‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির ধাঁচে এ বার পথে নেমেছেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেবও। শিলিগুড়ির বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে শুরু করেছেন মন্ত্রী। কথা বলছেন সেখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গেও। মঙ্গলবার পর্যটনমন্ত্রী শিলিগুড়ি পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে একটি আবাসনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। গৌতমের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে দাবি, এরকম কর্মসূচি এখন চলবে। যা দেখে শহরবাসীর একাংশের ধারণা আসন্ন পুরভোটে গৌতমকে সামনে রেখেই লড়তে পারে তৃণমূল। এমনকী তাঁকে মেয়র পদের দাবিদার হিসেবেও তুলে ধরতে পারে দল। এই কারণেই মন্ত্রী ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে জনসংযোগের নামে প্রচারে বেরিয়ে পড়েছেন বলে মনে করছেন দলেরই একাংশ।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে ইতিধ্যেই সবুজ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে যে শিলিগুড়ি পুরভোট পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে পর্যটন মন্ত্রীর উপরেই। সব কিছু ঠিক থাকলে তিনি নিজেও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে দাঁড়াবেন বলে দলেরই একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। গৌতমের এই কর্মসূচি নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মেয়র অশোক ভট্টাচার্য। বুধবার মেয়র বলেন, ‘‘পর্যটনমন্ত্রী শিলিগুড়ির মেয়র হতে পারবেন কি না এখন ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে সেই ‘মক টেস্ট’ করছেন।’’ মেয়রের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এ দিন পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘‘মেয়রের প্রতি শুভেচ্ছা রইল। তিনি ভাল থাকুন। সুস্থ থাকুন।’’

সম্প্রতি লোকসভা নির্বাচনে ডাবগ্রাম ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির থেকে ৮৬ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। সেই প্রসঙ্গ তুলে মেয়র বলেন, ‘‘নিজের এলাকায় পরিস্থিতি সুবিধের নয় আঁচ করেই এখন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরতে শুরু করেছেন তিনি। লোকসভা ভোটে তাঁর নিজের বিধানভা কেন্দ্রে পিছিয়ে পড়ার পরে এখন তিনি মেয়র হবেন কি না সেই ‘মক টেস্ট’ করছেন।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘যে দফতরের দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনও কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না। কাজ ছেড়ে তিনি শহরে বসে রয়েছেন। যেটা তাঁর কাজ নয় সেটাই করছেন।’’ 

তৃণমূলের একাংশের দাবি, পর্যটনমন্ত্রী পুরভোটে দলের কান্ডারি হলে বিপাকে পড়বেন মেয়র। সেটা আঁচ করে নানা বিপদের আশঙ্কা করে মেয়র বিষয়টিকে মেনে নিতে পারছেন না বলে দাবি তৃণমূলের। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের কিছু বাসিন্দার অভাব-অভিযোগ শোনার পরে মঙ্গলবার রাতে ওই ওয়ার্ডে এক দলীয় কর্মীর বাড়িতে ছিলেন গৌতম। বুধবার সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে বাসিন্দাদের সঙ্গে কথাও বলেন।