রোজভ্যালি মামলায় এ বার প্রযোজক শ্রীকান্ত মোহতাকে জেরা করল সিবিআই। বুধবার তাঁকে সিবিআই ডেকে পাঠায়। বেলা তিনটে নাগাদ তিনি সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে সিবিআই দফতরে হাজির হন।

এর আগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র তদন্তেও এই চলচ্চিত্র প্রযোজকের নাম উঠেছিল। রোজভ্যালি নিয়ে সিবিআই তদন্তের সময়ে ইডি যে তাঁদের তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছিল সিবিআইকে, সেখানে শ্রীকান্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।

সিবিআই সূত্রে খবর, রোজভ্যালি গোষ্ঠীর টেলিভিশন চ্যানেলের সঙ্গে ২০১০ সালে শ্রীকান্তের শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্-র একটি চুক্তি হয়েছিল। সেই চুক্তি অনুযায়ী ওই প্রযোজনা সংস্থা রোজভ্যালির চ্যানেলকে ২৫ কোটি টাকার বিনিময়ে ৭০টি ছবি রোজভ্যালির চ্যানেলে দেখানোর স্বত্ত্ব বিক্রি করে।

আরও পড়ুন: অভিষেকের মামলা, অমিত শাহকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টের সমন

মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুকে দেখতে হাসপাতালে মমতা

সেই সময় শ্রীকান্ত মোহতা এবং তাঁর কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন রোজভ্যালি কর্ণধার। তিনি জানিয়েছিলেন, যে চুক্তি অনুযায়ী ৭০টি ছবির বদলে মাত্র ৩০টি ছবি দিয়েছেন শ্রীকান্ত। রোজভ্যালি আদালতে জানিয়েছিল, চুক্তি অনুযায়ী সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিও দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু যে তিরিশটি ছবি শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস্ দিয়েছিল তার মধ্যে অধিকাংশই ছিল পুরনো।

সিবিআই সূত্রে খবর, এ দিন ওই প্রযোজককে চুক্তি এবং কী ভাবে টাকার লেনদেন হয়েছিল সেই বিষয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে জেরা করেন সিবিআই আধিকারিকরা। তাঁকে সেই চুক্তি সংক্রান্ত নথিও সিবিআইকে জমা দিতে বলা হয়।

ওই চুক্তির পিছনে কার কী ভূমিকা ছিল সেটাও দেখছেন গোয়েন্দারা। কারণ, এর আগে তৃণমূল সাংসদ তাপস পালকে জেরার সময়ও এই চুক্তি প্রসঙ্গ উঠে এসেছিল। শ্রীকান্ত এবং গৌতম কুণ্ডুর বাইরেও এই চুক্তিতে আরও কিছু ব্যক্তি লাভবান হয়েছেন বলে জানতে পেরেছে সিবিআই। সেই কারণেই এ দিন শ্রীকান্তকে জেরা করা হয় বলে জানিয়েছেন সিবিআই আধিকারিকরা।