বিভিন্ন বেসরকারি চ্যানেলের শো-এ ছোটদের নাচের ঝলক টিআরপি বৃদ্ধির অন্যতম উপাদান। এমতাবস্থায় মঙ্গলবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের পরামর্শ ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। সেখানে সমস্ত বেসরকারি চ্যানেলগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে, অশালীন, ইঙ্গিতময়, এবং বয়সের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ নয়, এমন বিষয় ছোটদের রিয়েলিটি শো থেকে এড়িয়ে চললে ভাল।

রিয়েলিটি শো-র মঞ্চে বিভিন্ন জনপ্রিয় সিনেমার গানের দৃশ্য হুবহু অনুকরণ করে ছোটরা। সেই বিষয়ে  মন্ত্রক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ধরনের নাচ অনেক ক্ষেত্রেই যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ। যা ছোটদের বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। তাই বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলিকে ১৯৯৫ সালের কেবল টেলিভিশন নেটওয়র্কস (রেগুলেশন) আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মন্ত্রক। সমস্ত রিয়েলিটি শোয়ের ক্ষেত্রেই অধিকতর সতর্কতার পাশাপাশি সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কিন্তু অশালীনতার মাপকাঠি কী, প্রশ্ন তুলেছেন পরিচালক রাজ চক্রবর্তী। কেরিয়ারের শুরুতে একাধিক রিয়েলিটি শো পরিচালনা করেছেন তিনি। ছোটদের নাচের অনুষ্ঠানও পরিচালনা করেছেন। 

রাজ বললেন, ‘‘আমরা তো বরাবরই সতর্ক থাকতাম, যাতে কিছু কুরুচিপূর্ণ মনে না হয়। ছোটরা তো নিজেদের নাচের দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও আপলোড করে। অতএব অভিভাবকেরাই ঠিক করুন না, তাঁদের সন্তানেরা কী করবে।’’ পাশাপাশি সমস্ত চ্যানেল কর্তাদের সঙ্গে বসেই এই নিয়ে কেন্দ্র দিকনির্দেশ তৈরি করুক, মত রাজের।

তবে কেন্দ্রের বক্তব্যে ভুল দেখছেন না নৃত্যশিল্পী তনুশ্রীশঙ্কর। তাঁর মন্তব্য, ‘‘বড়রা যদি ছোটদের মতো আচরণ করেন, সেটা যেমন বেমানান, তেমনই ছোটদেরও বড়দের মতো নাচ-পোশাক থেকে দূরে রাখাই বাঞ্ছনীয়। একাদশ শ্রেণির নীচের কোনও পড়ুয়াকে এ ধরনের অনুষ্ঠানে যুক্ত করা ঠিক নয়।’’

ছোটদের এক জনপ্রিয় রিয়েলিটি শোয়ের অন্যতম বিচারক তথা অভিনেতা অঙ্কুশ আবার একমত রাজের সঙ্গেই। তিনি বলেছেন, ‘‘আমি মনে করি, নাচ নয়, ছোটদের অকালপক্ক হয়ে ওঠার কারণ কিন্তু অন্য। এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে বিধিনিষেধ এলে ছোটদের প্রতিভা বিকাশের পথও আটকে যাবে।’’

কেন্দ্রের উদ্বেগকে সময়োচিত বলে মনে করেন মনোবিদ জয়রঞ্জন রাম। তিনি বলেন, ‘‘এখন যে সব গান বেশি জনপ্রিয়, সেগুলি অধিকাংশই আইটেম নম্বর। যা মূলত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। তবে আমার মনে হয়, প্রযোজকদের চেয়েও বরং অভিভাবকদেরই চিন্তাভাবনায় ভ্রান্তি বেশি থেকে যাচ্ছে। এই পরামর্শ তাঁদের কাছেও বার্তা।’’