বছর আড়াই আগে নতুন শিক্ষা আইনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যে-মামলা হয়েছে, তার নিষ্পত্তির আগেই ব্যারাকপুরের রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের দুই শিক্ষককে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের উপরে শুক্রবার স্থগিতাদেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। 

২০১৭ সালের শিক্ষা আইন বৈধ কি না, সেই প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে আগেই মামলা করেছে রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘ওয়েবকুটা’। তা সত্ত্বেও ওই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের গণিতের শিক্ষক শ্রীমন্ত সিংহরায় ও ইতিহাসের শিক্ষক পঙ্কজকুমার মণ্ডলকে বদলির নির্দেশ দেয় উচ্চশিক্ষা দফতর। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দুই শিক্ষক মামলা করেন। তার শুনানিতে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এ দিন জানান, জানুয়ারি পর্যন্ত ওই বদলির উপরে স্থগিতাদেশ বজায় থাকবে।

ওয়েবকুটা-র সভাপতি শুভোদয় দাশগুপ্ত জানান, নতুন আইনে বলা আছে, সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলির শিক্ষা ব্যবস্থা ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে রাজ্য সরকারের হাতে। নতুন আইনের ১৮ নম্বর ধারা জানাচ্ছে, ওই সব কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকারা বদলিও হবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় রাজ্যের এ-হেন হস্তক্ষেপ এবং বদলি নীতিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে ২০১৭ সালেই মামলা করেন শুভোদয়বাবু-সহ সংগঠনের ২৭ জন সদস্য।

সেই মামলার আবেদনকারীদের কৌঁসুলি কল্লোল বসু জানান, দু’বছর ধরে বিভিন্ন শুনানিতে সরকারকে বক্তব্য জানিয়ে হলফনামা পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সরকার হলফনামা দেয়নি। রাজ্যের আইনজীবী ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি প্রতীকপ্রকাশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে মুচলেকা দেন, মামলার নিষ্পত্তির আগে সাহায্যপ্রাপ্ত কোনও কলেজের শিক্ষক বা শিক্ষিকাকে বদলি করা হবে না।

রাজ্যের আইনজীবীর মুচলেকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রগুরু সুরেন্দ্রনাথ কলেজের গণিতের শিক্ষক শ্রীমন্ত সিংহরায় এবং ইতিহাসের শিক্ষক পঙ্কজকুমার মণ্ডলকে ৩০ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে হুগলির তারকেশ্বর ডিগ্রি কলেজ এবং হাওড়ার রামসদয় কলেজে বদলি করা হয়েছে। বদলির নির্দেশকে অবৈধ অ্যাখ্যা দিয়ে তাঁরা মামলা করেছেন।

দুই শিক্ষকের আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও অমিয় দত্ত এ দিন আদালতে জানান, শ্রীমন্তবাবু ১৯৯৮ এবং পঙ্কজবাবু ২০০৮ সালে নিয়োগপত্র পান। কলেজ সার্ভিস কমিশনের (সিএসসি) সুপারিশে তাঁদের নিয়োগ করেছিল কলেজের পরিচালন সমিতি। নিয়োগপত্রে বদলির কথা ছিল না। তা ছাড়া বদলি করার এক্তিয়ারই নেই যুগ্মসচিবের। তা শুনে বিচারপতি চক্রবর্তী সরকারি আইনজীবী তপন মুখোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘‘বদলির একটা কারণ থাকবে তো? সেটা কী?’’

সরকারি কৌঁসুলি জানান, যে-দুই কলেজে ওই দুই শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে, সেখানে সংশ্লিষ্ট বিভাগে পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। পড়ুয়ারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের কৌঁসুলি বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য জানান, ওই দুই শিক্ষককে ৩১ অক্টোবর ‘রিলিজ অর্ডার’ দেওয়া হয়েছে। তা শুনে বিচারপতি চক্রবর্তী মন্তব্য করেন, ‘‘বদলি নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে। তার নিষ্পত্তি হওয়ার আগে ‘রিলিজ অর্ডার’ বার করা উচিত হয়নি।’’ বিচারপতি সব পক্ষকে হলফনামা পেশের নির্দেশ দিয়ে জানান, মামলার চূডান্ত শুনানি হবে জানুয়ারিতে।

ওয়েবকুটা-র সভাপতির অভিযোগ, জনস্বার্থে বদলির কথা বলা হয়েছে নতুন শিক্ষা আইনে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, কায়েমি স্বার্থ ও ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতে বদলি করা হচ্ছে।