উড়ান-বিভ্রাট পিছু ছাড়ছে না তাঁর! এর আগে শহরের আকাশে এসেও বিমানজটের কারণে তাঁকে নিয়ে নামতে দেরি করেছে বিমান। ক্ষুব্ধ হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পরে তাঁকে নিয়ে বিমান যাতে সময় মতো নেমে আসে, তার নজরদারি করতে পুলিশ পৌঁছে গিয়েছে কলকাতা বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)-এ। বিষয়টিকে তাঁরা ভাল চোখে দেখেননি বলে জানান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান গুরুপ্রসাদ মহাপাত্র। যদিও শুক্রবারেও মুখ্যমন্ত্রীর বিমান ঠিক মতো নামছে কি না, তা দেখার জন্য দুই পুলিশ অফিসার হাজির ছিলেন এটিসি-তে।

এ দিন মূল সমস্যা হয় বাগডোগরায়। বাগডোগরা বিমানবন্দরের অধিকর্তা রাকেশ সহায় জানান, বিকেল চারটে নাগাদ ১৮০ জন যাত্রী নিয়ে ইন্ডিগোর বিমানটির সেখানে নামার কথা ছিল। সেই বিমানে কলকাতায় ফেরার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। ইন্ডিগোর ১০ মিনিট আগে কলকাতা থেকে গিয়ে বাগডোগরায় নামে জেট-এর বিমান। তার পরেই শুরু হয় ঝোড়ো হাওয়া। বাগডোগরায় নামতে না পেরে বিমান নিয়ে গুয়াহাটি উড়ে যান ইন্ডিগোর পাইলট। বাগডোগরা বিমানবন্দরে আটকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীকে প্রথমে স্পাইসজেটের বিমানে আনার চেষ্টা করা হয়। তবে সেখানে আসন ছিল না। পরে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে এয়ার এশিয়া ইন্ডিয়ার উড়ানে মুখ্যমন্ত্রী কলকাতায় ফেরেন। গুয়াহাটি চলে যাওয়া ইন্ডিগোর বিমানটি বাগডোগরায় ফেরে সাড়ে ৬টায়।

মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কলকাতায় নামার সময়ে এ দিনও বিমানকে আকাশে চক্কর কাটতে হল কি না, তা দেখতে এটিসি-তে আবার পুলিশ গেল কি না, তা নিয়েও কৌতুহল ছিল। কলকাতা বিমানবন্দর সূত্রের খবর, প্রধান রানওয়ে চালু থাকলে আকাশে বিমানজট হয় না। প্রতি সোম, বুধ ও শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টে পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয় প্রধান রানওয়ে। ওই সময়ে শহরের মাথায় এসেও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে নামতে হয় বিমানকে।

গত ৯ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার সেই কারণেই আকাশে চক্কর কাটতে হয় মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে আসা বিমানকে। এর পরে আবার একটি শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, মুখ্যমন্ত্রী নামার আগেই পুলিশ গিয়ে বসে থাকে এটিসিতে। সে দিন প্রধান রানওয়ে চালু থাকায় অসুবিধা হয়নি।

এই শুক্রবার, দুপুর সাড়ে ৩টের জায়গায় ১টা ৫০ মিনিটের পর থেকেই প্রধান রানওয়ে চালু করে দেওয়া হয়। ফলে, সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে নির্বিঘ্নে নেমে আসে বিমান।