মৃত্যুর আগে প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করেছিল সোদপুরের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী সায়নী শীল। নেশায় প্রায় অচৈতন্য হয়ে পড়েছিল সে। আর সেই নেশার ঘোরেই কি পুকুরে পড়ে গিয়েছিল? নাকি খুব পরিকল্পনা করেই বেহুঁশ হয়ে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল পুকুরে? সেই রহস্যের পুরো কিনারা এখনও না হলেও, সায়নীর মৃত্যুর ঘটনাতে যে তার দুই বন্ধুর ভূমিকা আছে সে বিষয়ে নিশ্চিত পুলিশ। তাই ১৬ বছরের ওই কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সায়নীর দুই বন্ধুকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

বুধবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঠাকুর দেখতে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরোয় সোদপুর দেশবন্ধু নগরের বাসিন্দা সায়নী শীল। তার পর রাতে বাড়ি না ফেরায় থানায় অভিযোগ জানায় তার পরিবার। তার পর বৃহস্পতিবার আগরপাড়ায় সায়নীর মামার বাড়ির কাছে একটি পুকুরে তাঁর দেহ পাওয়া যায়।

পুকুরের ধারে সায়নীর মোবাইল এবং চটি পাওয়া যায়। প্রথম থেকেই পরিবারের অভ‌িযোগ ছিল, সায়নীকে খুন করে জলে ফেলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কিশোরীর দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন মেলেনি।

আরও পড়ুন: ১৬ ডিএম-এসপি-সহ কয়েক ডজন কর্তার বিরুদ্ধে কমিশনে যাচ্ছে বিজেপি

তদন্তে নেমে খড়দহ থানার তদন্তকারীরা জানতে পারেন, সায়নীর কাছে দীপ ব্রহ্ম নামে এক তরুণের ফোন আসে। তার পরেই ঠাকুর দেখতে বেরোয় সে। স্থানীয় সূত্রেও পুলিশ জানতে পারে দীপ নামে ওই তরুণের সঙ্গে সায়নীর ঘনিষ্ঠতা ছিল। দীপকে জেরা করেই উঠে আসে তার আরও এক বন্ধু পাপাই ঘোষের নাম। দু’জনকে ডেকে জেরা করা শুরু করে পুলিশ।

আরও পড়ুন: রাতভর নিখোঁজ তরুণীর দেহ মিলল পুকুরে

এক তদন্তকারী বলেন, “জেরায় দুই তরুণ স্বীকার করেন যে, তাঁরা ওই কিশোরীর সঙ্গে ছিলেন। তবে তাঁদের দাবি তাঁরা সায়নীকে তার মামারবাড়ির গলির কাছে ছেড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন।” তার পর কী ভাবে সে পুকুরে গিয়ে পড়ল তা তাঁরা জানেন না বলে জানায় পুলিশকে। কিন্তু পুলিশ তাদের বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এক তদন্তকারী বলেন, “আমরা এলাকায় তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারি, সায়নীকে প্রায় রাত একটা পর্যন্ত পুকুরের ধারে ওই দুই তরুণের সঙ্গে দেখা গিয়েছে।” আর সেই পারিপার্শ্বিক তথ্য প্রমানের ভিত্তিতেই পুলিশের ধারণা ওই দুই তরুণ গোটা ঘটনার কিছু অংশ গোপন করছে।

মালদহ, দুই দিনাজপুর, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং সহ উত্তরবঙ্গের খবর, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা খবর পড়ুন আমাদের রাজ্য বিভাগে।