কৃষ্ণনগর উইমেন্স কলেজের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘স্পর্শকাতর’ বলে মন্তব্য করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিলেন, এই সমস্যা সমাধানে তাড়াহুড়ো করতে রাজি নন তিনি। বরং ধীরেই পা ফেলতে চান ।

গত শিক্ষকদিবস থেকে ওই কলেজে টিএমসিপি-প্রভাবিত ছাত্রীদের একাংশের সঙ্গে শিক্ষকদের সমস্যা তূঙ্গে ওঠে। শিক্ষকদিবসের উপহার অধিকাংশ শিক্ষক প্রত্যাহার করায় কলেজ ভবন আটকে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে দেন ওই ছাত্রীরা। প্রতিবাদে মাঠে বসেই ক্লাস করেন শিক্ষকেরা। শুক্রবারও তাঁরা প্রতিবাদ-স্বরূপ টিচার্সরুমে বসেননি। বুকে প্রতিবাদ লেখা কাগজ আটকে ক্লাস করেছেন। এই পরিস্থিতিতে কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন অধ্যক্ষ মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগর রবীন্দ্রভবনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের প্রথম জেলা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমি প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে পাঠিয়েছিলাম। তিনিও কিছু ফাইল দিয়েছেন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কলেজটি যাতে সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ভাবে চলে তার জন্য দফতরকে বলেছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে।”

সেই সঙ্গে তিনি বলেন, “এর আশু সমাধান করতে পারেন মানবী বন্দ্যোপাধ্যায় ও এই কলেজের শিক্ষকেরা। তাঁরা ছাত্রছাত্রীদের কথা চিন্তা করে সহবস্থান নিন। যাতে ছাত্রীদের পঠনপাঠনে অসুবিধা না হয়।” তিনি বলেন, “ওই কলেজের প্রধান সমস্যা আমি অনেকটাই বুঝে গিয়েছি। তবে মুশকিল হচ্ছে, যদি শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কিছু বলি তা হলে শিক্ষকেরা মিছিল বের করা শুরু করবেন। আর যদি মানবীদেবীর বিপক্ষে বলি তা হলে আপনারা বলবেন জেন্ডার বিভাজনের জন্য এটা হচ্ছে।  তাই বলছি বিষয়টা স্পর্শকাতর।’’