এ যেন আস্ত একটা ট্রেনকেই চ্যালেঞ্জ করে বসল বুনো হাতি। মঙ্গলবার সকালে তারই সাক্ষী থাকল মহানন্দা অভয়ারণ্য।

রেল লাইন ঘেঁষে হাতি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে প্রায় পনেরো মিটার আগেই এমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন চালক। কিন্তু তা দেখে ভ্রুক্ষেপ নেই গজরাজের। উল্টে ট্রেনের দিকে তেড়ে গিয়ে ইঞ্জিনে গুঁতো দিতে শুরু করে দিয়েছে সে। ইতিমধ্যেই হাতির ছবি মোবাইল বন্দি করতে ট্রেনের কামরা থেকে নেমে পড়েছেন কয়েক জন যাত্রী। এই অবস্থায় নিজেরা বাঁচবেন না ওই যাত্রীদের বাঁচাবেন এই ভেবে ট্রেনটির দুই চালক বাজিয়ে দিলেন হর্ন। আর তাতেই হল কাজ। হর্নের তীব্র শব্দ কানে পৌঁছতেই কিছুটা ঘুরে গিয়ে ট্রেন থেকে সরতে শুরু করল সে।

মঙ্গলবার সকালের এই ঘটনার পর ট্রেনের চালক বিপ্লবকান্তি দাসের প্রতিক্রিয়া, ‘‘উফঃ কী অভিজ্ঞতা! পনেরো বছর ধরে ট্রেন চালাচ্ছি। জঙ্গলের পথে এই নিয়ে পাঁচ বার এমার্জেন্সি ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড় করিয়ে হাতি বাঁচালাম। কিন্তু আজকের ঘটনা আগে কখনও হয়নি। এই দিনটা কোনদিনই ভুলতে পারব না।’’

রেল সূত্রের খবর, ধুবুরিগামী এই ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি এদিন সকাল ৬টা ৪০মিনিট নাগাদ মহানন্দা অভয়ারণ্যের অধীনে সেবক স্টেশনের আগে পৌঁছলে আচমকাই ট্রেনের চালক বিপ্লবকান্তি ও সহকারী চালক নবীনকুমার সিংহের নজরে পড়ে একটি হাতি রেললাইন ঘেষে দাঁড়িয়ে রয়েছে। জায়গাটি হাতির করিডর হওয়ায় সেই সময় ট্রেনের গতি ছিল মাত্র ত্রিশ কিলোমিটার। তবুও ঝুকি না নিয়ে এমার্জেন্সি ব্রেক কষেন ট্রেনের চালকরা। হাতি থেকে মাত্র পনেরো মিটার দূরে ট্রেন দাঁড়ায়। এরপরই হাতিটি ট্রেনের দিকে তেড়ে যায়।