আদর্শ নির্বাচনী আচরণবিধি বলবৎ হওয়ার পরে অনেক প্রকল্পের কাজই স্থগিত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার আগে রাজ্য সরকারের ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পে ৭০ হাজার চেক ‘ইসু’ করা হলেও ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কৃষি দফতর মাত্র ১৮ হাজার চেক বিলি করতে পেরেছে কৃষকদের মধ্যে। কেন বেশির ভাগ চেক বিলি করা গেল না, সেই প্রশ্ন জোরদার হয়ে উঠেছে। মূল কারণ হিসেবে অনেক চাষির জমি সংক্রান্ত নথিপত্র তাঁদের হাতে না-থাকার কথাই বলছে কৃষি দফতর।

ওই দফতর সূত্রের খবর, নির্বাচন আচরণবিধি চালু হওয়ার আগে পর্যন্ত কৃষকবন্ধু প্রকল্পে ২৬ লক্ষ চাষি আবেদন করেছিলেন। জমির কাগজপত্র খতিয়ে দেখে ৭০ হাজার চেক ইসু করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৮ হাজার চেক বিলি করা হয়েছে। রাজ্যে কৃষকের সংখ্যা ৭২ লক্ষ। নিজের নামে জমির কাগজপত্র থাকলে সব কৃষকই ওই প্রকল্পে বছরে দু’দফায় আড়াই হাজার করে পাঁচ হাজার টাকা সাহায্য পাবেন। কিন্তু সাহায্য করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে গিয়েছে কৃষি দফতর। কেননা জমির কাগজপত্র ঠিক নেই অনেক চাষির। তাই তাঁদের চেক দেওয়া সম্ভব হয়নি। ভোটের পরে কৃষি দফতরের আফিসারেরা ওই সব কৃষকের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে নবান্নের খবর।

এত কম চেক বিলির কারণ হিসেবে কৃষি দফতরের এক কর্তা জানান, সমস্যা হচ্ছে মূলত দু’টি জায়গায়। প্রথমত, কৃষকবন্ধু প্রকল্পে যে-সব কৃষক আবেদন করছেন, তাঁদের জমির কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় দেখা গিয়েছে, যিনি জমি চাষ করছেন, নথিপত্র তাঁর নামে নেই। জমির কাগজপত্র রয়েছে মালিকদের নামে। কৃষক সেখানে চাষ করছেন মাত্র। দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে বাবার নামে জমি চাষ করছেন ছেলে। বাবা মারা গিয়েছেন। কিন্তু ছেলে এখনও নিজের নামে জমির মিউটেশন বা নামজারি করাননি। বাবার নামেই জমির দলিল থেকে গিয়েছে। তাই ছেলে আবেদন করলেও সাহায্য পাচ্ছেন না। চেক বিলি করা যাচ্ছে না। 

কৃষি দফতরের ওই কর্তা জানান, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পরে চেক বিলি বন্ধ রয়েছে। নেওয়া হচ্ছে না নতুন আবেদনপত্রও। নির্বাচনী আচরণবিধির মেয়াদ শেষ হলে এই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

রাজ্যের কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার বলেন, ‘‘২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কৃষকবন্ধু প্রকল্প ঘোষণা করেন। চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রী নিজের হাতে কৃষকদের চেক তুলে দেন। তার পর থেকে ২৬ লক্ষ কৃষক এই প্রকল্পে আবেদন করেছেন। ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চেক দেওয়া হয়েছে।’’ প্রদীপবাবু জানান, নির্বাচনী আচরণবিধি চালু হওয়ার আগে যে-সব কৃষকের নাম কৃষি দফতরে নথিভুক্ত হয়েছে, ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চেক বিলি দেওয়া হয়েছে শুধু তাঁদেরই। বর্তমানে আচরণবিধি চালু থাকায় চেক বিলি বন্ধ রয়েছে।