ফেলে লাঠিপেটা করল বাহিনী, নালিশ প্রসূনের
সকালে হাওড়ার সুরকিকল এলাকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সওয়া ১০টা নাগাদ তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন পৌঁছন বেলুড় স্কুলের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। তাঁর সামনেই বুথের ভিতরে তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
Prasun

অভিযোগ জানাতে থানায় প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার। ছবি: দীপঙ্কর মজুমদার

আগাগোড়া তিনি দাবি করে এসেছিলেন, তাঁর জয় ‘নিশ্চিত’। তাই সোমবার, পঞ্চম পর্বের ভোটের দিন ফুরফুরে মেজাজে একটু বেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন। শহরের বেশ কয়েকটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র ঘুরে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘ভোট হচ্ছে শান্তিপূর্ণ ভাবেই।’’

কিন্তু বেলা বাড়তেই অবশ্য প্রসূন নিজেই জড়িয়ে পড়লেন ‘অশান্তি’র মধ্যে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠির আঘাতে বিদায়ী সাংসদের পিঠে ও হাতে কালশিটে পড়েছে। আহত হয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত সচিব ইন্দ্রনীল বসু ও দেহরক্ষী মুকেশ সিংহ। এর পাশাপাশি সকাল থেকে হাওড়া সদর লোকসভা কেন্দ্রের কয়েকটি জায়গায় ইভিএম বা বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্র বিগড়ে যাওয়ায় ভোট শুরু হয়েছে দেরিতে। বিক্ষিপ্ত কিছু সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।

সকালে হাওড়ার সুরকিকল এলাকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে সওয়া ১০টা নাগাদ তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন পৌঁছন বেলুড় স্কুলের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে। তাঁর সামনেই বুথের ভিতরে তৃণমূল ও বিজেপির কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। তা দেখে তড়িঘড়ি সেখান থেকে বেরিয়ে বালি ও উত্তর হাওড়া ঘুরে প্রসূন পৌঁছে যান শিবপুর বিধানসভার বালিটিকুরি মুক্তারাম দে হাইস্কুলে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ওই ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে ঢোকার সময়েই প্রসূনকে বাধা দেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা। জানতে চান, তিনি কে? কেন্দ্রীয় বাহিনীর অভিযোগ, প্রার্থীর দিক থেকে আপত্তিকর মন্তব্য এসেছিল। জওয়ানেরা তার প্রতিবাদ করতেই দু’পক্ষে বচসা বেধে যায়। 

প্রসূনের অভিযোগ, তিনি প্রার্থীর পরিচয়পত্র দেখাতেই এক জওয়ান সেটি ছিঁড়ে ফেলে দেন। কোনও কথা না-বলেই তাঁকে ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাতে থাকেন জওয়ানেরা। বাধা দিতে গিয়ে মার খান ইন্দ্রনীল ও মুকেশ। খবর পেয়ে দাশনগর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশে অভিযোগ দায়ের করার পরে প্রসূন বলেন, ‘‘আমি কেন আপত্তিকর কথা বলব? ওঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে আমাকে ঠেলে বার করে দিচ্ছিলেন। কোনও সাংসদকে এ ভাবে মারা হয় না। কেন্দ্রীয় বাহিনী যা করল, সেই অত্যাচারের তুলনা হয় না।’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি অরূপ রায় বলেন, ‘‘ন্যক্কারজনক ঘটনা। নির্বাচন কমিশন ও পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’’ হাওড়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্তও।

দাশনগরে প্রসূন যখন মার খাচ্ছেন, সেই সময়েই সাঁকরাইলের বাণীপুর মিল গেট এলাকার পরিবেশও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, সেখানকার তারাক্কি উর্দু বিদ্যালয়ে চারটি বুথের ভোটারদের অস্ত্র উঁচিয়ে ভয় দেখাচ্ছে শাসক দলের লোকজন। বিজেপির স্থানীয় নেতারা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরে গন্ডগোল বেড়ে যায়। তরোয়াল, লাঠি, হাঁসুয়া নিয়ে দু’পক্ষই পরস্পরকে আক্রমণ করে। বেশ কিছু ক্ষণ গোলমাল চলার পরে বিশাল পুলিশবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ দিন মার খেতে হয়েছে প্রিসাইডিং অফিসারকেও। পাঁচলার শাঁকখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২২৬ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসার নিত্যানন্দ সরকারের অভিযোগ, সকাল থেকেই তৃণমূলের এক এজেন্ট ভোটারদের প্রভাবিত করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই এজেন্টকে বার করে দেয়। কিন্তু কিছু পরে ফিরে এসে ফের একই কাজ শুরু করেন ওই এজেন্ট। নিত্যানন্দবাবু বলেন, ‘‘ফের আমি প্রতিবাদ করতেই ওই এজেন্ট এবং তাঁর সঙ্গীরা আমাকে মারতে শুরু করেন।’’ দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তার পরেই কয়েক দফায় বোমাবাজি হয় ওই এলাকায়। প্রায় দেড় ঘণ্টা ভোট বন্ধ থাকে।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত