• সৌমেন দত্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বাধা টপকেই অনন্য দুই

Anjali
অঞ্জলি মান্ডি

এমনিতে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি। কিন্তু, একটা জায়গায় বড্ড এক অঞ্জলি ও সূরয। কঠিন পথ পেরিয়ে দু’জনেই পাশ করেছে মাধ্যমিক। এক জন হোমে থেকে পরীক্ষা দিয়েছে। অন্য জনের ঠিকানা, এখন ‘কেয়ার অফ’ স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

বাবা-মায়ের জেদের সামনে না ঝুঁকে নিজেই ফোন করে প্রশাসনকে বিয়ের ঠিক হওয়ার কথা জানিয়েছিল মেমারির অঞ্জলি মান্ডি। চলতি  বছরে ফেব্রুয়ারির গোড়ায় মাধ্যমিক পরীক্ষার ঠিক আগেই তার বিয়ে ঠিক করেছিলেন বাবা-মা। বিয়ে আটকাতে থানা, পঞ্চায়েতে গিয়েছিল মেয়েটি। নিজেই চাইল্ড লাইনের নম্বর জোগাড় করে ফোনও করে। বিয়ের আগের দিন, চাইল্ড লাইনের কর্মীরা পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে মেমারির রসুলপুরের উল্লেরায় তার বাড়ি গিয়ে বিয়ে রোখেন। কিন্তু, তাঁরা ফিরে আসার আসার সময় দৃঢ় স্বরে অঞ্জলি তাঁদের জানিয়েছিল, ‘আমায় নিয়ে চলো। তোমরা চলে গেলেই বাবা-মা আমার বিয়ে দেয়ে দেবে।’

এর পরে বর্ধমানের সরকারি হোম থেকেই মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া। ২৩০ নম্বর পেয়ে পাশ করেছে সে। সপ্তাহখানেক আগে বাড়ি ফেরা অঞ্জলি বলে, ‘‘খুব ভাল পরীক্ষা দিতে পারিনি। তাই এখন থেকেই উচ্চ মাধ্যমিকের প্রস্তুতি শুরু করেছি। পড়ার খরচ জোগাড় করতে পাঞ্জাবিতে জরি বসানোর কাজ করছি এখন।” বাবা রঘুনাথবাবুর কথায়, “মেয়ের জেদের কাছে হেরে গিয়েছি। আর বিয়েতে জোর করব না।” পড়ায় সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছে স্কুলও।

সূরয দাস

বছর ষোলোর সূরয দাসের জীবনে বিপর্যয় অনেক বেশি। কয়েক বছর আগে বর্ধমান স্টেশন থেকে যখন তাকে উদ্ধার করা হয়, তখন বাবা-মাকে হারিয়ে স্টেশনই তার ঠিকানা। সঙ্গী নেশা। সঙ্গীরা তাকে সূরয বলেই ডাকত। উদ্ধার করে বড়নীলপুরের আচার্য দুর্গাপ্রসন্ন বিদ্যামন্দিরে ভর্তি করায় বর্ধমান শহরের রাধানগরপাড়ার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। ওই সংস্থার ‘ডে কেয়ার’ সেন্টারে থেকেই এ বছর মাধ্যমিকে ২৪৬ পেয়েছে ছেলেটি। সংস্থার সম্পাদক তাপস মাকড় বলেন, “কাউন্সেলিং করার পরেই বুঝতে পারি, ছবি আঁকায় ঝোঁক রয়েছে ছেলেটার।’’ দিনভর রং-তুলি নিয়ে পড়ে থাকা সূরয গত বছর আমেরিকার একটি কালীপুজো অ্যাসোসিয়েশনের বইয়ের প্রচ্ছদও এঁকেছে। জেলার অঙ্কন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে।

যত টুকু জানা যায়, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে দুমকা থেকে বাঁকুড়ায় কাজে গিয়েছিলেন দম্পতি শ্যামসুন্দর ও নীলা দাস। ভাড়া ছিলেন লক্ষ্মীপুরে। কিন্তু, ভাড়া দিতে না পারায় ঠিকানা হয়, বর্ধমান স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম। সেখানেই মারা যান ওই দম্পতি। তখন অন্য এক সংস্থা সূরযকে নিয়ে যায়। কিন্তু, দিদির খোঁজ মিলছে না জেনে ফের স্টেশনে পালায় সুরজ। এ বার হাল ধরেন তাপসবাবুরা। তাঁদের দাবি, উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলে সূরযকে ফাইন আর্টস নিয়ে পড়াবেন।

জেলা প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘‘ওরা দু’জন বিরাট কোনও নম্বর পায়নি ঠিকই। কিন্তু, যে অবস্থার মধ্যে ওরা পাশ করেছে, ওদের পরিশ্রমকে কুর্নিশ না জানালেই নয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন