‘নিশিদিশি দাঁড়িয়ে আছ মাথায় লয়ে জট... ওগো প্রাচীন বট!’

৭০-৮০ বছরের পুরনো এমনই এক বটগাছ বাঁচাতে পঞ্চায়েত-প্রশাসন, বন দফতরে জানানোর পাশাপাশি ফোন গেল ‘দিদিকে বলো’-য়। ঘটনাস্থল পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতা।

রাজ্যবাসী যাতে নানা সমস্যা সরাসরি জানাতে পারেন, সে জন্যই তৃণমূলের তরফে চালু করা হয়েছে ‘দিদিকে বলো’র হেল্পলাইন নম্বর। সরকারি ভাতা না পাওয়া, বেহাল রাস্তা, পথবাতির অভাব, নিকাশি সমস্যার মতো নানা অভাব-অভিযোগ সেখানে জানানোও হচ্ছে। এ বার প্রাচীন বট বাঁচাতে ‘দিদিকে বলো’র শরণাপন্ন হওয়া শোরগোল ফেলেছে।  

গড়বেতা ১ ব্লক অফিস থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে সরকারি রাস্তার পাশেই রয়েছে পুরনো ওই বট৷ পথচলতি লোকজন তো বটেই, রেজিস্ট্রি অফিসে জমিজমার কাজে দূর-দূরান্ত থেকে আসা লোকজনও রোদ-বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে ওই গাছতলাতেই আশ্রয় নেন। সম্প্রতি সেই বটগাছেই কোপ পড়েছে। এলাকাবাসী জানাচ্ছেন, কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, কেউ বা কারা বটগাছটির বড়বড় ডাল কেটে দিচ্ছে। 

এ ভাবে চললে কয়েকদিনের মধ্যেই গাছটির আর অস্তিত্ব থাকবে না। সেই আশঙ্কাতেই কবি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী— নানা পেশার পরিবেশপ্রেমী লোকজন জোট বেঁধে ‘বট গাছের প্রাণ রক্ষা’য় তৎপর হয়েছেন। বন দফতর, ব্লক ও পঞ্চায়েত প্রশাসনের পাশাপাশি তাঁরা ফোন করেছেন ‘দিদিকে বলো’য়। গড়বেতার পরিবেশপ্রেমীদের তরফে জয়দেব দে বলেন, ‘‘গত ৯ নভেম্বর দুপুরে ‘দিদিকে বলো’য় ফোন করে এই প্রাচীন বটগাছটিকে বাঁচানোর আর্জি জানিয়েছি। আমার বক্তব্য নথিভুক্ত করে আমাকে ইউনিক নম্বরও দেওয়া হয়েছে।’’

গাছ বাঁচাতে ‘দিদিকে বলো’য় ফোন কেন? 

জয়দেবের জবাব, ‘‘গাছের ডাল কাটার পরিকল্পনা হচ্ছে জেনেই স্থানীয় পঞ্চায়েতকে জানিয়েছিলাম। তারপরও দেখি গাছের ডাল কাটা হচ্ছে। তাই ভাবলাম ‘দিদিকে বলো’য় ফোন করে যদি কাজ হয়।’’ স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মহাদেব মণ্ডল, মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বাসুদেব দে-রা বলছেন, ‘‘আশা করি আমাদের আবেদনে সাড়া মিলবে।’’

গড়বেতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শ্যামল বাজপেয়ীর দাবি, ‘‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই দেখা হচ্ছে।’’ আর আমলাগোড়া বন দফতরের রেঞ্জ অফিসার বাবলু মান্ডি বলেন, ‘‘যিনি গাছের ডাল কেটেছিলেন তাঁকে নোটিস পাঠিয়েছি। কাটা গাছের ডালগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। বিনা অনুমতিতে বটগাছ কাটা চলবে না বলে জানিয়ে দিয়েছি।’’