ওঁদের হাতে আছে স্কুল সার্ভিস কমিশন বা এসএসসি-র দেওয়া সুপারিশপত্র। কোন প্রার্থী কোন স্কুলে এবং কী পদে চাকরি পাচ্ছেন, সেটাও লেখা আছে সেই চিঠিতে। 

অভিযোগ, চাকরির সুপারিশপত্রের পরের ধাপ হিসেবে যে-নিয়োগপত্র পাওয়ার কথা, সেটাই তাঁরা পাচ্ছেন না। তাই শেষ পর্বে পৌঁছেও মিলছে না চাকরি।

ওই চাকরিপ্রার্থীদের সকলেরই বাবা বা মা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। কর্মরত অবস্থায় তাঁদের মৃত্যু হওয়ায় পোষ্য হিসেবে ওই প্রার্থীদের ‘কমপ্যাশনেট গ্রাউন্ড’ বা সহমর্মিতার খাতিরে স্কুলের গ্রুপ সি বা গ্রুপ ডি পদে চাকরি পাওয়ার কথা। 

রাজ্য জুড়ে এই ধরনের অন্তত ৫০০ প্রার্থীর অভিযোগ, মা বা বাবার মৃত্যু হয়েছে ১০ বছর বা তারও আগে। কিন্তু এখনও চাকরি মেলেনি। বছরের পর বছর এসএসসি-র দফতরে ঘুরে ঘুরে জুতোর সুখতলা ক্ষয়ে গিয়েছে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। বিকাশ ভবনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করেও কোনও সমাধানসূত্র মিলছে না। 

হাওড়ার আমতার কৃষ্ণেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা মারা যান ২০১২ সালে। পোষ্য হিসেবে কৃষ্ণেন্দুর চাকরি পাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয় চার বছর পরে। ২০১৮ সালের মার্চে এসএসসি-র সুপারিশপত্র হাতে পান তিনি। কিন্তু এখনও চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। 

২০১৩ সালে মারা গিয়েছেন বর্ধমানের প্রদীপ রায়চৌধুরীর মা। নথি যাচাইয়ের পরে তাঁকে চাকরির সুপারিশপত্র দেওয়া হয় ২০১৮ সালের মার্চে। কিন্তু চাকরিতে যোগ দিতে পারেননি। এই ধরনের চাকরিপ্রার্থীরা অনেক বার বিকাশ ভবনে ধর্না দিয়েছেন। কয়েক জন প্রার্থীর বয়স পঞ্চাশ পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু এখনও চাকরি পাননি। 

শিক্ষামন্ত্রী কয়েক দিন আগেই জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির দ্রুত সমাধান করা হবে। প্রার্থীদের অভিজ্ঞতা, এর আগেও তাঁরা এমন আশ্বাসবাণী শুনেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয়নি।