ভোট-উৎসবে ভূরিভোজ!
এলাকার নাম মিঠাপুকুর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের অভিজ্ঞতা, রবিবার দুপুরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তৃণমূল নেতারা তাঁদের সকালের প্রাতরাশ এবং দুপুরের ভোজে আমন্ত্রণ জানান।
lunch

চলছে ভোজ। নিজস্ব চিত্র

ক্রিম রঙের অনুষ্ঠান-বাড়িটায় সকাল থেকে লোকজনের আনাগোনা। গেটে লেখা ‘বার্থ-ডে পার্টি’। তবে আদতে, ভোটের দিন, সোমবার শাসকদল সেখানে ভোটদাতাদের জন্য ভূরিভোজের আয়োজন করেছে, এমনই দাবি আমন্ত্রিতদের একটা বড় অংশের। বর্ধমান শহরের ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত প্রামাণিকও মানছেন, ‘‘ভোট গণতন্ত্রের উৎসব। সেই উৎসবের অঙ্গ হিসেবে এই খাওয়াদাওয়ার আয়োজনে এলাকার মানুষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি।’’

বিরোধীদের দাবি, এ ভাবে ভোটারদের ‘প্রভাবিত’ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে রাত পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি বলে জানিয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন।

এলাকার নাম মিঠাপুকুর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের অভিজ্ঞতা, রবিবার দুপুরে বাড়ি-বাড়ি গিয়ে তৃণমূল নেতারা তাঁদের সকালের প্রাতরাশ এবং দুপুরের ভোজে আমন্ত্রণ জানান। কেন এই আমন্ত্রণ জানতে চাওয়া হলে জবাব মেলে, ‘‘সবাই মিলে ভোট-পালন করব।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

‘সোনা’র কালীবাড়ির কাছে, ওই দোতলা অনুষ্ঠান-বাড়িতে এ দিন  সকাল থেকে আয়োজন শুরু হয়ে যায়। রান্না ও পরিবেশনের দায়িত্বে শহরের একটি কেটারিং‌ সংস্থা। সকালে ছিল মুড়ি, ছোলা সেদ্ধ ও বেগুনির বন্দোবস্ত। সে খাওয়া সেরেও অনেকে ভোট দিতে যান।

দুপুরের মেনু—ভাত, ভাজা মুগের ডাল, আলু ভাজা, আলু পোস্ত, মুরগির মাংস ও চাটনি। এক তলায় ‘বুফে’ ও দোতলায় চেয়ার-টেবিলে বসে খাওয়ার বন্দোবস্ত। বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকার হাজার পাঁচেক বাসিন্দার মধ্যে প্রায় অর্ধেক যোগ দিয়েছিলেন এই খাওয়াদাওয়ায়। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় দুই মহিলা বলেন, ‘‘আজ আশপাশের প্রায় সব বাড়িতে রান্না বন্ধ। রাতেও অনেকের পাত পড়বে ওখানে।’’ কাউন্সিলর সুশান্তবাবুর দাবি, সাড়ে তিন হাজার মানুষের জন্য আয়োজন  করা হয়েছে। রাজনৈতিক রং দেখা হয়নি। তিনি বলেন, ‘‘ভোট তো সবার জন্য। সেখানে কে তৃণমূল, দেখতে যাব কেন?’’ গেটে ‘বার্থ-ডে পার্টি’র বোর্ড কে ঝোলালো? কাউন্সিলরের বক্তব্য, ‘‘আমরা রাখিনি। কে রেখেছে জানা নেই।’’ জানাচ্ছেন, দলের কর্মীদের চাঁদায় এই বন্দোবস্ত হয়েছে।

বিজেপির দাবি, শুধু বর্ধমান শহর নয়, রায়না, জামালপুর, মেমারি-সহ নানা জায়গাতে এ ভাবে ভোটারদের জন্য খাওয়াদাওয়ার আয়োজন করেছিল শাসক দল। বিজেপির বর্ধমান জেলা (সাংগঠনিক) সভাপতি সন্দীপ নন্দীর অভিযোগ, ‘‘ভোটের দিন এলাকার লোকজনকে এ ভাবে কোনও দলের তরফে নিমন্ত্রণ করে খাওয়ানো প্রভাবিত করার শামিল। বিশদে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনে অভিযোগ জানানো হবে।’’ 

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত