নির্বাচনে পরাজিত পুরুলিয়ার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ মৃগাঙ্ক মাহাতোর বিরুদ্ধে রবিবার সকালে পোস্টার পড়ল জেলা সদর শহরের বেশ কিছু এলাকায়। 

পোস্টারে প্রাক্তন সাংসদের ছবির তলায় লেখা ছিল ‘অহঙ্কারের পতন হল’। কারা কী উদ্দেশে এই পোস্টার দিয়েছে, তা নিয়ে ধন্দ ছড়িয়েছে এলাকায়। পরে তৃণমূল কর্মীরা পোস্টারগুলি ছিড়ে দেন। পেশায় চক্ষু চিকিৎসক মৃগাঙ্কবাবু বলেন, ‘‘আমি কেমন মানুষ, তা পুরুলিয়াবাসী জানেন। তাঁরাই এর বিচার করুক।’’ পোস্টার-কাণ্ডে তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ তির বিজেপির দিকে। বিজেপির শহর মণ্ডলের সভাপতি সত্যজিৎ অধিকারীর দাবি, ‘‘আমরা এমন নিচুস্তরের রাজনীতি করি না। এটা তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রকাশ।’’

পুরুলিয়া কেন্দ্রে দুই লক্ষ চার হাজার ৭৩২টি ভোটে ব্যবধানের বিজেপি প্রার্থী জ্যোতির্ময় সিং মাহাতোর কাছে পরাজিত হন মৃগাঙ্কবাবু। এই ফল নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে ও বাইরে তুমুল সমালোচনার ঝড় বইছে। হেরে যাওয়ার জন্য এক এক গোষ্ঠী এক একটি কারণ সামনে নিয়ে আসছে। কিন্তু পেশায় চক্ষু চিকিৎসক মৃগাঙ্কবাবুর মধ্যে অহঙ্কার রয়েছে, এমন কথা মানতে নারাজ দলের নেতা-কর্মীরা তো বটেই, সাধারণ মানুষের একাংশও। তাঁর বাবা সীতারাম মাহাতো অতীতে কংগ্রেসের মন্ত্রী ছিলেন। তৃণমূলের জন্মলগ্নে কংগ্রেস ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দেন। কিন্তু মৃগাঙ্কবাবু কোনওদিনই রাজনীতির অলিন্দে ছিলেন না। গত লোকসভা ভোটের টিকিট পাওয়ার পরেই তাঁর রাজনীতির ময়দানে পদার্পণ। 

এ দিন সকালে তাই পুরুলিয়া শহরের হাসপাতাল মোড় লাগোয়া সাহেববাঁধ রোড, ট্যাক্সিস্ট্যান্ড, রাঁচী রোড প্রভৃতি এলাকায় মৃগাঙ্কবাবুর বিরুদ্ধে পোস্টার পড়তে দেখে অনেকেই তাজ্জব হয়ে যান। তৃণমূলের জেলা যুবনেতা গৌতম রায় বলেন, ‘‘মৃগাঙ্কবাবু নিপাট ভদ্রলোক। তাঁর বদনামের চেষ্টা করা হলেও মানুষ তা বিশ্বাস করছেন না।’’ তৃণমূলের পুরুলিয়া শহর কমিটির সভাপতি বৈদ্যনাথ মণ্ডল অভিযোগ করেন, ‘‘এটা বিজেপির কাজ বলেই মনে হচ্ছে। এ ভাবে কুৎসা রটানো নিম্নরুচির পরিচয়।’’ বিজেপির অবশ্য অভিযোগ, তৃণমূল নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দল চাপা দিতেই বিজেপির দিকে আঙুল তুলছে।