উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে চলতি সপ্তাহের মঙ্গলবার টিলাবাড়ি পর্যটন কেন্দ্রে রাত কাটান মুখ্যমন্ত্রী। আর সেখানেই চার বার আলো চলে যায় বলে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, এই ঘটনায় মালবাজারের ডিভিশন্যাল ম্যানেজার ও সহকারী ইঞ্জিনিয়ার (টেকনিক্যাল)-কে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হচ্ছে। এ ছাড়াও জলপাইগুড়ির রিজিওনাল ম্যানেজারকে বদলি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর মতো ভিআইপি থাকার সময় যাতে কোনও ভাবেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট না হয় তা দেখার দায়িত্ব তাঁদের উপরে ছিল। কিন্তু ৩০ ও ৩১ অক্টোবর মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় একাধিক বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। যে কারণে এঁদের বিরুদ্ধে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ আনা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডিভিশনাল ম্যানেজারকে মালবাজারে ওই পদে পাঠানো হচ্ছে।

সূত্রের খবর, এও সিদ্ধান্ত হয়েছে, চিফ ইঞ্জিনিয়ার পদমর্যাদার এক জনকে বিদ্যুৎ ভবন থেকে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হচ্ছে, যিনি  ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট দেবেন। বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী যে পর্যটন কেন্দ্রে ছিলেন, সেখানকার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকাঠামো, জেনারেটরের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় সুইচ বক্স ছিল কি না, মুখ্যন্ত্রীর ঘরে ইনভার্টার ছিল কি না, তদন্ত করে দেখা হবে।

মঙ্গলবারের ঘটনার পরে বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী যে সমস্যার কথা বলেছেন তা তদন্ত করে দেখা হবে। দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি । 

লোডশেডিংয়ের ঘটনায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে বলেছিলেন, ‘‘হয় দফতরে সর্বক্ষণ রাজনীতি চলছে, নয়তো চূড়ান্ত গাফিলতি চলছে।’’ গত দেড়-দু’বছর ধরেই সরকারি বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে শাসক দলেরই ইউনিয়নের মধ্যে অশান্তি ও তীব্র মতবিরোধ চলছে, সে খবর মুখ্যমন্ত্রীর অজানা নয়। যা নিয়ে অনেক সময়ই বিদ্যুৎ দফতরে কাজের ক্ষতি হচ্ছে বলে নবান্নের কাছেও খবর পৌঁছেছে।   

রাজ্যে বিদ্যুতের কোনও অভাব না থাকলেও কেন পর্যটন কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটল, তা নিয়ে বুধবার থেকেই প্রশাসনের অন্দরমহলে আলোচনা চলছে। এই ঘটনার সূত্র ধরেই প্রাথমিক তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।