সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও মঙ্গলবারই বিজেপি যুবনেত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মাকে মুক্তি না-দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করা ‘প্রাথমিক ভাবে স্বেচ্ছাচারপ্রসূত’ ছিল বলেও শীর্ষ আদালত মন্তব্য করল। 

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিকৃত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করে গ্রেফতার হওয়া প্রিয়াঙ্কা শর্মা বুধবার সকালে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট মঙ্গলবারই প্রিয়াঙ্কাকে জামিনে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু মুক্তি পাওয়ার পরেই তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছিল বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেঞ্চ। আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হতেই প্রিয়াঙ্কার আইনজীবী নীরজ কিষেণ কউল অভিযোগ তোলেন, আদালতের লিখিত নির্দেশ মেলেনি বলে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। কিন্তু রাজ্যের আইনজীবী আস্থা শর্মা জানান, ৯টা ৪০ মিনিটেই প্রিয়াঙ্কাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তার পরেও অসন্তুষ্ট বিচারপতি ইন্দিরা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, ‘‘আধ ঘণ্টার মধ্যেই ওঁকে ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। ছাড়া না-হলে আমরা আদালত অবমাননার নোটিস জারি করতাম। গ্রেফতারিটাই স্বেচ্ছাচারপ্রসূত ছিল বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হয়েছে।’’

প্রিয়াঙ্কার জামিন চেয়ে মঙ্গলবার তাঁর ভাই রাজীব শর্মা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়ার আগেই পুলিশ নিম্ন আদালতে ওই মামলা গুটিয়ে নেওয়ার রিপোর্ট জমা করে দিয়েছিল। ওই ‘ক্লোজার রিপোর্ট’-এ পুলিশ জানায়, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তাই আর কোনও পদক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। প্রিয়াঙ্কার আইনজীবী অভিযোগ তোলেন, মঙ্গলবার এই তথ্য সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়নি।

প্রিয়াঙ্কা মুক্তি পেলেও এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে চাইছেন বিজেপি নেতৃত্ব। ওই যুবনেত্রীকে মুক্তি দিলেও ক্ষমা চাইতে বলা নিয়ে প্রিয়াঙ্কার আইনজীবীদের আপত্তি রয়েছে। আজ কউল অভিযোগ তোলেন, প্রিয়াঙ্কাকে মুক্তির আগে ক্ষমাপ্রার্থনা করে লেখা চিঠিতে সই করতে বাধ্য করা হয়েছে। ওই ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠির খসড়া পুলিশ তৈরি করে রেখেছিল। প্রিয়াঙ্কার আইনজীবীদের পরিকল্পনা, সুপ্রিম কোর্টের ছুটির পর শুনানিতে রাজ্য সরকারের বাক্‌স্বাধীনতার অধিকারে হস্তক্ষেপের প্রশ্ন তোলা হবে। সুপ্রিম কোর্ট প্রিয়াঙ্কাকে ক্ষমাপ্রার্থনার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তা প্রত্যাহারের আর্জি জানানো হবে। পুলিশ নিজের তৈরি খসড়া চিঠিতে প্রিয়াঙ্কাকে সই করতে বাধ্য করার জন্য রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের হবে।

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯