ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বা বৈদ্যুতিন ভোটযন্ত্রের পরিবর্তে ব্যালট পেপারে ফেরার দাবি তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার তাঁরই শহর কলকাতায় দাঁড়িয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরার মন্তব্য, প্রোগ্রামিং কোনও ভাবেই বদলানো যায় না। বরং এর বিরুদ্ধে কিছু বললে ধরে নেওয়া যায় কারও অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে। ‘‘হেরে গেলেই মেশিনকে দোষ দেওয়া হয় কেন? এতে তো নির্বাচন কমিশন নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়,’’ বললেন অরোরা।

শহরের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। সেখানেই ইভিএম-কে ‘শংসাপত্র’ দিতে দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘যন্ত্রে ত্রুটি হতে পারে। তবে ত্রুটি আর কারচুপি সম্পূর্ণ পৃথক দু’টি বিষয়। ইভিএমের প্রোগ্রামিং কোনও ভাবেই বদলানো সম্ভব নয়। এর বিরুদ্ধে কিছু বললে ধরে নিতে হবে অপরাধমূলক উদ্দেশ্য রয়েছে। এই ধরনের অভিমতের নিন্দা করছি।’’

লোকসভা নির্বাচনের পর থেকেই ইভিএমের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। এই দফায় কলকাতায় এসেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়ে দিয়েছেন ব্যালট পেপার পুরোপুরি অতীত। তাঁরা পিছনে তাকানোর কথা ভাবছেনই না। তাঁর বক্তব্য, দৈনন্দিন জীবনে অন্যান্য যন্ত্রের মতো ইভিএমেও গোলযোগ হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের সর্বময় কর্তার দাবি, ইভিএমে কোনও ভাবেই কারচুপি করা যায় না। এ ক্ষেত্রে ইভিএম-কে কী ভাবে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রেখে তা প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা-ও তুলে ধরেন অরোরা। তাঁর কথায়, ‘‘কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানেই ইভিএম তৈরি হয়েছিল। যার দেখাশোনা করেছিল নামী সংস্থা।’’

ইভিএমের ‘বিশ্বাসযোগ্যতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেই বিরোধীদের অনেকে ব্যালট পেপারে ভোটের দাবি করছেন। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকেও ব্যালট ফেরানোর দাবি জানান তৃণমূল নেত্রী মমতা। তবে নির্বাচন কমিশন যে সেই সব দাবিতে কর্ণপাত করতে রাজি নয়, শুক্রবার শহরে এসেই তা জানিয়ে দিয়েছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। কমিশন মনে করে, নির্বাচন মানে এক দিকে সংবিধান ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা। অন্য দিকে প্রশাসন সামলানো। প্রত্যেক অংশেরই গুরুত্ব রয়েছে।