শোকসভায় যোগ দিতে এসে তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারীর মন্তব্যে ছিল ইঙ্গিত। ওই মন্তব্যের পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযুক্তের লাগাতার অফলাইন থাকা নিয়ে জোরালো হচ্ছে জল্পনা। তা হলে কি সত্যি পুলিশের জালে পড়েছে কুরবান শা খুনের অন্যতম অভিযুক্ত আনিসুর রহমান! পুলিশ যদিও এ বিষয়ে খোলসা করে কিছু বলেনি।

বৃহস্পতিবার মাইশোরায় কুরবানের শোকসভায় এসেছিলেন শিশির অধিকারী। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘কুরবানের খুনি চিহ্নিত। সে পুলিশের জালের মধ্যেই রয়েছে। সঠিক সময়ে সমস্ত কিছু সামনে আসবে’। ওই বার্তার পর থেকেই ফেসবুকে অফলাইন আনিসুর। 

পুলিশ সূত্রের খবর, নবমীর দিন সন্ধ্যা সওয়া ৬টায় মেচগ্রাম ছাড়েন আনিসুর। তারপর থেকেই তিনি বেপাত্তা। বন্ধ হয়ে যায় তাঁর দুটি মোবাইল। যদিও নিজের মোবাইল বন্ধ থাকলেও ফেসবুক এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন আনিসুর। ৮ অক্টোবর রাতে কুরবানের পরিবার আনিসুর-সহ চার জনের নামে থানায় অভিযোগ দায়ের করে। এর পরে ১১ অক্টোবর আনিসুর হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভিডিয়ো বার্তা দেন।

আনিসুর নিজের ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে সক্রিয় ছিলেন এতদিন। ঘটনার দিন থেকে টানা ১০ দিন আধ-এক ঘণ্টা অন্তর তাঁকে ফেসবুকে সক্রিয় হতে দেখা যেত। তবে বৃহস্পতিবার শিশিরের মন্তব্যের পর থেকে পুরোপুরি অফলাইন  হয়ে যান আনিসুর। মাঝে শনিবার তাঁর মেসেঞ্জার কিছুক্ষণের জন্য অন হয়। এতেই মাইশোরা এলাকার একাংশ বাসিন্দারের মধ্যে জল্পনা, পুলিশ তাঁর ধারে কাছে পৌঁছে গিয়েছে বলেই কি আনিসুরের এই সাবধানী পদক্ষেপ?

এ নিয়ে পুলিশের অবশ্য মুখে কুলুপ। তবে তারা মানছে, ‘চোর-পুলিশ খেলায়’ তাদের একাংশকে কার্যত নাস্তানাবুদ করেছে আনিসুর। পুলিশ সূত্রের খবর, আনিসুর এই মুহূর্তে রাজ্যের বাইরে রয়েছেন। বারবার অবস্থান বদল করছেন। পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে আনিসুর বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ব্যক্তির মোবাইলে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে তা সক্রিয় রাখছেন। ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমেই মূলত ঘনিষ্ঠ মহলে তিনি যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। ফেসবুকের অবস্থান সন্ধানে সাইবার ক্রাইম টিমেরও সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। তবে ফেসবুকের অনলাইন স্ট্যাটাস বন্ধ রেখে আনিসুর সক্রিয় রয়েছেন কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ছুটে বেড়াতে নগদ টাকার প্রয়োজন। সে সব টাকা আনিসুর কীভাবে পাচ্ছেন? পুলিশ সূত্রের খবর, টাকার উৎস খুঁজতে তদন্তকারীরা আনিসুর ও তাঁর ঘনিষ্ঠদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনে নজর রাখছেন। এ দিকে, আনিসুরের পাশাপাশি ফেরার তাঁর ঘনিষ্ঠ আরও তিন অভিযুক্ত শেখ মুবারক, শেখ মুক্তার এবং জাকির হোসেন। ওই অভিযুক্তেরা আনিসুরের সঙ্গেই রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। 

কুরবান খুনের ঘটনায় শেখ খালেক আহমেদ নামে আনিসুর ঘনিষ্ঠ একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার খালেকের ছেলে শেখ উসিয়ার রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠায় পাঁশকুড়া থানার পুলিশ। উসিয়ার কেশাপাট গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। তবে এলাকায় তিনি আনিসুর ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত বলে দাবি স্থানীয়দের।

অন্যদিকে, কুরবানের মৃত্যুর পর মাইশোরায় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাঁর দাদা আফজল শা’কে। আফজলের সুরক্ষার জন্য শুক্রবার থেকে তাঁকে সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী দিয়েছে জেলা পুলিশ।