স্লগ ওভারে বৃষ্টির মধ্যেই প্রচারের ঝড়
কোচবিহারে সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল ৯টার আগে আকাশ পরিষ্কার হয়নি।
flags

খারাপ আবহাওয়াতেও চলছে প্রচার. —ফাইল চিত্র।

কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার: রাত পোহালেই ভোট। তাই বৃষ্টির মধ্যেই মঙ্গলবার শেষ বেলার প্রচারে ঝড় তোলার চেষ্টা করলেন প্রথম দফার ভোটে কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ারের প্রার্থীরা। সকলেরই দাবি, ভাল সাড়া পেয়েছেন। শহর থেকে গ্রাম কিংবা চা বাগান, সর্বত্রই প্রার্থীদের দেখতে ছোট ছোট এলাকায় ভিড়ও সত্যিই হয়েছে। ভোটের স্লগ ওভারে সন্ধেবেলা অনেক জায়গায় দেখা গেল, আইপিএল-এর খেলা দেখা ছেড়ে অনেকে ভোট নিয়ে আলোচনা করছেন।

এ দিন বিকেল পাঁচটায় ভোটের প্রচার শেষ। কিন্তু কোচবিহারে সোমবার রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। সকাল ৯টার আগে আকাশ পরিষ্কার হয়নি। সব প্রার্থীই শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। কোচবিহারে তৃণমূলের প্রার্থী পরেশ অধিকারী বৃষ্টি থামলে পায়ে হেঁটে ভোট চাইতে বেরোন। পরে মোটরবাইক নিয়ে  র‌্যালি করেন, রোড-শোও করেছেন। বিকেলে হাসি মুখে বলেছেন, ‘‘যেখানেই গিয়েছি, সকলে সঙ্গে থাকবেন বলেছেন।’’ এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক চলে যান ধলুয়াবাড়ি শিব মন্দিরে। সেখান থেকে বেরিয়ে শালমারা এলাকায় রোড-শো করেন। সেখানেও একটি মন্দিরে পুজো দেন। বিকেলে কোচবিহার শহরে ফিরে রোড-শো করেছেন। এরই ফাঁকে যে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন, সেখানে গিয়ে সহশিক্ষক এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি বলেন, “জয় শুধু সময়ের অপেক্ষা।” ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রার্থী গোবিন্দ রায় এবং কংগ্রেস প্রার্থী পিয়া রায়চৌধুরীও এ দিন কোচবিহার শহরে রোড-শো করেন। দু’জনেই কোচবিহারে জয়ের দাবি করেন।

আলিপুরদুয়ারে সারা দিনই আকাশ ছিল মেঘলা। মাঝেমধ্যে বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। তার মধ্যেই এই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দশরথ তিরকে, বাম প্রার্থী মিলি ওরাওঁ এবং বিজেপি প্রার্থী জন বার্লা চলে যান চা বাগান এলাকায়। দশরথ প্রথমে যান বক্সিরহাটে। সেখান থেকে বানারহাট, বিন্নাগুড়ি, সাকিয়াঝোরা, বীরপাড়া হয়ে কামাখ্যাগুড়ি। কখনও বাগানে, কখনও বস্তির সামনে, কোথাও বাড়ি, দোকানে গিয়ে ভোট চান দশরথ। বার্লা গিয়েছিলেন মাদারিহাটের বিভিন্ন চা বাগানে। তারপরে মাঝেরডাবরি, হ্যামিল্টনগঞ্জে। মিলি রাজাভাতখাওয়া বনবস্তি থেকে শুরু করে একাধিক বাগানে গিয়েছেন। কংগ্রেস প্রার্থী মোহনলাল বসুমাতাও নানা এলাকা ঘুরে আলিপুরদুয়ারে রোড-শো করেন।

সারা দিন ব্যস্ত ছিলেন ভোটের সেনাপতিরাও। কোচবিহার জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ দলের নানা কার্যালয়ে গিয়ে কোন বুথে কোন পোলিং এজেন্ট থাকবেন, তা নিয়ে আলোচনা করেন। আলিপুরদুয়ারে শিল্পী কলাকুশলীদের অনেকে ধামসা মাদল নিয়ে একটি বড় মিছিল করেন। সেখানে দেখা গিয়েছে তৃণমূলের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীকে। বিজেপির রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন কালচিনিতে।

তবে কোথাও কোথাও কোনও কোনও প্রার্থীকে শুনতে হয়েছে একটি প্রশ্ন—যদি জেতেন, তা হলে অন্তত আবার আসবেন তো?

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত