ভাশুর-স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ এবং পণের দাবিতে অত্যাচার চালানোর অভিযোগ করেছেন বালিগঞ্জ পার্কের এক ব্যবসায়ী পরিবারের গৃহবধূ। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে ওই মহিলার স্ত্রীধন উদ্ধার করতে বুধবার রাতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে তল্লাশি চালায় কড়েয়া থানার পুলিশ। 

পুলিশি সূত্রের খবর, সেনবাড়ির ওই বধূ এবং অভিযুক্ত দুই ভাইকে সঙ্গে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বালিগঞ্জ পার্কের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযোগকারিণীর দু’টি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া পাসপোর্ট, একটি চালু পাসপোর্ট, আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং বেশ কিছু গয়না উদ্ধার করেছেন পুলিশকর্মীরা। জিনিসগুলি সবই অভিযোগকারিণী বধূ এবং তাঁর ছ’বছরের শিশুকন্যার। তার মধ্যে জামাকাপড় ছাড়াও রয়েছে বিপুল অঙ্কের গয়না। বাজেয়াপ্ত করা জিনিসপত্রের কয়েকটি অবশ্য অভিযোগকারিণীর নয় বলে তল্লাশির সময় জানান সেন পরিবারের সদস্যেরা। পুলিশ ‘সিজার লিস্ট’-এ লিখেছে, তল্লাশির সময় কোনটা কার জিনিস, তা বোঝা সম্ভব ছিল না। তাই সব কিছু বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। লালবাজারের এক কর্তা জানান, অভিযোগকারিণী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে সব কিছু চিহ্নিত করেছেন। 

গত ৩ জানুয়ারি বালিগঞ্জ পার্কের ওই সেন পরিবারের ছোট বৌ অভিযোগ আনেন, তাঁর স্বামী বিয়ের তিন বছর পর থেকে তাঁর উপর বিকৃত যৌন লালসা মেটাতেন এবং কন্যাসন্তান হওয়ায় ২৫ লক্ষ টাকা পণের দাবিতে নিয়মিত তাঁর উপরে অত্যাচার চালানো হত। অভিযোগ তাঁকে ধর্ষণ করেন ভাশুর। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সেই রাতেই দু’ভাইকে গ্রেফতার করে। ধৃতেরা পুলিশি হেফাজতে আছেন। আদালতের নির্দেশে বুধবার সন্ধ্যায় সেনবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার লালবাজারের এক কর্তা জানান, এই মামলার তদন্তে কড়েয়া থানাকে সাহায্য করছে লালবাজারের গোয়েন্দা দফতর। ওই বধূর অভিযোগ, ২০১৮ সালের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ায় বেড়াতে গিয়ে তাঁর স্বামী তাঁরই এক বান্ধবীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই সময় ঠিক কী হয়েছিল, তা জানার জন্য অস্ট্রেলিয়াবাসী তরুণীকে ই-মেলে প্রশ্নের তালিকা পাঠাচ্ছে লালবাজার।