পুলওয়ামা-কাণ্ডের জের গড়িয়েছে রাজস্থানে জয়পুরের জেলে। বাংলায় যাতে তেমন পরিস্থিতি তৈরি না-হয়, সেই জন্য আগেভাগেই সতর্ক হল কারা দফতর। তারা রাজ্যের জেলে পাকিস্তানি বন্দিদের নিরাপত্তা আঁটোসাঁটো করার নির্দেশ দিয়েছে। 

জয়পুরে বুধবার পাক পঞ্জাবের সিয়ালকোটের বাসিন্দা শাকরুল্লাকে বেধড়ক মারধর করে অন্য বন্দিরা। ওই পাক বন্দিকে বড় পাথর দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। বচসা শুরু হয়েছিল টিভি-র শব্দ বাড়ানো নিয়ে। তা মারধরে গড়ায়। তার পরেই পাক বন্দিদের নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানায় পাকিস্তান সরকার।

বুধবারের ঘটনার পরেই এ রাজ্যের পাক বন্দিদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য জেলগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কারা দফতর। বলা হয়েছে, প্রত্যেক পাক বন্দিকে সুর্নিদিষ্ট সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে রাখতে হবে। নির্দেশ পেয়েই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলিতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছেন জেল-কর্তৃপক্ষ। ওয়ার্ড থেকে বেরোনোর পরেও ওই সব বন্দির উপরে নজর রাখছেন জেলের রক্ষী ও আধিকারিকেরা। তবে এই বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি কারা দফতরের কর্তারা। এক কারাকর্তা বলেন, ‘‘এটা দফতরের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’’

কারা সূত্রের খবর, সব মিলিয়ে ১৮-১৯ পাকিস্তানি নাগরিক এ রাজ্যের বিভিন্ন জেলে রয়েছেন। দমদম সেন্ট্রাল জেলে আছেন ৭-৮ জন। বহরমপুর জেলে রয়েছেন ৪-৫ জন। অন্যান্য জেলে আরও কয়েক জন পাকিস্তানি বন্দি আছেন। পুলওয়ামার ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে ইতিমধ্যেই অসহিষ্ণুতার শিকার হতে হয়েছে অনেককে। নদিয়ার তাহেরপুরে কাশ্মীরি শাল বিক্রেতাকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কাশ্মীরিদের নিরাপত্তার বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।