গত ২ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরে এসে নানা পরিস্থিতির কথা বলে রাজ্যের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তার পরে বুধবার প্রধানমন্ত্রীর ওই দিনের সভার কথা তুলে ধরে পাল্টা আক্রমণ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।

এ দিন ডিএসপি টাউনশিপের তিলক ময়দানে তৃণমূল সভার আয়োজন করে। সেখানে অরূপবাবু ছাড়াও যোগ দিয়েছিলেন মন্ত্রী মলয় ঘটক, মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল, আসানসোল পুরসভার মেয়র তথা বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি, দুর্গাপুর পুরসভার চেয়ারম্যান মৃগেন্দ্রনাথ পাল, মেয়র দিলীপ অগস্তি, তৃণমূলের জেলা সভাপতি ভি শিবদাসন, কার্যকরী সভাপতি উত্তম মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রীর সভার পরেই বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও জেলার শ্রমিকদের একাংশ অভিযোগ করেন, নরেন্দ্র মোদীর বক্তব্যে জেলার শিল্প-পরিস্থিতি নিয়ে কোনও কথা নেই। এ দিন ফের সেই অভিযোগ করে অরূপবাবু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব কা সাথ, সব কা বিকাশ’। দুর্গাপুর কি দেশের বাইরে? তা হলে এখানকার বন্ধ কারখানা খোলা নিয়ে টুঁ শব্দটিও করেননি কেন?’’

মোদী তাঁর সভা থেকে রাজ্যে সিন্ডিকেট-রাজের অভিযোগ করেন। এ দিন সেই অভিযোগ প্রসঙ্গে অরূপবাবু বলেন, ‘‘আমাদের রাজ্যে উন্নয়নের সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে। আর মোদীর সরকার সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স ও ইডি-র সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। বাংলার মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে রাজ্যের উন্নয়ন স্তব্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।’’

এ দিনের বক্তব্যে অরূপবাবু দেশে বিরোধী ও এনডিএ-র সাম্প্রতিক অবস্থানের বিষয়েও কটাক্ষ করেন। তাঁর বক্তব্য, ‘‘এনডিএ ছেড়ে শরিকেরা একে একে চলে যাচ্ছে। এখন এনডিএ-র নতুন শরিক হয়েছে সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স, ইডি। গত ১৯ জানুয়ারি বিরোধীদের সফল ব্রিগেড সমাবেশের পরে ভয় পেয়ে ফের সিবিআই-কে লেলিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে।’’ প্রধানমন্ত্রীর সভার পরে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করেছিলেন, সভায় দু’লাখেরও বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এ দিন অরূপবাবু দাবি করেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীর সভায় বাইরে থেকে লোক এনে মাঠ ভরানোর চেষ্টা হয়েছিল। অথচ আমাদের সভায় স্থানীয় মানুষের ভিড়ই এত, যে সবার জায়গা হচ্ছে না।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নিজে এলেও দুর্গাপুরের সভায় ভিড় হয়নি। অথচ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আসতে হয়নি। তাঁর ছবি দেখেই হাজার হাজার মানুষ মাঠে এসেছেন।’’ যদিও বিজেপি-র জেলা সভাপতি লক্ষ্ণণ ঘোড়ুইয়ের বক্তব্য, ‘‘তৃণমূলের নেতা, মন্ত্রীরা সবাই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথা বলছেন।’’