লোকসভা ভোটে খারাপ ফলের পরে জনসংযোগ বাড়াতে সাধারণ মানুষের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা সম্বলিত ছাপানো চিঠি বিলি করেছিল তৃণমূল। এ বার দলের সমাবেশকে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে চিঠি বিলি করছে সিপিএম। 

জেলা সিপিএমের এক সূত্রে খবর, বাড়ি বাড়ি বিলির জন্য ৫০ হাজারের বেশি চিঠি ছাপানো হয়েছে। চিঠি বিলির ফাঁকে জনসংযোগ সেরে নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে কর্মীদের। সিপিএমের জেলা সম্পাদক তরুণ রায় বলেন, ‘‘সমাবেশকে সামনে রেখে বাড়ি বাড়ি চিঠি বিলি শুরু হয়েছে।’’ সিপিএমের এক এরিয়া কমিটির সম্পাদকের কথায়, ‘‘ইতিমধ্যে আমরা অনেক বাড়িতে গিয়ে চিঠি দিয়ে এসেছি।’’ 

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর মেদিনীপুর শহরে পঞ্চুরচকে সিপিএমের সমাবেশ রয়েছে। প্রধান বক্তা দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। মেদিনীপুরে এর আগেও বড় সমাবেশ করেছে সিপিএম। এসেছেন জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রমুখ। তবে দলের সমাবেশকে সামনে রেখে এ ভাবে কখনও বাড়ি বাড়ি চিঠি বিলি হয়নি। সেই হিসেবে এই উদ্যোগ অভিনব তো বটেই। দলের সমাবেশে আসুন—এই আবেদন জানিয়ে চিঠিতে তৃণমূল ও বিজেপি- দু’দলকেই সমান আক্রমণ করা হয়েছে। চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘নীতিহীন- কর্মসূচিহীন- দিশাহীন- দেউলিয়া একটি দলের হাতে এ রাজ্যের শাসনভার।’ লেখা রয়েছে, ‘রাজ্যে তৃণমূল আর দুর্নীতি সমার্থক। বাংলার মাটিতে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে খাতির করে এনেছে তৃণমূল।’ 

সিপিএমের এই চিঠি বিলির কৌশলকে তৃণমূল ও বিজেপি দু’দলই কটাক্ষ করেছে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির টিপ্পনী, ‘‘এখন সিপিএম আর আছে কোথায়!’’ বিজেপির জেলা সভাপতি শমিত দাশের খোঁচা, ‘‘তৃণমূলই তো সিপিএমকে অক্সিজেন দিচ্ছে!’’ জেলা সিপিএমের এক নেতার দাবি, "দলের সমাবেশে অন্তত ৫০ হাজার মানুষের জমায়েত হবে।"

শেষ পর্যন্ত চিঠি পেয়ে কত মানুষ ভিড় করেন সিপিএমের এই সমাবেশে— এখন সেটাই দেখার!