তৃণমূলের জনসংযোগে জোয়ার আনতে কোনও পথই বাদ রাখছেন না ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। নেতা-মন্ত্রীদের গ্রামে গ্রামে ঘোরার নিদানের পাশাপাশি প্রচার চলছে সমাজমাধ্যমেও। সেই লক্ষ্যে ‘আমার গর্ব মমতা’ নামে ফেসবুক পেজও খোলা হয়েছে। সেই ধাঁচে এ বার খোলা হচ্ছে জেলা ভিত্তিক ফেসবুক পেজ। প্রতিটি পেজের সঙ্গে জুড়ে থাকছে সংশ্লিষ্ট জেলার নাম। যেমন, পশ্চিম মেদিনীপুরের ক্ষেত্রে পেজের নাম ‘পশ্চিম মেদিনীপুরের গর্ব মমতা’, ঝাড়গ্রামের ক্ষেত্রে ‘ঝাড়গ্রামের গর্ব মমতা’। জেলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, ‘পিকে’র নতুন প্রেসক্রিপশন এটাই। 

তৃণমূলের এক সূত্রে খবর, ফেসবুকে ‘আমার গর্ব মমতা’ পেজটি খোলা হয়েছিল গত জুলাইয়ে। অগস্টের গোড়ায় পেজটি নতুন কলেবরে প্রকাশ্যে আসে। ওই পেজে আমজনতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য কেন গর্ববোধ করেন? ইতিমধ্যে বহু মানুষ তাঁদের মতামত জানিয়েছেন। ভিডিয়োয় মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। সেই সূত্রে জেলার আবেগ উস্কে আলাদা আলাদা ফেসবুক পেজ খোলা হচ্ছে। ঠিক হয়েছে, ‘দিদিকে বলো’-সহ জেলায় তৃণমূলের যে সব কর্মসূচি হচ্ছে, তার ছবি, ভিডিয়ো জেলার পেজে পোস্ট করা হচ্ছে।

তৈরি হয়েছে পেজ। নিজস্ব চিত্র

‘পশ্চিম মেদিনীপুরের গর্ব মমতা’ পেজটি তো ‘টিম পিকে’ই তৈরি করেছে? সদুত্তর এড়িয়ে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘জেলায় আমরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারে গুরুত্ব দিচ্ছি। দলের সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপও গঠন করা হয়েছে। এই গ্রুপ দলের সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করবে।’’ মেদিনীপুরের তৃণমূল কর্মী সুশোভন মাইতি বলছেন, ‘‘পশ্চিম মেদিনীপুরের গর্ব মমতা পেজটিতে দলের কর্মসূচির ছবি পোস্ট করা হচ্ছে বলে দেখছি। জেলার নামে পেজ হলে আলাদা টান থাকবেই।’’

‘দিদিকে বলো’র পরে ‘আমার গর্ব মমতা’ নামে নতুন প্রচারাভিযান শুরুর পরে তৃণমূলের তরফে একটি ট্যুইটার পেজ চালু করা হয়েছে বলে দলেরই এক সূত্রে খবর। জেলার নামের পেজগুলিতে এ-ও জানানো হচ্ছে, ‘জন্ম থেকে মৃত্যু-জীবনের প্রতি পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মানুষের পাশে, মানুষের সাথে’।