• সুনন্দ ঘোষ
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সাগর-ফেরা প্রৌঢ়া পুলিশের ফেরে নাজেহাল

Alikta Jha
অলিক্তা ঝা

তীর্থের পথ খুব সুগম নয়। তীর্থ থেকে ঘরে ফেরার পথ যে তার থেকেও ঘোরালো হতে পারে, নেপালের অলিক্তা ঝা সেটা সম্ভবত ভাবতেও পারেননি। গঙ্গাসাগর থেকে পুলিশের হাতে বেদম হয়রানির পরে আদালত ঘুরে তিনি আপাতত বিহারের টুপরি-তে, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে।

তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল পুলিশের ভ্যানে। মাঝবয়সি ওই মহিলা মৈথিলি ভাষায় কী বলে যাচ্ছিলেন, বিন্দুবিসর্গ বুঝতে পারছিল না কাকদ্বীপের পুলিশ। অগত্যা ঠাঁই হয় ভ্যানে। সাগরমেলা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ফিরছিলেন হাওড়ার বিজয় ঈশ্বর। তিনি মৈথিলি জানেন। তাঁর সামনে দিয়েই মহিলাকে তোলা হয় ভ্যানে। মহিলার কথাবার্তা শুনে তিনি তাঁর নাম-ঠিকানা জানতে পারেন। পুলিশ ভ্যানে বসে থাকা অলিক্তার ছবি তুলে পোস্ট করেন ফেসবুকে। ১৫ জানুয়ারির ওই ঘটনার ফেসবুক পোস্ট দেখে সেই রাতেই নেপাল থেকে বিজয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অলিক্তার ছেলে দুর্গানন্দ।

বৃহস্পতিবার কলকাতায় পৌঁছে হন্যে হয়ে মাকে খুঁজে বেড়ান দুর্গানন্দ। গঙ্গাসাগরে এসে যাঁরা হারিয়ে যান, তাঁদের প্রধানত তুলে দেওয়া হয় কলকাতার বড়বাজারের সংগঠন বজরং পরিষদের হাতে। দুর্গানন্দ তাই চলে যান বড়বাজারে। পুলিশের ছাপ মারা তালিকা দেখিয়ে বজরং দল দাবি করে, অলিক্তাকে পুলিশ তাদের হাতে তুলে দেয়নি। আবার পুলিশের দাবি, থানায় রীতিমতো জিডি করেই বজরঙের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ওই মহিলাকে। এই দোটানার মধ্যে পড়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন দুর্গানন্দ। বিকেলে জানতে পারেন, তাঁর মা বিহারের টুপরি-তে, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে পৌঁছে গিয়েছেন।

চার জনের সঙ্গে নেপাল থেকে বেরিয়ে অলিক্তা আসেন গঙ্গাসাগরে। বিজয়ের কথায়, ‘‘ফেরার সময়ে নদী পেরিয়ে পাঁচ নম্বর লটে পৌঁছে আমরা বাসের দিকে এগোচ্ছিলাম। দূর থেকে দেখে মন হল, মহিলা ভদ্রবাড়ির। কিন্তু জিজ্ঞেস করতে পুলিশ বলল, যত্ত সব পকেটমার! মহিলাকে তখন ভ্যানে তুলে নেওয়া হয়েছে। কাঁদছিলেন। আমি কাছে গিয়ে নাম-ঠিকানা জানতে চাই। মৈথিলি ছাড়া আর কোনও ভাষা জানেন না উনি।’’ বিজয়ের দাবি, তিনি মহিলাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে পুলিশ উল্টে তাঁকেই ধমকে দেয়। তিনি সরে আসার আগে মহিলার দু’টি ছবি তুলে নেন। তাঁর কথায়, ‘‘কাকদ্বীপে নেটওয়ার্ক ভাল ছিল না। কিছু দূর এসে ফেসবুকে মহিলার নাম-ঠিকানা দিয়ে ছবিটা পোস্ট করে দিই।’’

এ দিন বড়বাজারে দাঁড়িয়ে দুর্গানন্দ বলেন, ‘‘আমি বিজয়বাবুর কাছ থেকে মায়ের খবর পেয়ে দিল্লিতে এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করি। সেই বন্ধুর দাদা গোবিন্দ ঝা কলকাতায় থাকেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বড়বাজারে বজরং পরিষদ নামে এক সংস্থার কাছে মা থাকতে পারেন।’’ বড়বাজারে বজরং দলের কার্যালয়ে গিয়ে দুর্গানন্দ দেখেন, সাগরমেলায় দলছুট বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে আছেন একটা বড় হলঘরে। কিন্তু তাঁর মা সেখানে নেই।

গোবিন্দ জানান, তিনি চেনা এক ডব্লিউবিসিএস অফিসারকে দিয়ে ফোন করান কাকদ্বীপ থানায়। থানা থেকে জানা যায়, অন্যদের সঙ্গে অলিক্তাকেও আদালতে তোলা হয়েছিল। তাঁর মৈথিলি ভাষা বুঝতে পারেননি বিচারক, আইনজীবীরা। তবে এটুকু বোঝা যায় যে, তিনি পকেটমার নন। পুণ্যার্থীর দল থেকে আলাদা হয়ে পড়েছেন মাত্র। বিচারক তাঁকে ছেড়ে দিতে বলেন। পুলিশ আবার তাঁকে থানায় নিয়ে যায়।

অলিক্তার খোঁজে গোবিন্দ কাকদ্বীপ গেলে পুলিশ জানিয়ে দেয়, ওই মহিলাকে বজরং দলের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অথচ বজরঙের সম্পাদক সানওয়ারমল গোয়েল বলেন, ‘‘এই দেখুন, পুলিশ ছাপ মেরে আমাদের হাতে যে-তালিকা তুলে দিয়েছে, সেখানে অলিক্তাদেবীর নাম নেই।’’ পরে জানা যায়, কাকদ্বীপে বিহারের এক বাসিন্দাকে ধরে তাঁর সঙ্গেই ওই মহিলা পৌঁছে গিয়েছেন বিহারে।

অলিক্তার সঙ্গে তীর্থ করতে আসা অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দুর্গানন্দ জেনেছেন, তাঁরা এখন পুরীতে। অলিক্তা হারিয়ে যাওয়ার পরে তীর্থযাত্রা থেমে থাকেনি।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন