পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুর হার সব থেকে বেশি ভারতে। সদ্য প্রকাশিত ইউনিসেফের এক রিপোর্ট এমনটাই বলছে।

জঙ্গলমহলের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরেও শিশু মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, বছরে প্রায় ১১০০ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে এই জেলায়। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ২০১৭-২০১৮ সালে জেলায় শিশুমৃত্যুর হার ছিল প্রতি হাজারে ১৬.২। ২০১৮-২০১৯ সালে সংখ্যাটা বেড়ে হয়েছে প্রতি হাজারে ১৮.৬।

অথচ এই সময়ের মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরেও সিক নিওনেটাল কেয়ার ইউনিট (এসএনসিইউ), সিক নিউবর্ন স্টেবিলাইজেশন ইউনিট (এসএনএসইউ) গড়ে উঠেছে। তার পরেও কেন শিশুমৃত্যু কমানো যাচ্ছে না, সেই প্রশ্ন উঠছে। জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অবশ্য দাবি, এই সব পরিকাঠামো গড়ে ওঠার পরে শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। আগে আরও বেশি সংখ্যক শিশুর মৃত্যু হত। 

জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, ‘‘অবস্থা খুব সঙ্কটজনক হলে অনেক সময় চেষ্টা করেও শিশুকে বাঁচানো যায় না। বিশেষ করে যে সব শিশুর ওজন অত্যধিক কম থাকে।’’ জেলার অন্য এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘‘কোনও কোনও নবজাতকের ওজন অস্বাভাবিক রকম কম থাকে। অস্বাভাবিক কম ওজনের নবজাতকদের ফুসফুস ঠিক মতো কাজ করে না।’’ তিনি আরও জানান, এসএনসিইউ এবং এসএনএসইউ চালুর ফলে সার্বিক ভাবে পরিস্থিতির উন্নতিই হয়েছে। 

কোন বছরে কত

• ২০১৪-’১৫    ১,২৫১
• ২০১৫-’১৬    ১,২০৭
• ২০১৬-’১৭    ১,১৬৯
• ২০১৭-’১৮    ১,০৩৫
• ২০১৮-’১৯    ১,১০১

শিশুমৃত্যুর হার

• ২০১৪-’১৫    ২০.৭
• ২০১৫-’১৬    ২২.৭
• ২০১৬-’১৭    ২০.২
• ২০১৭-’১৮    ১৬.২
• ২০১৮-’১৯    ১৮.৬

পরিসংখ্যান পশ্চিম মেদিনীপুরের তথ্য: জেলা স্বাস্থ্য দফতর

ক্ষমতার আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন মা ও শিশুর মৃত্যুর হার কমানোই তাঁর সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ কাজের জন্য একটি টাস্ক ফোর্সও গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পশ্চিম মেদিনীপুরে অবশ্য গত কয়েক বছরে শিশুমৃত্যুর হার সে ভাবে কমেনি। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ২০১৭-২০১৮ সালে ১০৩৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছিল জেলায়। আর ২০১৮-২০১৯ সালে জেলায় মৃত্যু হয়েছে ১১০১টি শিশুর। চলতি বছরে এপ্রিল থেকে অগস্ট পর্যন্ত ৩৫৭টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। 

জেলায় এসএনসিইউ-র সংখ্যাটা দুই। এসএনএসইউ রয়েছে ১৪টি। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের একাংশের ধারণা ছিল, ইউনিটগুলি চালু হলে শিশুমৃত্যুর হার কমবে। সদ্যোজাতের মৃত্যুর হার কমাতে এত টাকা খরচ করে একের পর এক ইউনিট গড়ে উঠেছে। তা-ও কেন শিশুমৃত্যুর হার কমছে না? জেলার         এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘শিশুমৃত্যুর ঘটনা দুঃখজনক। তবে বর্তমানে শিশুমৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চেয়ে তা পর্যালোচনাও করা হয়।’’ প্রসঙ্গত তিনি মনে করিয়ে দেন, জেলায় এখন ‘চাইল্ড ডেথ রিভিউ’ কমিটি রয়েছে। শিশুমৃত্যুর পর্যালোচনার করার জন্যই এই কমিটি। জেলার ওই স্বাস্থ্য আধিকারিকের কথায়, ‘‘এই পর্যালোচনার ফলে কোথাও সামান্য ভুল হয়ে থাকলেও তা ধরা পড়ে। পরবর্তী সময়ে একই ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেকখানি কমে যায়।’’ 

পশ্চিম মেদিনীপুরে দু’টি এসএনসিইউ-এর একটি রয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে, এবং অন্যটি ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ২০১৭-২০১৮ সালে এসএনসিইউ-তে সালে ভর্তি হয়েছিল ৫৮২০টি শিশু। অন্যদিকে, ২০১৮-২০১৯-এ ভর্তি হয়েছে ৫৫৮৮টি শিশু। জেলায় ২০১৭-২০১৮ সালে এসএনএসইউ-তে ভর্তি হয়েছিল ১৯৯০টি শিশু। ২০১৮-২০১৯ সালে ভর্তি হয়েছে ১৮১৬ শিশু। 

যদিও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের   দাবি, এখন রাজ্যে শিশুমৃত্যুর হার প্রতি হাজারে ২৪। পশ্চিম মেদিনীপুরে সংখ্যাটা ১৬। এই হার চলতি বছরের এপ্রিল থেকে অগস্টের নিরিখে। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, ‘‘রাজ্যের হারের থেকে জেলার হার কম। জেলায় শিশুমৃত্যুর হার আরও কমানোর সব রকম চেষ্টা চলছে।’’