিত বিচারপতি দিলীপ শেঠের কমিটির বিরুদ্ধে আর মামলা লড়তে চায় না। তার ফলে ওই কমিটিও আমানতাকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী অরিন্দমবাবু।